https://www.prothomalony.com/
18411
north-america
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:০২
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে একটি চলমান কেন্দ্রীয় অপরাধ তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের অনুমোদিত তল্লাশি পরোয়ানার ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ।
তবে তল্লাশির সুনির্দিষ্ট কারণ বা অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ইলহান ওমরের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্রে জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে এ তল্লাশি চালানো হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তার প্রয়াত বাবা শৈশবে এসব নথিপত্র পূরণ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর পক্ষে চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
তল্লাশির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইলহান ওমর অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, এসব প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাকে চুপ করানো যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র জানান, ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় অনুমোদিত তল্লাশি পরোয়ানার ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। এটি চলমান একটি কেন্দ্রীয় অপরাধ তদন্তের অংশ। ফক্স নিউজের প্রকাশ করা ভিডিওতে ওমরের বাড়ির বাইরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) সদস্যদের দেখা গেছে।
ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তল্লাশির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তদন্তের বিষয়টি বিচার বিভাগের এখতিয়ার। তবে ইলহান ওমর সম্পর্কে তিনি বলেন, তাকে সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ইলহান ওমরের পরিবারের অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন। এর মধ্যে তার সাবেক স্বামীকে অভিবাসনসংক্রান্ত সুবিধা পাইয়ে দিতে কথিত ভুয়া বিয়ের অভিযোগও রয়েছে। ওমর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার এবং নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শুরুর দাবিও তুলেছেন ট্রাম্পের সমর্থকেরা।
গত কয়েক মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা ওমরের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রসঙ্গ তুলেছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। তবে তল্লাশির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং তদন্তের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সোমালি বংশোদ্ভূত ইলহান ওমর ২০১৯ সালে কংগ্রেস সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি রাশিদা তালিবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম দুই মুসলিম নারীর একজন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি ট্রাম্প ও তার সমর্থকদের সমালোচনার মুখে রয়েছেন।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন