https://www.prothomalony.com/

18228

new-york

নিউইয়র্ক

নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক ট্রেড ফেয়ার ও চেম্বার বিজনেস এক্সপো উদ্বোধন

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৪৬

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে পঞ্চম নিউইয়র্ক ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ফেয়ার অ্যান্ড চেম্বার অ্যানুয়াল বিজনেস এক্সপো ২০২৬। ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৯টায় বরো অব ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজের ১৯৯ চেম্বার্স স্ট্রিটের মিলনায়তনে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, প্রদর্শক, চেম্বার প্রতিনিধি ও পেশাজীবীরা অংশ নেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইউএস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, গ্রেটার নিউইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জ্যাফে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসনের প্রশাসক কেলি লফলার। তাঁদের বক্তব্যে ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশ, উদ্যোক্তা তৈরি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয় গুরুত্ব পায়।

কেলি লফলার তাঁর বক্তব্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও উদ্যোক্তাদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।

ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি আমেরিকানদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের কথা তুলে ধরেন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিক্ষা, ব্যবসা ও সমাজসেবায় সফল বাংলাদেশি আমেরিকানদের উদাহরণ হিসেবে ফজলুর রহমান খান, সালমান খান, জাওয়েদ করিম, ড. আবুল হুসাম, আবদুস সাত্তার খান, ড. এম জাহিদ হাসান ও সৈয়দ জাকি হোসাইনের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্বও তুলে ধরেন ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর একটি। একই সঙ্গে বাংলাদেশেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করে।

গ্রেটার নিউইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জ্যাফে তাঁর বক্তব্যে চেম্বারের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক এক্সপো আয়োজনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশ ইউএস চেম্বারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ছোট ও উদীয়মান ব্যবসার যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

মেলায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশি আমেরিকান ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভারত, চীন, নেপাল ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের উপস্থিতি ছিল। প্রদর্শনী ও সেমিনারের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়।

এক্সপোর অন্যতম প্রধান আয়োজন ছিল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বা ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিং কার্যক্রম। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়িক অংশীদার ও সেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সুযোগ পান অংশগ্রহণকারীরা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের পণ্য ও সেবা তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন বাজার, বিনিয়োগ, অংশীদারিত্ব ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করে।

মেলায় বিনিয়োগ, ব্যাংকিং, অর্থায়ন ও রেমিট্যান্স খাত নিয়ে গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট, ব্যাংকিং, ফাইন্যান্স অ্যান্ড রেমিট্যান্স ফোরাম ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কৌশলগত পণ্য সংগ্রহ ও সরবরাহব্যবস্থা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন অধিবেশন ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং অনুষ্ঠিত হয়।

এক্সপোর আরেকটি উল্লেখযোগ্য আয়োজন ছিল ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬। ব্যবসা, উদ্যোক্তা কার্যক্রম, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমাজসেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ছয়জনকে সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন নিউইয়র্কের মডার্ন প্যাকেজিং ইনকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সমাজসেবী সৈয়দ জাকি হোসাইন, অ্যাডভান্স ফার্মাসিউটিক্যাল ইনকের প্রতিষ্ঠাতা লিয়াকত হোসাইন, ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চেয়ারম্যান ও চ্যান্সেলর এবং পিপলএনটেকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুবকর হানিফ, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী হেলাল আহমেদ, জিএফবি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক ভূঁইয়া এবং ঢাকার প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আরিফুর রহমান।

এক্সপোতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও সেবা আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার সুযোগ পায়। একই সঙ্গে ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়িক অংশীদার, পেশাজীবী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়। আয়োজকদের আশা, এই যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্য ও ব্যবসার জন্য নতুন বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রদর্শনী, সেমিনার, ব্যবসায়িক বৈঠক, নেটওয়ার্কিং ও ম্যাচমেকিং কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কের এ আয়োজন বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন যোগাযোগ তৈরির ক্ষেত্র তৈরি করেছে। আয়োজকরা অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী, প্রদর্শক, স্পন্সর, অতিথি, চেম্বার প্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দর্শনার্থীদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন