https://www.prothomalony.com/
17729
north-america
সরকারি সহায়তা নিলে কঠিন হতে পারে গ্রিন কার্ডের পথ
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ ০২:১৫
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পেতে ইচ্ছুক অভিবাসীদের জন্য সরকারি সহায়তা গ্রহণের বিষয়টি আবারও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়ায় নিউইয়র্কের অভিবাসী অধিকারকর্মীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, নতুন এই নীতির কারণে অনেক বৈধ অভিবাসী স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা ও আবাসন সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন, যা পরিবার ও শিশুদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে সোমবার বিভিন্ন অভিবাসী সেবাদানকারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা এক সংবাদ সম্মেলনে এ নীতির বিরোধিতা করেন। তারা বলেন, নতুন বিধান কার্যকর হলে অনেক অভিবাসীকে সরকারি সহায়তা এবং গ্রিন কার্ডের সম্ভাবনার মধ্যে একটি বেছে নিতে হতে পারে।
বর্তমানে মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি (স্ন্যাপ) এবং হাউজিং ভাউচারের মতো বিভিন্ন সরকারি সুবিধা ব্যবহারকারী অনেক অভিবাসী পরিবার নতুন নীতির কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে যেসব পরিবারে বাবা-মা অভিবাসী হলেও সন্তানরা মার্কিন নাগরিক, তাদের ওপর এর প্রভাব আরও বেশি পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরব আমেরিকান ফ্যামিলি সাপোর্ট সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক র্যান্ডি আলী বলেন, নতুন নিয়ম তাদের কমিউনিটির স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, ক্যাব্রিনি ইমিগ্র্যান্ট সার্ভিসেসের নির্বাহী পরিচালক হাভিয়ের রামিরেজ ব্যারন বলেন, এই সিদ্ধান্ত অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে আরও বিভ্রান্তি ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে।
নতুন নীতির আওতায় গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘পাবলিক চার্জ’ বা সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠবেন না। অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা ও সরকারি সুবিধা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে একই ধরনের ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি চালু করা হয়েছিল। পরে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় এসে সেটি বাতিল করেন। নতুন করে নীতিটি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগকে বৈধ অভিবাসন সীমিত করার আরেকটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) বলেছে, এই নীতির লক্ষ্য হলো অভিবাসীদের আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করা, সরকারি সম্পদের সুরক্ষা করা এবং করদাতাদের অর্থের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো। সংস্থাটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে আগ্রহীদের নিজেদের আর্থিকভাবে সক্ষম হওয়া উচিত।
অভিবাসী অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, নতুন নীতিতে কোন কোন সরকারি সুবিধাকে ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে গণ্য করা হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে অভিবাসন কর্মকর্তারা নিজস্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবেন, যা ব্যক্তিগত পক্ষপাত বা বৈষম্যের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের হেলদি কমিউনিটিজ বিভাগের পরিচালক কার্লোস আরনাও বলেন, অনেক পরিবার চিকিৎসা, পুষ্টি ও আবাসন সহায়তা থেকে সরে গেলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবার চাপ বাড়বে, শিশুদের অপুষ্টির ঝুঁকি তৈরি হবে এবং আরও বেশি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
লাতিনো কমিশন অন এইডসের স্বাস্থ্যনীতি পরিচালক রোজি মোটা বলেন, অভিবাসীরা শুধু শ্রমশক্তির অংশ নন, তারা নিউইয়র্ক ও পুরো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তার প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়বে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ অ-নাগরিক বসবাস করছিলেন। নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো নীতিটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে এবং প্রয়োজনে আইনি লড়াইয়েরও ইঙ্গিত দিয়েছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন