https://www.prothomalony.com/
18267
literature
জীবন্মৃত মানুষ
রুদ্র সাহাদাৎ
আগ্নেয়গিরির ফের অগ্ন্যুৎপাত
হৃদয়রাজ্য জুড়ে কেউ জানে না
পুড়ে ছাই জীবন কেউ বুঝে না
হতাশায় ডুবে যাচ্ছে মন ক্লান্ত যৌবন
পেয়ে হারানোর যন্ত্রনা চারদিক
পুড়ে যাচ্ছি- দিন দিন
কেউ দেখে না কোনো সময়
পুড়ে যাচ্ছে সবুজ পুড়ে যাচ্ছে অবুঝ
যান্ত্রিক যন্ত্রণায় জীবন্মৃত মানুষ...
নেশা
রু বে ল ম ণ্ড ল
আমাকে ঘুমাতে দিচ্ছে না কোনওমতেই। চিমটির পর
চড়— চড়ের পর চিমটি।
আমার হাত পা সর্বোপরি গোটা শরীর ভিজে যাচ্ছে ঘুমে।
সাপ সাপ— শাপ-ই বটে! চিমটির পর চড়— চড়ের পর চিমটি।
কোথায় সুস্পষ্ট দাগ? কোথায় গড়িয়ে পড়া রক্ত?
কোথায় গিয়েছিল
এই অবেলায়? বনে বনে... মধুর লোভে যে মরে তার তো
এ হাল হবেই!
সাপ সাপ। চিমটির পর চড়— চড়ের পর চিমটি।
আমাকে ঘুমাতে দিচ্ছে না, কোনওমতেই। এ যাত্রায়
ঠিক বাঁচিয়ে নেবে
ওঁরা। কোথায় নেবে তারপর— কোলে? বুকে?
চিমটির পর চড়, চড়ের পর চিমটি—
এভাবেই জাগিয়ে রাখো তবে। যতক্ষণ পারো।
আমি আরও বুঁদ হই
কাছের মানুষের খোঁজে
সৈয়দ নূরুল আলম
তোমার কাছে আমার আসাটা হঠাৎ ছিল না,
খাতার পর খাতা অঙ্ক কষার পরে সরল অঙ্কের
ফলাফল যখন মিলে গেল,
তখন বহুদিনের তৃষ্ণার পর হঠাৎ মনে হলো,
তুমি তো আছ, ছিলে।
অপেক্ষার নিঃশব্দ সমুদ্র-বালুতে
আমি—তোমারই নাম লিখে রেখেছিলাম।
আমি এলে—
তোমার অনুভূতিগুলো রঙিন প্রজাপতি হয়ে
উড়বে চারদিকে।
আর আমি—
সেই অচেনা রঙে ডুবে গিয়ে খুঁজব—
তোমার শৈশব-কৈশোর।
অনন্য বিরহ
গোলাম রববানী
আমি একদিন আষাঢ়-শ্রাবণ, আমি একদিন বৃষ্টি
তুমি আমি দুজনেই দয়াহীন মেঘ
তুমুল বজ্রপাতের আঘাতেই যেন বাজপড়া ক্ষত
আমি একদিন খরতাপে পোড়া, পোড়ামাটির ফলক
আমি একদিন ভীষণ ভীষণ তাপ দাহ
গা গতর শরীর ফেটে নেমে আসা চিরজ্যৈষ্ঠ
তুমি আমি দুজনেই চুপচাপ হিমালয়ের কোনো হিমবাহ
আমি একদিন চিরদিন চিরকাল অনন্য অনন্য
তোমার মনমহলের ফেটে পড়া অভিশাপে শাপে ধন্য
নিলাম বুকে জনম জনমের চিরঋণ, তুমিই বরেণ্য
তুমি আমি দুজন দুজনেই যেন চুপচাপ দুই পৃথিবীর
ভালো থেকো আমার এ কবিতায় তুমি মহীয়সী
তুমিই তো মহাকবি আমি আষাঢ়-শ্রাবণ-জ্যৈষ্ঠ হিমবাহ
শরৎ বসন্ত হেমন্তের সুখপাখি, গান গেয়ো বিরহের
টিপটিপ টুপটাপ পতনের ধ্বনি এখনো বাজছে কি হৃদয়ে?
ম্যানহোল
রাহেলা আক্তার
অতঃপর প্রাপ্তির খাতা ব্লক পড়ে
বুকের বাম পাঁজরে—
শুকিয়ে যায় লোহিত সাগর,
খরস্রোতা নামে প্রবাহিত হয় জীবন-নদী।
মাঝে মাঝে ঝড় ওঠে ব্যথার বালুচরে—
দীর্ঘশ্বাস ফেলে অপ্রাপ্তির হালখাতায়।
তবুও—
বেহায়া মন আত্মসমর্পণ করে
নিঃস্বার্থ, নির্মল প্রেমের পদতলে।
অথচ, বিষাক্ত ছোবলে দংশন করে
নীলাভ আত্মা, ফেলে দেয়
ম্যানহোলের ঢাকনা খুলে।
হিংস্রতার নকশি কাঁথা
শারমিন নাহার ঝর্ণা
বৈরী সুতোয় খুব সহজেই মানুষ এখন
সেলাই করছে হিংস্রতার নকশি কাঁথা।
চারদিকে অহরহ হিংস্রতার কারুকাজ,
মানবতা নিঃশব্দে হিংস্রতার নকশি কাঁথা গায়ে—
গভীর ঘুমে ধ্যানমগ্ন আছে।
সহানুভূতির সোনামুখো সুই এখন ভোঁতা,
স্বার্থের কাছে স্নেহ-মায়া যেন শূন্য কৌটো।
কোথায় হারিয়ে গেল সেই দিনগুলো?
মানুষের হৃদয়ে ছিল মায়া-মমতার পাহাড়
খুব সহজেই অন্যের ব্যথায় চোখে আসত জল,
মানুষ এখন সামুদ্রিক পাথর হয়ে গেছে,
হিংস্রতার নকশি কাঁথা গায়ে দিয়ে—
সহানুভূতির ঝর্ণা উপেক্ষা করে চলে।
বিবিধ মুরাকামিতা কিংবা এলিজাবেথ সংক্রান্ত প্রতিবেদন
কায়সার হেলাল
তোমরা মনুষ্য, আমরা বিড়াল, প্রভেদ কি?
(বিড়াল/বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
এলিজাবেথ যেদিন পিটার ক্যাট বারটা খুঁজে পেল হেমন্তের এক অদ্ভুত বিকেলে, জাফরান রঙের সূর্য তখন ঢাকা শহরের পুরনো দোতলা বাড়িগুলোর ছাদে এমনভাবে রোদ ছিটিয়ে দিচ্ছিল যে মনে হচ্ছিল কেউ যেন নরম ক্ষীরের বিছানা পেতেছে। আমি তখন সবেমাত্র চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। কী করব, কোথায় যাব জানি না। শুধু জানি এলিজাবেথ তিন মাস আগে চলে গেছে। নোটিশটা রেখে গিয়েছিল ফ্রিজের দরজায়, চুম্বক দিয়ে আটকানো। 'আমি নিজেকে খুঁজতে যাচ্ছি,' লিখেছিল সে। আর কিছু না।
সেদিন হাঁটছিলাম পুরান ঢাকার এক গলিতে, যেখানে আগে কখনো আসিনি। কীভাবে এ গলিতে পৌঁছালাম মনে নেই। পিটার ক্যাট লেখা সাইনবোর্ড পেরোতে গিয়ে মনে পড়ল এলিজাবেথ বোধহয় এই জ্যাজ বারটির কথা বলেছিল। ১৯৭৮ সাল থেকে খোলা। আমি থমকে দাঁড়ালাম। এলিজাবেথকে বিশ্বাস করিনি সেদিন। মুরাকামির আত্মজীবনী পড়েছিলাম সেই কবে। মনে পড়ে গেল, তিনিও তো একটা জ্যাজ বার চালাতেন এই নামে, টোকিওতে-প্রিয় বিড়ালের নামে। এলিই বইটি দিয়েছিল। আর তারও অনেক পরে সেই স্বতন্ত্র গোধূলির বর্ণনা করতে করতে দাবি করেছিল সে পিটার ক্যাট বারটি আবিষ্কার করেছে।
দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলাম। অন্ধকার, তবে আরামদায়ক আলোর মতো অনুভূতি। কোণায় একটা পুরনো রেকর্ড প্লেয়ারে ৯০ দশকের শিল্পী আদনান বাবুর গান বাজছে। 'চেয়ে থাকো কী বা নাই থাকো তুমি আধো খোলা জানালায়...'। কিন্তু এই গান এই সময়ে কী করে এল! ক্রমশ নস্টালজিয়া গ্রাস করল আমাকে। স্কুলে যাওয়া কিংবা ফেরার পথে জিপসি নামের এক মিউজিক বারে অনবরত বাজত গানটি।
এক-পায়া স্টিলের চেয়ারগুলো ফাঁকা। সারি সারি দামি-কমদামি বোতল জেল্লা ছড়াচ্ছে শেলফে। কাউন্টারের পেছনে কেউ নেই। ভেতরের টেবিলগুলোও ফাঁকা। শুধু একটা বিড়াল, সাদা-বাদামি ডোরাকাটা, কাউন্টারের উপর বসে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।'বসুন,' বিড়ালটা বলল। আমি চমকালাম না। হয়তো চমকানো উচিত ছিল। মুরাকামি অনেক পড়েছি, জীবনানন্দও। কথা বলা বিড়াল তাই খুব একটা অস্বাভাবিক মনে হলো না।
'তুমি পিটার?' জিজ্ঞেস করলাম।
'না,' বিড়ালটা বলল। 'পিটার অনেক আগে মারা গেছে। আমি তার সপ্তম প্রজন্মের নাতনি। নাম নোবরু। তবে এখানে নাম খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তুমি কী খাবে?'
আমি একটা চেয়ারে বসলাম। 'হুইস্কি। অন দ্য রকস।'
নোবরু কাউন্টারের পেছনে লাফ দিয়ে নামল। কীভাবে একটা বিড়াল হুইস্কি ঢালবে ভাবছিলাম, কিন্তু তার আগেই গ্লাসটা আমার সামনে এসে গেছে। পারফেক্ট। বরফের দুটো কিউব, হুইস্কি ঠিক পরিমাণমতো।
'তুমি কী খুঁজছ?' নোবরু কাউন্টারে আবার লাফিয়ে উঠে জিজ্ঞেস করল।
কিছু না,' বললাম। 'হাঁটছিলাম।
'মিথ্যা কথা। সবাই কিছু না কিছু খুঁজছে। তুমিও খুঁজছ। কী খুঁজছ সেটা হয়তো তুমি জানো না, কিন্তু খুঁজছ।'
আমি হুইস্কিতে চুমুক দিলাম। ঠান্ডা, তিক্ত, তৃপ্তিদায়ক
'এলিজাবেথ চলে গেছে,' শেষমেশ বললাম। 'তিন মাস আগে।'
'আর তুমি তাকে খুঁজছ?
'না। আমি জানি সে কোথায় আছে। অন্তত কোন শহরে আছে। কিন্তু যাচ্ছি না।'
'তাহলে কী খুঁজছ?'
'আমি নিজেকে খুঁজছি। নাকি তাকে? দুটোর কোনোটাই হয়তো না। হয়তো একটা বিড়াল খুঁজছি।'
নোবরু আমার দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকাল। 'তুমি জীবনানন্দ
পড়েছ?'
অবাক হলাম। 'হ্যাঁ।'
'বিড়াল কবিতাটা?'
'হ্যাঁ।' গম্ভীর গলায় আবৃত্তির সুরে বললাম, 'একবার তাকে দেখা যায়, একবার হারিয়ে যায় কোথায়।'
নোবরু একটু মৃদু ঘড়ঘড় করল, 'ঠিক ধরেছ। আমরা বিড়ালেরা এভাবেই থাকি। একবার আছি, একবার নেই। কিন্তু মানুষেরা বোঝে না যে, তারাও একইভাবে থাকে। তারা ভাবে তারা সবসময় আছে, একটা নির্দিষ্ট জায়গায়, একটা নির্দিষ্ট জীবনে। কিন্তু সেটা মিথ্যা।'
'শ্রোডিঙ্গারের বিড়ালের মতো?' বললাম।
নোবরু হাসল। 'হ্যাঁ। তবে শ্রোডিঙ্গার ভুল করেছিল একটা জায়গায়। সে ভেবেছিল বাক্স খুললেই বিড়াল একটা অবস্থায় চলে যাবে—হয় জীবিত, না হয় মৃত। কিন্তু সত্যি কথা হলো, বাক্স খোলার পরেও বিড়াল দুই অবস্থাতেই থাকে। শুধু মানুষ একটা অবস্থা দেখতে পায়। কিন্তু বিড়াল জানে, সে এখনো দুই জায়গায় আছে।'
আমি আরেকটা চুমুক দিলাম। রেকর্ড প্লেয়ারে এখন মহিনের ঘোড়াগুলি বাজছে। 'সংবিগ্ন পাখিকুল'। আমার প্রিয় ট্র্যাক। 'রানওয়ে জুড়ে পড়ে আছে শুধু কেউ নেই শূন্যতা...'
'তুমি কি জানো,' নোবরু বলল, 'এই মুহূর্তে তুমি তিনটা জায়গায় আছ? একটা জায়গায় তুমি এই বারে বসে আমার সঙ্গে কথা বলছ। আরেকটা জায়গায় তুমি তোমার ফ্ল্যাটে একা বসে আছ, জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে। আর তৃতীয় জায়গায় তুমি ট্রেনে চড়ে এলিজাবেথের শহরে যাচ্ছ।'
'তিনটাই কি সত্যি?'
'তিনটাই সমান সত্যি। তুমি শুধু একটা দেখতে পাচ্ছ। কিন্তু তুমি তিনটাতেই আছ।'
আমি গ্লাস শেষ করলাম। নোবরু আবার ভরিয়ে দিল। এবার লক্ষ করলাম, তার থাবা দেখা যাচ্ছে না। যেন সে বাতাসেই হুইস্কি ঢালছে।
'মুরাকামি,' বললাম, 'তিনি কি জীবনানন্দ পড়েছিলেন?'
'হয়তো পড়েছিলেন, হয়তো পড়েননি। কিন্তু সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। দুজনেই একই জিনিস দেখেছিলেন—আমাদের দেখেছিলেন। আমরা বিড়ালেরা সব জায়গায় আছি, সব সময়ে আছি। টোকিওতেও আছি, ঢাকাতেও আছি, বরিশালেও আছি। ১৯৫০ সালেও আছি, ১৯৭৮ সালেও আছি, ২০২৫ সালেও আছি। আমরা সীমানা মানি না। আমরা বাক্সের ভেতরে এবং বাইরে একসঙ্গে থাকি।'
'তুমি কি পিটার ক্যাট?' আবারও জিজ্ঞেস করলাম। ''মুরাকামির পিটার ক্যাট?'
'পিটার ক্যাট বলতে পারো, বলতে পারো নোবরু ওয়াতায়াও, যে হারিয়ে গিয়েছিল উইন্ড আপ বার্ড ক্রনিকলে। আমি সেই বিড়ালও যাকে জীবনানন্দ দেখেছিলেন হেমন্তের সন্ধ্যায়। আমি এলিজাবেথের পোষা বিড়ালও, যে মারা গিয়েছিল তোমাদের বিয়ের আগে।'
আমি চমকে উঠলাম। 'তুমি সেটা কীভাবে জানো?'
'আমি সব জানি। কারণ আমি সব জায়গায় আছি।'
রেকর্ড প্লেয়ার এখন 'হারিয়ে গেছি...' বাজাচ্ছে। আজম খান। বারের ভেতর হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে এল। নাকি এ আমার মনের ভ্রম?
'আমি যদি বাক্স খুলি?' বললাম। 'আমার সিদ্ধান্ত যদি আমিই নিই যে কোন জীবনে থাকব, তাহলে?
'তুমি সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না,' নোবরু বলল। 'সিদ্ধান্ত নেওয়া মানে একটা বাস্তবতা বেছে নেওয়া। কিন্তু তুমি একবার বেছে নিলেই বাকি বাস্তবতাগুলো মিলিয়ে যায়। তুমি আর কখনো জানতে পারবে না অন্য জীবনগুলো কেমন ছিল।'
'তাহলে আমি কী করব?
'কিছু করো না। শুধু থাকো। তিনটা জীবনেই থাকো। বাক্স খুলো না।'
আমি উঠে দাঁড়ালাম। মাথা ঘুরছিল একটু। 'আমার যেতে হবে।'
'কোথায়? কোন জীবনে?'
আমি জানতাম না কী বলব। দরজার দিকে হাঁটতে লাগলাম। পেছন থেকে নোবরুর গলা ভেসে এল।
'মনে রেখো। তুমি একবার আছ, একবার নেই। আমরা সবাই তাই। আমরা সবাই শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল।'
দরজা খুলে বাইরে বেরোলাম। গলিটা আগের মতোই, তবে সূর্য ডুবে গেছে। অন্ধকার। আমি পেছন ফিরে তাকালাম—বারটা নেই। শুধু একটা পুরনো বন্ধ দরজা, যার ওপর কোনো সাইনবোর্ড নেই।
আমি হাঁটতে শুরু করলাম। জানি না কোথায় যাচ্ছি। হয়তো ফ্ল্যাটে ফিরছি। হয়তো স্টেশনের দিকে যাচ্ছি। হয়তো আরেকটা বার খুঁজছি। তিনটাই হচ্ছে, একই সঙ্গে।
রাস্তার ধারে একটা বিড়াল দেখলাম। সাদা-বাদামি ডোরাকাটা। আমার দিকে তাকাল, তারপর অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। একবার দেখা গেল, পরক্ষণেই হারিয়ে গেল। এলিজাবেথ বিড়াল ভালোবাসত। ঘরভর্তি বিড়াল থাকার পরও সে সেই মৃত বিড়ালটির জন্য কাঁদত।
কোথাও একটা বিড়াল অন্ধকারকে ছোট ছোট বলের মতো থাবা দিয়ে লুফে নিচ্ছে আর সমস্ত পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন