https://www.prothomalony.com/

17643

north-america

উত্তর আমেরিকা

ফিলাডেলফিয়ায় গুলিতে নিহত ডা. মাহফুজুল হকঃ জানাজা সম্পন্ন, দাফন হবে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ ০৯:২০

জীবন বাঁচাতে নয়, পরিবারের জন্য জীবিকা অর্জনের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। হাতে ছিল একটি খাবার সরবরাহের অর্ডার। কিন্তু সেই পথই হয়ে উঠল জীবনের শেষ যাত্রা। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় ডোরড্যাশে (DoorDash) খাবার সরবরাহ করতে গিয়ে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয়েছেন বাংলাদেশি চক্ষু চিকিৎসক ও কানাডার নাগরিক ডা. মো. মাহফুজুল হক (৪৩)।



৭ জুলাই মঙ্গলবার রাতে ফিলাডেলফিয়ার কিংসেসিং এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে তাঁর গাড়ি, ডোর ড্যাশ-এর ডেলিভারি ব্যাগ এবং রাইফেলের দুটি ব্যবহৃত খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছেন। এখনো কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।

ডা. মাহফুজুল হকের বাড়ি বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার ভেড়িবাজার এলাকায়। তিনি প্রয়াত শিক্ষক মোজাম্মেল হক (বাঘু মাস্টার)-এর একমাত্র ছেলে। বাংলাদেশে চক্ষু চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও উন্নত ভবিষ্যতের আশায় উত্তর আমেরিকায় পাড়ি জমান। পরবর্তীতে কানাডার নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ আরও সুরক্ষিত করতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে বিভিন্ন পেশার পাশাপাশি ডোর ড্যাশ-এর ডেলিভারি কর্মী হিসেবেও কাজ করছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁর স্ত্রীও একজন চিকিৎসক। মাত্র আট মাস আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তাঁদের ১৪ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।



স্বজনরা জানান, পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই অতিরিক্ত সময় কাজ করতেন ডা. মাহফুজুল হক। কিন্তু সেই পরিশ্রমী সংগ্রামের পথেই প্রাণ হারাতে হলো তাঁকে।

দীর্ঘদিন তিনি ফিলাডেলফিয়ার আল-শাম উইলো গ্রোভ রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন। সহকর্মী ও পরিচিতদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, সৎ, পরিশ্রমী ও মানবিক একজন মানুষ। তাঁর অকাল মৃত্যুতে বাংলাদেশ, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোক ও স্মৃতিচারণে ভরে উঠেছে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম।

বৃহস্পতিবার নর্থইস্ট ফিলাডেলফিয়ার টাইসন মসজিদে বাদ জোহর তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। শত শত প্রবাসী বাংলাদেশি শেষ বিদায় জানাতে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তাঁর মরদেহ কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভ্যাঙ্কুভারে পাঠানো হয়। পরিবারের সদস্যদের পাশে সেখানেই তাঁকে দাফন করা হবে।

এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্রে খাবার ও পণ্য সরবরাহকারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় কাজ করা ডেলিভারি কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। কমিউনিটির নেতারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বিবেচনা করে পুলিশ তদন্ত করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে একাধিক  ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার চেষ্ঠা করছে এবং এ হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। পেনসিলভেনিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটি এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারে সোচ্চার হয়েছেন।  

 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন