https://www.prothomalony.com/

18031

new-york

নিউইয়র্ক

নিউ ইয়র্কে 'চিটাগাং এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা'-এর বার্ষিক বনভোজন ও চাটগাঁইয়া মিলনমেলা সম্পন্ন

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬ ০৫:১২

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীদের সর্ববৃহৎ ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন 'চিটাগাং এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা ইন্ক'-এর পারিবারিক উৎসব বার্ষিক বনভোজন ২৩শে আগস্ট (রবিবার) অত্যন্ত সফলভাবে ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। নিউইয়র্কের কুইন্সের ছায়াঘেরা ও মনোরম পরিবেশের জন্য বিখ্যাত ফ্লাশিং ম্যাডোস করোনা পার্ক (Meadow Lake)-এ দিনব্যাপী এই মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসের যান্ত্রিক জীবন থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে এই মেগা উৎসবের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি মাকসুদুল হক চৌধুরী,সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এম বিল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ হোসেন সিরাজী সকল প্রবাসী চট্টগ্রামবাসী, আমন্ত্রিত অতিথি এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতির জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। চট্টগ্রাম-৯ আসনের নব নির্বাচিত সাংসদ "আবু সুফিয়ান" অনুষ্ঠান উদ্ভোদন করেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও টাইটেল স্পনসর হিসেবে ছিলেন গোল্ডেন এজের প্রেসিডেন্ট ও সিইও শাহ নেওয়াজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী সহ আরো অনেকে।

চট্টগ্রাম-৯ আসনের নব নির্বাচিত সাংসদ "আবু সুফিয়ান" অনুষ্ঠান উদ্ভোদন করে চট্টগ্রামবাসীর স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতির জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
ট্রাস্টি বোর্ড, চেয়ারম্যান শাহজাহান সিরাজী, বলেন ঐক্যবদ্ধ সমিতির কোন বিকল্প নাই।
চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি মাকসুদুল হক চৌধুরী বলেন, আমি চট্টগ্রামবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ, এত সুন্দর একটি আয়োজনে সহযোগিতা করার জন্য। ভবিষ্যতে আরো সুন্দর করে, আর বড় পরিসরে এমন আয়োজনের চেষ্টা থাকবে।

সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এম বিল্লা উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা সুন্দর পরিবেশে বনভোজনের আয়োজনের চেষ্টা করেছি। আমাদের যদি কোন ভুলত্রুটি থাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। যারা এই পিকনিকে অংশ নিয়েছেন সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি গোল্ডেন এজের প্রেসিডেন্ট ও সিইও শাহ নেওয়াজ বলেন ,আমি বলব ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। সবাইকে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। আজকের এই আয়োজন প্রমাণ করে যে চিটাগাংবাসী ঐক্যবদ্ধ ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী। তিনি বলেন, আমেরিকা আসার পর থেকেই চিটাগাংবাসির সাথে আমার একটা সম্পর্ক রয়েছে। তাদের আজকের চমৎকার আয়োজন অসাধারণ ছিল।


চিটাগাং সমিতির অর্গানাইজিং সেক্রেটারি মোঃ ফরহাদ তার সোস্যাল মিডিয়ায় বনভোজনে সবাইকে আসার জন্য ধন্যবাদ জানান।
চট্টগ্রাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ সিরাজী বলেন, এই বনভোজন চট্টগ্রামবাসীর একটি মিলনমেলা।আমরা চাই ঐক্যবদ্ধভাবে এই সংগঠনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে।

পৃষ্ঠপোষক ও স্পন্সরবৃন্দ এবারের জমকালো আয়োজনের মূল পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন প্রবাসের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানসমূহ:
টাইটেল স্পন্সর: গোল্ডেন এজ হোম কেয়ার (উদ্যোক্তা শাহ নেওয়াজ)।গ্র্যান্ড স্পন্সর: প্রখ্যাত আইনজীবী অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী।প্লাটিনাম স্পন্সর: মোহাম্মদ শেখ ফরহাদ (ফরহাদ সিপিএ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস) সহ আরো অনেক।

অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল প্রবাসের বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পীদের নিয়ে সাজানো সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। চাটগাঁইয়া ঐতিহ্যবাহী মেজবানি খাবারের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথিরা চমৎকার গান ও আড্ডা উপভোগ করেন। এছাড়াও উপস্থিত সবার মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে বর্ণিল র্যাফেল ড্র। যেখানে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ছিল একটি দৃষ্টিনন্দন স্বর্ণের সেট, দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ছিল এয়ার টিকেট (নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক) এবং অন্যান্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের মধ্যে ছিল টিভি, ল্যাপটপ ও দামী স্মার্টফোন।

বনভোজন উদযাপন কমিটি ২০২৬
এই বৃহৎ উৎসব সফল করতে দিনরাত পরিশ্রম করেছেন 'বনভোজন উদযাপন কমিটি' ও বিভিন্ন উপকমিটির নেতৃবৃন্দ:আহ্বায়ক: মোঃ আইয়ুব আনছারী,যুগ্ম-আহ্বায়ক: মোহাম্মদ হারুন মিয়া এবং আক্তার উল আজম,প্রধান সমন্বয়কারী: মোহাম্মদ ফরহাদ,সমন্বয়কারী: নূরুস সোফা এবং মোহাম্মদ শাহ আলম,সদস্য সচিব: শিমুল বড়ুয়া,যুগ্ম-সদস্য সচিব: মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন (আতিক) এবং মোঃ এ ওদুদ,অর্থ উপকমিটি: সুমন উদ্দিন এবং তমাল কে চৌধুরী,অভ্যর্থনা ও আপ্যায়ন: মোহাম্মদ এস এম বিল্লাহ, আলী আকবর বাপ্পী এবং ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনায়: সুশান্ত দত্ত,ক্রীড়া পরিচালনায়: মোহাম্মদ জাহেদুল আজম (জাহেদ) এবং মোঃ শওকত আলী।

যাদের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ (সংগঠনের প্রাণপুরুষ ও আজীবন সদস্যবৃন্দ)
সংগঠনটি গড়ে তুলতে এবং এই আয়োজনে বিশেষ অবদানের জন্য সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও আজীবন সদস্যদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। তারা হলেন:শীর্ষ নেতৃবৃন্দ: মোঃ শাহজাহান সিরাজী (সাবেক সদস্য, ট্রাস্টি বোর্ড, বাংলাদেশ সোসাইটি), মেহেরুবর রহমান বাদল (সাবেক সাধারণ সম্পাদক), হাসান চৌধুরী (প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার), নুরুল আলম (নুরু) (সাবেক ট্রাস্টি ও উপদেষ্টা), আল জুবায়ের মানিক (প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক), সরোয়ার চৌধুরী সিপিএ (আজীবন সদস্য ও সাবেক সভাপতি), মোঃ আহসান হাবীব (আজীবন সদস্য ও সাবেক সভাপতি), মোঃ জসিম উদ্দিন (আজীবন সদস্য ও সাবেক উপদেষ্টা), শাহজাহান মাহমুদ (আজীবন সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক), মজিবুল হক (আজীবন সদস্য ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার), হাজী সফিকুল আলম (আজীবন সদস্য ও সাবেক উপদেষ্টা), আফসার উদ্দিন (আজীবন সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক), ডা. আতাউল ওসমানী (আজীবন সদস্য), সাইয়েদুল আলম (আজীবন সদস্য), নাসির উদ্দিন আহমেদ (প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বিশিষ্ট সমাজসেবক), আলহাজ্ব এম. এ. জাফর (আজীবন সদস্য ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার), মীর কাদের রাসেল (আজীবন সদস্য ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার), ইকবাল হোসেন (আজীবন সদস্য), একেএম মেজবাহ উদ্দিন (সাধারণ সম্পাদক, বাক), মহিউদ্দিন চৌধুরী খোকন (আজীবন সদস্য), আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া (আজীবন সদস্য), খোকন কে চৌধুরী (আজীবন সদস্য ও সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি), সরোয়ার আলম (কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট), আব্দুল হামিদ (কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট), এবং মোহাম্মদ দিদার (সাবেক দপ্তর সম্পাদক)।

সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও বিভিন্ন স্টেটের নেতৃবৃন্দ
এছাড়াও নিউ ইয়র্ক এবং এর পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন স্টেট থেকে এসে সার্বিক তত্ত্বাবধানে সহযোগিতা করেছেন একঝাঁক ডেডিকেটেড লিডার:নিউ ইয়র্ক (সার্বিক তত্ত্বাবধান): মোহাম্মদ শাহজাহান সিরাজী, মেহবুবর রহমান বাদল, হাসান চৌধুরী, আবুল কাসেম ভূঁইয়া, নুরুল আলম (নুরু), আহসান হাবীব, জসিম উদ্দীন, সরওয়ার জামান চৌধুরী, একেএম ওয়াহিদী, শাহজাহান মাহমুদ, আল জোবায়ের মানিক, আফসার উদ্দিন, আলহাজ্ব এম এ জাফর, হাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম, মজিবুল হক, নুরুল আজিম, মীর কাদের রাসেল, মফিজুল আহমেদ, আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া, আব্দুল কাসেম, আব্দুল হামিদ, ইকবাল হোসেন, সরওয়ার আলম, নবী হোসেন, একেএম মেজবাহ উদ্দিন, মনজুরুল আলম, মোহাম্মদ জাফর চৌধুরী, মুহাম্মদ দিদার, মহিউদ্দীন চৌধুরী খোকন, সাধন কর, জয়নাল আবেদীন জাহাঙ্গীর, বাবু মনোরঞ্জন, খোরশেদ আলম, আব্দুল মান্নান, জয়নাল আবেদীন, মো: হারুনুর রশীদ, আবুল হালীম, মো: সেলিম, মোহাম্মদ আলী নূর, মোহাম্মদ ইয়াসিন, মোহাম্মদ আকতার হোসেন, মোহাম্মদ আলী, এরশাদ চৌধুরী, মুরাদ চৌধুরী, মোহাম্মদ হোসেন, মোহাম্মদ ইকবাল, রিদুয়ানুল হক, হাফিজ উদ্দিন, গোলাম মওলা, সমিরুল হক বাবুল, মোহাম্মদ শফি, খায়রুল বাসার, নওশের চৌধুরী, হাবিবুর রহমান (হ্যামন্ডন, কানেকটিকাট), অমল বিকাশ বড়ুয়া, শিশির বড়ুয়া, প্রণমেশ বড়ুয়া, বাবু মং, সজল বড়ুয়া, সুমিত বড়ুয়া, সঞ্জীব বড়ুয়া, সুজয় বড়ুয়া, প্রসেনজিৎ বড়ুয়া, অভিজিৎ বড়ুয়া, উজ্জ্বল বড়ুয়া এবং সজল বড়ুয়া।নিউ জার্সি টিম: আবদুর রফিক, দিনার চৌধুরী, মোহাম্মদ সরওয়ার, মো: এনাম, কাউসার চৌধুরী, মুজিবুল হক, আনিস মাহমুদ, মোহাম্মদ সেলিম, হাফেজ মোহাম্মদ ইদ্রীস, বুলবুল চৌধুরী, মুন্তাসির বিল্লাহ, কাজী জোবায়ের এবং ফয়েজ আলম।স্ট্যামফোর্ড কানেকটিকাট টিম: মোহাম্মদ জামান, মোহাম্মদ ছালাম নূর, নুরুল হক, জামাল উদ্দিন, জাফর সালেহ, সেলিম জামান, মোস্তাক জামান, মোহাম্মদ জসিম এবং ইমরান রহিম।ব্রিজপোর্ট কানেকটিকাট টিম: এম শওকত হোসেন চৌধুরী, এম জাসমুল আলম জাসু, আরিফ এম জোবায়ের, ইহসান খসরু এবং মোজার আহমেদ।ফিলাডেলফিয়া টিম: মেয়র মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, এনাম চৌধুরী, মঈনউদ্দীন, গিয়াস উদ্দিন, জাহেদ চৌধুরী, ফেরদৌস হাসান (সাবেক কাউন্সিলর)।

দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মেজবানি চাটগাঁইয়া খাবার, চমৎকার খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রবাসীদের মিলনমেলার মাধ্যমে এই বনভোজনটি আমেরিকার বুকে এক টুকরো চট্টগ্রাম হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই আয়োজন প্রমাণ করেছে—প্রবাসে থেকেও ঐক্য, সংস্কৃতি ও মানবতার বন্ধন অটুট থাকলে একটি কমিউনিটি আরও শক্তিশালী, আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠতে পারে।

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন