https://www.prothomalony.com/
17920
north-america
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কাগজের ফর্ম, ডাকের খাম ও লকবক্সে আবেদন জমা দেওয়ার প্রচলন ধীরে ধীরে কমে আসছে। নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন আবেদন ভবিষ্যতে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে জমা দেওয়ার পথ খুলে দিয়েছে নতুন একটি ফেডারেল বিধি।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এ বিষয়ে একটি অন্তর্বর্তী চূড়ান্ত বিধি জারি করেছে। বিধিটি ১১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে এখনই সব ধরনের অভিবাসন আবেদন অনলাইনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে।
ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিধি অনুযায়ী, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কিছু ফর্মের ক্ষেত্রে অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করতে পারবে। এ জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। বিধি নিয়ে জনমত দেওয়ার সুযোগ রয়েছে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত।
নতুন বিধিতে বলা হয়েছে, কোনো ফর্ম অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ চালুর পর অন্তত ১৮০ দিন না পেরোনো পর্যন্ত সেটিকে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে নেওয়া যাবে না। পাশাপাশি, কোনো ফর্মে অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করার আগে ইউএসসিআইএসকে অন্তত ৬০ দিনের নোটিশ দিতে হবে।
অর্থাৎ, নতুন বিধি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট অভিবাসন ফর্মকে কেবল অনলাইনে সীমাবদ্ধ করছে না। বরং ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটি কাঠামো তৈরি করছে।
বর্তমানে ইউএসসিআইএসের ২২টি ফর্ম অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নাগরিকত্বের আবেদন এন-৪০০, গ্রিন কার্ড প্রতিস্থাপনের আই-৯০, পারিবারিক অভিবাসন আবেদন আই-১৩০, ভ্রমণ নথির আই-১৩১, স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আই-৪৮৫ এবং কর্মসংস্থান অনুমোদনের আই-৭৬৫।
এ তালিকায় আরও রয়েছে অস্থায়ী সুরক্ষিত মর্যাদার আবেদন আই-৮২১, ডিএসিএ-সংক্রান্ত আই-৮২১ডি, আশ্রয়ের আবেদন আই-৫৮৯ এবং নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনের আই-১২৯।
ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব অনলাইন-সক্ষম ফর্মের মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশ ব্যক্তিগত আবেদনকারী স্বেচ্ছায় অনলাইনে আবেদন করেছেন। আইনজীবী ও স্বীকৃত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দাখিল করা আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যবহারের হার ছিল ৬ শতাংশের কম।
ডিএইচএসের যুক্তি মূলত প্রশাসনিক দক্ষতা ও ব্যয় কমানোর ওপর ভিত্তি করে। সংস্থাটির মতে, কাগজভিত্তিক আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণে শারীরিক লকবক্স ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগে।
ডিএইচএসের হিসাবে, ২০২৫ অর্থবছরে ইউএসসিআইএস ১০ লাখের বেশি কাগজভিত্তিক আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। এর প্রায় এক-চতুর্থাংশ প্রত্যাখ্যানের কারণ ছিল ফি-সংক্রান্ত ভুল।
সংস্থাটির মতে, ডিজিটাল ব্যবস্থায় আবেদন প্রক্রিয়াকরণ দ্রুত করা সম্ভব। একই সঙ্গে পরিচয় যাচাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য জালিয়াতি শনাক্ত করাও সহজ হবে। অনলাইন অ্যাকাউন্টে দ্বি-স্তরীয় যাচাইকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্যের নিরাপত্তা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
তবে অনলাইননির্ভর এই ব্যবস্থার সঙ্গে উদ্বেগও রয়েছে।
বিশেষ করে প্রবীণ, স্বল্প আয়ের মানুষ এবং সীমিত ডিজিটাল দক্ষতার অভিবাসীদের জন্য অনলাইন আবেদন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। যাদের নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ নেই কিংবা প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত নন, তাঁদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি জটিল হয়ে উঠতে পারে।
নতুন বিধিতে এ ধরনের আবেদনকারীদের জন্য অব্যাহতির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে নতুন একটি ফর্ম, আই-৯৩৬, চালুর কথা বলা হয়েছে। অব্যাহতির আবেদন করতে ২৫ ডলার ফি দিতে হবে।
ইউএসসিআইএস অব্যাহতির আবেদন বিবেচনার সময় আবেদনকারীর ভৌগোলিক অবস্থান, আর্থসামাজিক পরিস্থিতি এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করবে।
তবে শুধু ইন্টারনেট সংযোগ না থাকা কিংবা অনলাইন ব্যবস্থার সঙ্গে অপরিচিত হওয়া অব্যাহতি পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। আবেদনকারীকে ব্যাখ্যা করতে হবে কেন তিনি লাইব্রেরি, কমিউনিটি সেন্টার, পরিবারের সদস্য বা পরিচিত কারও সহায়তা নিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে পারছেন না।
ভবিষ্যতে যেসব ফর্মে অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করা হবে, সেসব ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ফর্ম পূরণ করতে হবে। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পূরণ করা পিডিএফ ফর্ম ও প্রয়োজনীয় নথিও অনলাইনে আপলোড করার সুযোগ থাকতে পারে।
নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ফর্ম কাগজে পাঠালে সেটি গ্রহণ করা হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফলে কোন ফর্মে কখন অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক হচ্ছে, সে বিষয়ে ইউএসসিআইএসের নোটিশ নিয়মিত দেখা অভিবাসীদের জন্য জরুরি হবে।
এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বৃহত্তর ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ। সরকারি বিভিন্ন সেবা ধীরে ধীরে কাগজের আবেদন থেকে অনলাইন ব্যবস্থায় চলে যাচ্ছে। অভিবাসন ব্যবস্থাতেও সেই পরিবর্তনের প্রভাব এখন আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
তবে দক্ষতার সঙ্গে প্রবেশগম্যতার ভারসাম্য রাখা হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
নিউইয়র্কের কোনো বাংলাদেশি পরিবারের প্রবীণ সদস্যের গ্রিন কার্ড নবায়ন থেকে শুরু করে নতুন অভিবাসীর কর্মসংস্থান অনুমোদনের আবেদন—যে কোনো ক্ষেত্রেই ভবিষ্যতের পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন বিধি এখনই সব কাগজের আবেদন বন্ধ করছে না। তবে এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় কাগজের ফাইলের যুগ ধীরে ধীরে শেষের দিকে এগোচ্ছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন