https://www.prothomalony.com/

17771

new-york

নিউইয়র্ক

‘আজ শুধু প্রেমের কথা হবে’: তপুর গানে মুগ্ধ নিউইয়র্কের দর্শক

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ ০২:৪৮

নিউইয়র্কে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রাশেদ উদ্দিন তপুর গান, প্রেমের কবিতা, হাস্যরস আর অগ্রজ সাংবাদিকদের স্মৃতিময় কথোপকথনে অনুষ্ঠিত হলো ভিন্নধর্মী আয়োজন—‘আজ শুধু প্রেমের কথা হবে: তপুর গান’।

২৬ জুলাই রোববার কুইন্স পেলেসে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে শুরু থেকেই ছিল প্রাণবন্ত ও রুচিশীল পরিবেশ। অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই দেখা যায় আয়োজকদের ব্যস্ততা ও আন্তরিকতার প্রতিচ্ছবি। টিনা রাসেল, নাভিদ মাহবুব, তপু, খালেদ মুহিউদ্দীন, বন্যা মির্জা ও চন্দ্রা রায়—তাঁদের সম্মিলিত  পার্ফোমেন্সে অল্প সময়ের মধ্যেই একটি সুন্দর আয়োজন বাস্তবে রূপ নেয়।

সাংবাদিক শামীম শাহেদের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই মঞ্চে ওঠেন তিনজন অগ্রজ সাংবাদিক তাঁদের সহধর্মিণীদের নিয়ে। সাংবাদিক মঞ্জুর আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী রেখা আহমেদ, হাসান ফেরদৌস ও তাঁর স্ত্রী রানু ফেরদৌস এবং ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন ও তাঁর স্ত্রী নাসিমা সুলতানা ফ্লোরা প্রেমের সংজ্ঞা খোঁজার চেষ্টা করেন নিজেদের অভিজ্ঞতা, স্মৃতি ও রসিকতার মধ্য দিয়ে।

তাঁদের কথোপকথনের সময় পুরো মিলনায়তনে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। অগ্রজ সাংবাদিকদের কথায় যে গভীরতা ও রসবোধ ছিল, তা খুব দ্রুতই দর্শকদের মধ্যে হাসির রোল তোলে। সেই হাসির রেশ ছড়িয়ে পড়ে পরবর্তী পর্বেও। খালেদ মুহিউদ্দীনের কথায় দর্শক যেমন আনন্দ পান, তেমনি কৌতুকশিল্পী নাভিদ মাহবুবের পরিবেশনায় হাসির আবহ আরও জমে ওঠে।

এরপর মঞ্চে ওঠেন বন্যা মির্জা। প্রেমের কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ করেন ভিন্ন এক আবহ। গিটারে সেতুর সুর তখন দর্শকদের প্রশংসা কুড়াতে শুরু করেছে।

অনুষ্ঠানে শিল্পী রাশেদ উদ্দিন তপুর দুটি জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন নিউইয়র্কের পরিচিত শিল্পী টিনা রাসেল ও চন্দ্রা রায়। এরপর পাঁচ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্রে তপুর সংগীতজীবন ও ব্যক্তিগত পথচলার নানা দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেন আয়োজকেরা।

সবশেষে মঞ্চে আসেন তপু। নিজের জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করে তিনি মুহূর্তেই মিলনায়তনে তৈরি করেন এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। তবে সেদিনের বিশেষ দৃশ্য ছিল—তপুর সঙ্গে তাঁর গান গেয়ে উঠেছিলেন দর্শকেরাও। অনেক সময় মনে হয়েছে, তপুর চেয়েও বেশি উৎসাহ নিয়ে তাঁর গান গাইছেন উপস্থিত শ্রোতারা।

দর্শকদের বেশির ভাগের হাতেই ছিল মুঠোফোন। কেউ ভিডিও ধারণ করেছেন, কেউ ছবি তুলেছেন। গান, স্মৃতি ও ভালোবাসার মুহূর্তগুলো যেন সবাই নিজেদের মতো করে ধরে রাখতে চেয়েছেন।

অনুষ্ঠানজুড়ে উপস্থাপক কয়েক দফা আয়োজনে সহযোগিতাকারী স্পনসরদের ধন্যবাদ জানান। তাঁদের মধ্যে ছিল গোল্ডেন এজ হোম কেয়ার, অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, প্রো-হেলথ হোম কেয়ার, অ্যাটর্নি রুমা জান্নাতুল, প্রেমস কালেকশন্স, গুড শেফার্ড হোম কেয়ার, ড্রিম কটেজ রিয়েলটি, কেপ্টর হোম হেলথ কেয়ার সার্ভিস, খলিল বিরিয়ানি, ভাট্টা ল অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস, নিহার সিদ্দিকী এবং কুইন্স প্যালেস।

স্পনসরদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়েই শেষ হয় প্রেম, গান, কবিতা ও হাসির এই ব্যতিক্রমী সন্ধ্যা।

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন