https://www.prothomalony.com/

17923

north-america

উত্তর আমেরিকা

বিল গেটসের মেয়ের স্টার্টআপ ঘিরে 'কুকি স্টাফিং' বিতর্ক

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ০৩:৩১

মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের ২৩ বছর বয়সী মেয়ে ফোবি গেটসের প্রতিষ্ঠিত শপিং স্টার্টআপ ফিয়া নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছে। ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি "কুকি স্টাফিং" নামের একটি বিতর্কিত পদ্ধতি ব্যবহার করে এমন অনেক বিক্রির জন্য কমিশন দাবি করেছে, যেগুলোতে তাদের অ্যাপের আদতে কোনো ভূমিকাই ছিল না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হলো, প্রতিষ্ঠানের দুই প্রতিষ্ঠাতা ফোবি গেটস ও সোফিয়া কিয়ানি বিষয়টি সম্পর্কে মাসের পর মাস ধরে অবগত ছিলেন।

স্ট্যানফোর্ডের সাবেক সহপাঠী গেটস ও কিয়ানির যৌথভাবে গড়া ফিয়া মূলত একটি ব্রাউজার এক্সটেনশন, যা গ্রাহকদের বিভিন্ন অনলাইন রিটেইলারের মধ্যে দাম তুলনা করে সবচেয়ে ভালো ছাড় খুঁজে দেয়। কেউ যখন ফিয়ার মাধ্যমে কোনো কুপন কোড ব্যবহার করেন, তখন সংশ্লিষ্ট রিটেইলারের ওয়েবসাইটে একটি "কুকি" বসিয়ে দেওয়া হয়, যা প্রমাণ করে বিক্রিটা ফিয়ার মাধ্যমেই হয়েছে এবং এর বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি কমিশন পায়। কিন্তু ব্লুমবার্গের অভ্যন্তরীণ স্ল্যাক বার্তা ও একাধিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, গ্রাহক আদৌ কোনো কুপন ব্যবহার না করলেও নাইকি, গ্যাপ ও নর্ডস্ট্রমের মতো বড় বড় রিটেইলারের ওয়েবসাইটে ফিয়া কুকি বসিয়ে দিত। অন্তত গত ডিসেম্বর থেকেই এই চর্চা চলছিল বলে দাবি।

জুলাই মাসে যখন প্রথম এই অভিযোগ সামনে আসে, তখন ফিয়ার একজন মুখপাত্র দাবি করেছিলেন, বিষয়টি একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং ব্লুমবার্গ যোগাযোগ করার পরই তারা এ সম্পর্কে জানতে পারে। কিন্তু ব্লুমবার্গের নতুন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি নিছক কোনো বাগ নয় বরং একটি সুনির্দিষ্ট ফিচার ছিল। যা প্রয়োজনমতো চালু-বন্ধ করা যেত। ফাঁস হওয়া স্ল্যাক বার্তায় দেখা যায়, গত ডিসেম্বরে গেটস নিজেই প্রকৌশলীদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, এটসি প্ল্যাটফর্মেও সব ওয়েবসাইটে কুপনভিত্তিক কুকি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বসছে কি না। যাতে মোট বিক্রয়মূল্যের ওপরই কমিশন আদায় করা যায়। অন্যদিকে কিয়ানি একবার এমন একটি ফিচারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যাতে ব্যবহারকারী স্রেফ ফিয়ার পপ-আপ বন্ধ করার চেষ্টা করলেও কুকি বসে যায়। যদিও গুগল ক্রোমের নীতিমালায় এভাবে কুকি বসানো নিষিদ্ধ বলে সহকর্মীরা তাঁকে জানানোর পর তিনি তা মেনে নেন। ফিয়ার একজন মুখপাত্র অবশ্য ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, এই নির্দিষ্ট ফিচারটি বাস্তবে কখনো চালুই করা হয়নি।

এই কুকি স্টাফিংয়ের প্রভাব প্রতিষ্ঠানের রাজস্বেও স্পষ্ট। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনে ফিয়া যে পণ্যমূল্যের জন্য কৃতিত্ব দাবি করেছিল, তার প্রায় ৫১ শতাংশই এসেছিল এই কুকি স্টাফিং থেকে। জুলাইয়ে এই ফিচার বন্ধ করার পর প্রতিষ্ঠানের দৈনিক গড় আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার থেকে নেমে দাঁড়ায় ১০ থেকে ২৮ হাজার ডলারে। যদিও ফিয়ার মুখপাত্রের দাবি, এই পতনের একটা বড় অংশ কুকি স্টাফিং বন্ধ করার পাশাপাশি অন্যান্য আয়ের উৎসও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কারণে হয়েছে, আর ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণ কিছুটা অতিরঞ্জিত।

হেইলি বিবার, ক্রিস জেনার ও স্প্যাংক্সের প্রতিষ্ঠাতা সারা ব্লেকলির মতো বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২০২৫ সালে ৩ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছিল ফিয়া। কিন্তু এই বিতর্কের জেরে ইতিমধ্যে তাদের একটি অ্যাফিলিয়েট অংশীদার ইমপ্যাক্ট.কম প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্ক সংযোগ স্থগিত করে দিয়েছে এবং গেটসের প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত কমিশনও অন্যত্র পুনর্বণ্টন করেছে। আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে "কুকি স্টাফিং"-কে সাধারণত ফেডারেল ওয়্যার ফ্রড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যার সর্বোচ্চ সাজা হতে পারে ২০ বছরের কারাদণ্ড। তবে এখন পর্যন্ত এই অভিযোগে ফিয়া বা এর প্রতিষ্ঠাতাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যবস্থা কিংবা ফৌজদারি অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের হয়নি। ইমপ্যাক্ট.কমের সংযোগ স্থগিতাদেশই এখন পর্যন্ত একমাত্র বাস্তব পরিণতি। ফিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা প্রতিটি লেনদেন পর্যালোচনা করছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশীদারদের কমিশন ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে একজন কমপ্লায়েন্স প্রধান নিয়োগ দিচ্ছে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন