https://www.prothomalony.com/

17818

north-america

উত্তর আমেরিকা

চালু থাকা "ভিসা বন্ড" স্থায়ী হচ্ছেঃ সর্বোচ্চ বন্ড ২০ হাজার ডলার

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ ০২:৫৮

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে এ কঠোর অধ্যায়টি স্থায়ী রূপ পেতে চলেছে। এই অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র বাংলাদেশ নিজেই। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পঞ্চাশটি দেশের নাগরিকদের জন্য চালু থাকা "ভিসা বন্ড" কর্মসূচি এখন থেকে আর পরীক্ষামূলক নয়। বরং স্থায়ী নীতি হিসেবে বলবৎ হচ্ছে। ৩১ জুলাই শুক্রবার ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রায় এক বছরের পর্যালোচনায় "যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ" মিলেছে যা প্রমাণ করে এই বন্ড-ব্যবস্থা ভিসার শর্ত মেনে চলাকে কার্যকরভাবে নিশ্চিত করছে।   সোমবার থেকেই কর্মসূচিটি চিরস্থায়ী রূপ নেয়ার কথা।
শুধু স্থায়ীকরণেই থেমে নেই ওয়াশিংটন। জামানতের অঙ্কও বাড়ানো হয়েছে যথেষ্ট রকম। পরীক্ষামূলক পর্বে সর্বোচ্চ পনেরো হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত রাখার নিয়ম ছিল। বিবেচনার ভিত্তিতে পাঁচ বা দশ হাজার ডলারেও রফা হতো। এখন সেই সর্বনিম্ন পাঁচ হাজারের বিকল্পটিই তুলে দেওয়া হয়েছে, আর সর্বোচ্চ সীমা গিয়ে ঠেকেছে বিশ হাজার ডলারে। অর্থাৎ ভ্রমণ বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে আমেরিকা প্রবেশে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে সাক্ষাৎকারের আগেই পকেটে রাখতে হবে এমন এক অঙ্কের অর্থ, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের বছরের পর বছরের সঞ্চয়ের সমান।

বাংলাদেশ অবশ্য এই তালিকায় নতুন কোনো নাম নয়। চলতি বছরের একুশে জানুয়ারি থেকেই বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য এই বন্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে। ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসা, যা বি১ ও বি২ নামে পরিচিত, তার আবেদনকারীদের জন্যই এই শর্ত প্রযোজ্য। ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে কিংবা শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ে দেশ ছাড়লে জামানতের পুরো অর্থ ফেরত পাওয়ার কথা বলা হলেও, বাস্তবে এই প্রতিশ্রুতি কতটা নির্ভরযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বিশেষত যাদের কাছে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যাংকে জমা রাখাই একটি বড় আর্থিক ঝুঁকি।
পরিসংখ্যান বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতি তার লক্ষ্য পূরণে মোটামুটি সফল, অন্তত সরকারি হিসাবে। ২০২৪ সালে এই পঞ্চাশ দেশ থেকে প্রায় পঁয়তাল্লিশ হাজার পাঁচশ ভ্রমণকারী ভিসার মেয়াদ পার করেও দেশে থেকে গিয়েছিলেন। অথচ পরীক্ষামূলক কর্মসূচির প্রথম দশ মাসে এই সংখ্যা নেমে এসেছে পঞ্চাশেরও কম।একটি পরিসংখ্যান, যা পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা গর্বভরে তুলে ধরছেন সাফল্যের প্রমাণ হিসেবে। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে আরেক বাস্তবতা। প্রাথমিক প্রাক্কলনে ধারণা করা হয়েছিল, বছরে হয়তো দুই হাজার আবেদনকারী এই বন্ডের আওতায় পড়বেন। বাস্তবে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় বিশ হাজারে—দশগুণ বেশি। এদের প্রায় অর্ধেকই শেষ পর্যন্ত জামানত দিতে রাজি হননি, ফলে এই দেশগুলো থেকে ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসা ইস্যুর সংখ্যা কমেছে তিরাশি শতাংশ।
এই পরিসংখ্যানের পেছনের গল্পটা বোঝা কঠিন নয়। যে পরিবার সন্তানের বিয়েতে আমেরিকাপ্রবাসী আত্মীয়কে দাওয়াত করতে চায়, কিংবা যে ব্যবসায়ী নিউইয়র্কে একটি বাণিজ্য মেলায় অংশ নিতে চান, তার কাছে বিশ হাজার ডলার জামানত রাখা মানে ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করাই সহজ পথ। সমালোচকরা তাই দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, এই নীতি মূলত দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের ওপর একধরনের আর্থিক জরিমানা চাপিয়ে দিচ্ছে, যাদের অপরাধ শুধু এই যে তারা এমন এক দেশে জন্মেছেন যার পাসপোর্টের ওপর ওয়াশিংটনের আস্থা কম।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্যে অবশ্য এসবের মধ্যে কোনো স্ববিরোধিতা নেই। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই চূড়ান্ত নিয়ম বি১ ও বি২ ভিসার চাহিদা আরও কমিয়ে আনবে বলেই তাদের প্রত্যাশা। অর্থাৎ ভিসার আবেদন কমে যাওয়াটাকেই তারা দেখছে সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে, ভ্রমণেচ্ছুক মানুষের হতাশাকে নয়। এই যুক্তিতে দেয়াল যত উঁচু হবে, ওপারের মানুষ তত কম আসবে, আর সংখ্যাতত্ত্বের হিসাবে সেটাই সাফল্য।
বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য এই খবরের বাস্তব অর্থ দাঁড়াচ্ছে এমন—আমেরিকা ভ্রমণের স্বপ্ন এখন আর শুধু ভিসা সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয় নয়। বরং একটি সুনির্দিষ্ট আর্থিক প্রস্তুতিরও বিষয়। যাদের হাতে বিশ 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন