https://www.prothomalony.com/

18397

north-america

উত্তর আমেরিকা

আল-কায়েদার হুমকি: হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে মার্কিন বন্দীদের হত্যা করা হবে

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:২১

ফোর্ট হুডের সেনাঘাঁটিতে গণহত্যার দায়ে দণ্ডিত নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে মার্কিন নাগরিক ও সেনাদের হত্যা এবং বিমান ছিনতাইয়ের হুমকি দিয়েছে আল-কায়েদা ও তাদের সমর্থকেরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) আরব উপদ্বীপে আল-কায়েদা (এ কিউ এ পি) এক বিবৃতিতে জানায়, ৩ ডিসেম্বর দণ্ড কার্যকর হলে তাদের হাতে ধরা পড়া যেকোনো মার্কিন নাগরিককে হত্যা করা হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেদিন আমেরিকা এই সিদ্ধান্ত নেবে, সেদিন তারা এ সিদ্ধান্তও নেবে যে আল-কায়েদার হাতে বন্দী হওয়া যে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। এগজামিনারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোষ্ঠীটি হাসানের পক্ষে সমর্থনও জানিয়েছে। এ মাসে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমান আছড়ে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টায় জড়িত এক ওমানি হামলাকারীর পক্ষেও তারা সমর্থন জানায়।

এর কয়েক দিন আগে ইয়েমেনের এক আল-কায়েদা সমর্থক টেলিগ্রামে লিখেছিলেন, হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে মার্কিন বিমান ছিনতাই ও মার্কিন সেনা হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে। মিডল ইস্ট মিডিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (মেমরি) ৭ অক্টোবরের প্রতিবেদনে এ কথা আছে। তিনি টেনেছেন ২০১০ সালের মার্চে ওসামা বিন লাদেনের একটি হুঁশিয়ারি। সেখানে বিন লাদেন বলেছিলেন, ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার মূল পরিকল্পনাকারী খালিদ শেখ মোহাম্মদসহ আটক জঙ্গিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে মার্কিন সেনাদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

হাসান ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুডের সোলজার রেডিনেস প্রসেসিং সেন্টারে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা ও ৩২ জনকে আহত করেন। তিনি তখন সেনাবাহিনীর মনোরোগ চিকিৎসক ও মেজর ছিলেন। ২০১৩ সালের আগস্টে সামরিক আদালতের বিচারকমণ্ডলী তাঁকে পূর্বপরিকল্পিত খুনের ১৩টি ও খুনের চেষ্টার ৩২টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়। হামলার আগে ইয়েমেনভিত্তিক আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ ধর্মপ্রচারক আনোয়ার আল-আওলাকির সঙ্গে তাঁর ইমেইল চালাচালি হয়েছিল। আওলাকি পরে নিহত হন।

সেনা দপ্তরের বিবৃতি অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করেন। ৬ অক্টোবর ভারপ্রাপ্ত সেনাসচিব অ্যাডাম টেলি ৩ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় ফোর্ট হুডেই গুলি করে দণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেন। এটি হলে ১৯৬১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। আর গুলি করে মৃত্যুদণ্ড সামরিক বাহিনীতে শেষবার কার্যকর হয়েছিল ১৯৪৫ সালে।

নিরাপত্তা-উদ্বেগ বাড়ার আগেই বিতর্ক জমে উঠেছিল দণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি দেখানো নিয়ে। বৃহস্পতিবার যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ এক সাক্ষাৎকারে জানান, সবাই যাতে দেখতে পারেন, সে জন্য দণ্ড কার্যকর প্রকাশ্যে হবে। তাঁর ভাষ্য, ঠিক যে সময়ে হাসান হামলা চালিয়েছিলেন, সেই দুপুর ১টাতেই সেনারা রাইফেল হাতে দণ্ড কার্যকর করবেন। ঘোষণার পর রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট, দুই দলের আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকেই সমালোচনা এসেছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মার্ফি একে 'জঘন্য' বলেছেন। রিপাবলিকান সিনেটর জন কার্টিস হেগসেথকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। উপরাষ্ট্রপতি জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, সরাসরি সম্প্রচার আদৌ হবে কি না, তিনি নিশ্চিত নন, আর হলেও তিনি তা দেখবেন না। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী জাতিসংঘও একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে নিন্দা করেছে। আইন বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সেনা বিধিতে দণ্ড কার্যকরের সময় নাবালকদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ, অথচ অনলাইনে সম্প্রচার হলে তাদের দেখা ঠেকানো কঠিন হবে। হাসানকে কেউ কেউ 'শহীদ' হিসেবে দেখতে পারেন, এমন সতর্কবার্তাও এসেছে। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান সদস্য অ্যান্ডি ওগলস সম্প্রচারের সিদ্ধান্তকে 'চমৎকার' বলেছেন। ২০১৩ সালে ফোর্ট হুডের তৎকালীন অধিনায়ক হিসেবে যিনি হাসানের দণ্ড অনুমোদন করেছিলেন, সেই অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শন ম্যাকফারল্যান্ড একে ন্যায়বিচারের চেয়ে প্রতিশোধের কাজ বলে মন্তব্য করেছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান কিছুটা দোলাচলের। শুক্রবার সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন কি না, জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, অবশ্যই। একই দিনে আবার বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। শনিবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সামরিক বাহিনী কী চায়, তা তিনি জানেন, তবে সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন। তাঁর কথায়, দেখানো ও না-দেখানো, দুই পক্ষেই যুক্তি আছে। প্রকাশ্য সম্প্রচার ভবিষ্যতের হামলা ঠেকাতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। সোমবার যুদ্ধ দপ্তরের এক কর্মকর্তা এগজামিনারকে জানান, সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা বহাল আছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

আইনি লড়াইও বাকি। হাসানের আইনজীবীরা ফেডারেল আদালতে পুনর্বিবেচনা চাইতে পারেন বলে আইনবিশেষজ্ঞেরা বলছেন। সে ক্ষেত্রে দণ্ড কার্যকর পিছিয়ে যেতে পারে।

আল-কায়েদার নতুন হুমকি তাই বিতর্কটিতে জাতীয় নিরাপত্তার একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে গোষ্ঠীটির বিবৃতি বা সমর্থকের অনলাইন বার্তা, কোনোটিই প্রমাণ করে না যে হামলা আসন্ন। ফেডারেল কর্তৃপক্ষও প্রকাশ্যে জানায়নি যে এই হুমকির কারণে ৩ ডিসেম্বরের পরিকল্পনায় কোনো বদল আসছে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন