https://www.prothomalony.com/

18225

new-york

নিউইয়র্ক

নির্মাণ থেকে মানবসেবা: তরুণ উদ্যোক্তা ফয়সাল আজিজের সফলতার গল্প

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৩০

নিউইয়র্ক শহরে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ নতুন কিছু গড়ার স্বপ্ন দেখেন। তবে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেন অল্পসংখ্যক মানুষই। মেধা, প্রজ্ঞা, নেতৃত্বগুণ ও দূরদর্শিতাকে কাজে লাগিয়ে দুই ভিন্ন অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা ফয়সাল আজিজ। যিনি একজন সফল হেলথকেয়ার এডমিনিস্ট্রেটর, বিজনেস এক্সিকিউটিভ এবং ইনফোস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রফেশনাল। তার পেশাগত জীবনের দুটি প্রধান ক্ষেত্র হোম হেলথ কেয়ার ইনফোস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট। ক্ষেত্র দুটি আলাদা হলেও তার লক্ষ্য একটাই, মানুষের জীবনকে আরও নিরাপদ, সুন্দর ও সম্মানজনক করে তোলা।

ফয়সাল আজিজের পেশাগত যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন এনওয়াই হোম কেয়ার। তিনি এই প্রতিষ্ঠানটির সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করার পর থেকেই এনওয়াই হোম কেয়ার দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকে। ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটি নিউইয়র্কের অসংখ্য মানুষের কাছে একটি পরিচিত ও বিশ্বস্ত হোম হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

ফয়সাল আজিজ বুঝতে পেরেছিলেন, নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন জায়গায় বসবাসকারী সাউথ এশিয়ান এবং সংখ্যালঘু কমিউনিটির অনেক প্রবীণ, অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল মানুষ প্রয়োজনীয় হোম কেয়ার সার্ভিস পেতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। ভাষাগত পার্থক্য, সংস্কৃতিগত দূরত্ব, স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব, ইন্সুরেন্স ও কেয়ার প্ল্যান-এর জটিলতা এবং নিজের প্রয়োজন সঠিকভাবে প্রকাশ করতে না পারা। এসব কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজন থাকার পরও যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তার লক্ষ্য ছিল এমন একটি হোম হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যেখানে একজন মানুষকে শুধু একটি ক্লায়েন্ট নাম্বার হিসেবে দেখা হবে না। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, বিশ্বাস, অনুভূতি এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই ভাবনা থেকেই ফয়সাল আজিজ এনওয়াই হোম কেয়ারে-এ একটি ভীন্নরকম মডেল গড়ে তুলেছেন। এই ব্যবস্থায় সেবা গ্রহণকারী মানুষ নিজের পরিচিত ভাষা ও সংস্কৃতির পরিবেশে প্রয়োজনীয় যত্ন ও সহায়তা পেতে পারেন।

ফয়সাল আজিজ শুধু একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেননি। তিনি এমন একটি সেবাব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন, যেখানে প্রফেশনাল-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানবিকতা, সম্মান ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা।

একটি মানবিক স্বপ্নকে সফল ও টেকসই প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া কখনোই সহজ নয়। ফয়সাল আজিজ আমেরিকার বড় ইন্সুরেন্স প্রোভাইডার এবং এমএলটিসি প্ল্যান-গুলোর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যাটেজিক রিলেশন তৈরি ও শক্তিশালী করেছেন। এসব সম্পর্কের মাধ্যমে ক্লায়েন্ট কেয়ার-এর জন্য প্রয়োজনীয় ফান্ডিং নিশ্চিত করা এবং আরও বেশি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

মানবসেবার এই যাত্রার পাশাপাশি ফয়সাল আজিজের নেতৃত্বের আরেকটি শক্তিশালী অধ্যায় হলো কনস্ট্রাকশন এবং ইনফোস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট। তিনি কোর কনস্ট্রাকশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সিইও।

তার নেতৃত্বে কোর কনস্ট্রাকশন ফেডারেল, স্টেট এবং সিটি এজেন্সির বিভিন্ন বড় গভমেন্ট কন্ট্রাক্ট অর্জন ও সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। তিনি প্রোকিউরমেন্ট থেকে প্রজেক্ট কম্প্লিশন পর্যন্ত বড় ইনফোস্ট্রাকচার প্রোজেক্ট-এর সম্পূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

ফয়সাল আজিজ এসব দায়িত্ব সফলভাবে পরিচালনা করে নির্ধারিত সময় ও বাজেটের মধ্যে বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প শেষ করার সক্ষমতা দেখিয়েছেন। তার নেতৃত্বে বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্প সরকারি স্থাপনা, পরিবহনব্যবস্থা ও নাগরিক সেবার উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে।

একদিকে এনওয়াই হোম কেয়ারের মাধ্যমে মানুষের ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন ফয়সাল আজিজ, অন্যদিকে কোর কনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে নাগরিক ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। দুটি খাতের কাজের ধরন আলাদা হলেও মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যকে তিনি নিজের কাজের কেন্দ্রে রাখার কথা বলেন।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এম আজিজের সন্তান ফয়সাল আজিজ নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠেন। তিনি হোফস্ট্রা ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসায়িক আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষা, ব্যবসায়িক জ্ঞান ও পেশাগত অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও সেবাখাতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।

ফয়সাল আজিজের কাছে নেতৃত্ব কেবল একটি পদ বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয় নয়। মানুষের প্রয়োজন বোঝা, সেই প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়াকেই তিনি নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেন। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই হেলথকেয়ার ও অবকাঠামো উন্নয়নের মতো দুটি ভিন্ন খাতে নিজের কাজকে এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। তার সামনে এখন আরও বড় পরিসরে কাজ করার লক্ষ্য। মানুষের জন্য সেবা, কর্মসংস্থান ও উন্নত অবকাঠামো তৈরির মাধ্যমে নিজের স্বপ্নকে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।
 

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন