https://www.prothomalony.com/

17733

north-america

উত্তর আমেরিকা

নেতানিয়াহুকে কি গ্রেপ্তার করতে পারবেন মামদানি? আইনি কী বলছে

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ ০২:৪৫

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি আবারও বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও আন্তর্জাতিক আইনের বাস্তবতা বলছে, এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ক্ষমতা কোনোভাবেই নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের হাতে নেই।

সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসের দ্য ইন্টারভিউ পডকাস্টে মামদানি বলেন, তার প্রশাসনের আইন বিভাগ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আলোকে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের কোনো আইনি সুযোগ রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও তিনি একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

মামদানির বক্তব্যের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরে আইসিসি গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও, সেটি যুক্তরাষ্ট্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয় না। ইসরায়েল আইসিসির এখতিয়ার স্বীকার করে না এবং সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

রোম সংবিধি অনুযায়ী, আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলো আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরে সহযোগিতা করতে বাধ্য। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কখনোই রোম সংবিধির সদস্য হয়নি। ফলে আইসিসির পরোয়ানা কার্যকর করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা নেই।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের নিজস্বভাবে কাউকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার কোনো সাংবিধানিক বা আইনি ক্ষমতা নেই। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনের অধীনে পরিচালিত হয়। কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনের অধীনে বৈধ আইনি ভিত্তি থাকতে হয়; শুধুমাত্র আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সেই ভিত্তি হিসেবে যথেষ্ট নয়।

এছাড়া সফররত কোনো বিদেশি সরকারপ্রধানকে আটক করার প্রশ্ন স্থানীয় সরকারের এখতিয়ারের বাইরে। এ ধরনের বিষয় ফেডারেল সরকারের কূটনৈতিক নীতি, আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রপ্রধানের সম্ভাব্য কূটনৈতিক দায়মুক্তি এবং বিচার বিভাগের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

আইন বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেন, ২০০২ সালের আমেরিকান সার্ভিসমেম্বার্স প্রোটেকশন অ্যাক্ট আইসিসির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার ওপর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। ফলে আইসিসির পরোয়ানা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত।

এদিকে মামদানির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না’। যদিও তিনি সরাসরি মামদানির নাম উল্লেখ করেননি।

ইসরায়েলও মামদানির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইসিসিকে ‘প্রহসনের আদালত’ আখ্যা দিয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেছেন, নেতানিয়াহু নির্ধারিত সময়েই নিউইয়র্কে এসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জোহরান মামদানি রাজনৈতিক অবস্থান থেকে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করলেও বর্তমান মার্কিন আইন অনুযায়ী নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের পক্ষে এককভাবে আইসিসির পরোয়ানার ভিত্তিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া বা তা কার্যকর করা সম্ভব নয় বলে আইন বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিয়েছেন।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন