https://www.prothomalony.com/
17924
north-america
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ০৩:৩৬
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এই মাসের শেষেই দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিভিটকে তাঁর "সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীদের একজন" আখ্যা দিয়ে লেখেন, পরিবার ও সন্তানদের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা তিনি "পুরোপুরি বোঝেন ও শ্রদ্ধা করেন" বলে জানান।
২৮ বছর বয়সী লিভিট এক্স-এ দেওয়া দীর্ঘ এক বিবৃতিতে লেখেন, গত দেড় বছর হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করাটা ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। মে মাসে দ্বিতীয় সন্তান, কন্যা ভিভিয়ানার জন্মের পর মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে গত মাসেই তিনি কাজে ফিরেছিলেন। তবে বিবৃতিতে তিনি খোলাখুলি স্বীকার করেন, "মেয়ের জন্মের পর হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই আমি অন্তর থেকে অনুভব করছিলাম, প্রেস সেক্রেটারি পদের যে অবিরাম সময়, শক্তি ও মনোযোগ দাবি করে, তা দিতে গেলে আমি আমার দুই সন্তানের প্রাপ্য সেরা মা হতে পারব না — আর সে কারণেই শেষ পর্যন্ত এই তিক্ত-মধুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সহকারী প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করা লিভিট ছিলেন ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারের প্রধান মুখপাত্র। দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই তিনি প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্বে আছেন — যা তাঁকে এই পদে সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। ট্রাম্প তাঁর প্রশংসায় লেখেন, "ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য লড়াইয়ে ক্যারোলিন সত্যিকারের একজন নেতা হিসেবে কাজ করেছেন... তিনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি।" পদত্যাগের পরও লিভিট তাঁর "শীর্ষ বহিরাগত উপদেষ্টাদের একজন" হিসেবে কাজ করে যাবেন এবং রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হয়ে থাকবেন বলে জানান ট্রাম্প, বিশেষ করে সামনের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে।
লিভিটের এই বিদায় ট্রাম্প প্রশাসনে এ বছর শীর্ষপদ থেকে সরে যাওয়া পঞ্চম নারীর ঘটনা। এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম, শ্রম সেক্রেটারি লরি চাভেজ-ডিরেমার ও জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড একই পথ ধরেছিলেন। প্রত্যেকের জায়গাতেই পরবর্তীতে পুরুষদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
কে হতে যাচ্ছেন পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি, তা নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি — ট্রাম্প নিজেও তাঁর বিবৃতিতে উত্তরসূরির নাম উল্লেখ করেননি। তবে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যে জল্পনা শুরু হয়ে গেছে বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীকে ঘিরে। সবচেয়ে প্রচলিত ধারার পছন্দ হিসেবে আলোচনায় আছেন হ্যারিসন ফিল্ডস, যিনি বর্তমানে হোয়াইট হাউসের প্রিন্সিপাল ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করছেন। তাঁকে পদোন্নতি দিলে ব্রিফিং কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। একই পদে থাকা আরেকজন, ২৯ বছর বয়সী আনা কেলিও আলোচনায় আছেন। সাবেক এই "বিউটি কুইন" ট্রাম্পের ২০২৪ সালের প্রচারাভিযানে মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছিলেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে টেলিভিশন-রেডিওতে হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধিত্ব বাড়িয়েছেন। এ ছাড়া নাম উঠে আসছে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সাবেক আইনজীবী অ্যালিনা হাবার এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি পিট হেগসেথের শীর্ষ জনসংযোগ উপদেষ্টা শন পারনেলেরও। যদিও এই নামগুলো এখনো নিছক জল্পনার পর্যায়েই আছে, কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয়।
উল্লেখ্য, মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকার সময় হোয়াইট হাউস লিভিটের বদলে কোনো ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি নিয়োগ দেয়নি। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের মতো প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা পালাক্রমে সংবাদ ব্রিফিং করেছিলেন। যা থেকে কেউ কেউ মনে করছেন, ট্রাম্প হয়তো এবারও প্রথাগত পথে না গিয়ে ভিন্ন কোনো কাঠামো বেছে নিতে পারেন।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন