https://www.prothomalony.com/
17641
north-america
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ ০৯:০৭
ইসরায়েল সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে যে, ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার নতুন একটি পরিকল্পনা করছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক পোস্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ইরানের শাসকগোষ্ঠী ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক এই পরিকল্পনাকে সেই ধারাবাহিকতারই নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য চাইলে হোয়াইট হাউস সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া না দিয়ে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে বুধবার ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে। ওই সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, তাঁকে সরিয়ে দিতে চায় এমন শক্তি সক্রিয় রয়েছে এবং তিনি প্রায় প্রতিটি হুমকির তালিকাতেই নিজের নাম দেখতে পান। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত হয়তো তিনি ভাগ্যবান ছিলেন, তবে এই সৌভাগ্য চিরদিন নাও থাকতে পারে। হুমকিদাতাদের তিনি "অসুস্থ ও পাপিষ্ঠ মানুষ" আখ্যা দিয়ে বলেন, "এই ক্যান্সার শুরুতেই কেটে ফেলা দরকার।"
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তুরস্ক সফরে কাতারের উপহার দেওয়া নতুন উড়োজাহাজে গেলেও ফেরার পথে ভিন্ন একটি এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করেন। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৌশলগত কারণেই এ পরিবর্তন আনা হয়। সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও উপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁর পূর্বনির্ধারিত ইসরায়েল সফর বাতিল করা হয়। ইরানের হুমকি হেগসেথের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহেই ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে এই সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে অবহিত করে। মার্কিন কর্মকর্তারা এর আগে এই নির্দিষ্ট হুমকির বিষয়ে অবগত ছিলেন না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গোয়েন্দা তথ্যটি এখনো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।
এই সতর্কবার্তা এমন সময় এসেছে, যখন ইরানকে ঘিরে ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েনের খবর প্রকাশিত হয়েছে। জানা যায়, গত ১ জুন লেবাননে ইসরায়েলি হামলার পর ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেন এবং আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এসব হামলা ইরানের সঙ্গে আরও বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে জানিয়েছিলেন যে, তাঁর কর্মকাণ্ডের কারণে ইসরায়েল এবং নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। পরে ট্রাম্প নিজেও নিউইয়র্ক পোস্ট-কে এ ধরনের মন্তব্য করার বিষয়টি স্বীকার করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ জুনের ওই উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপের পর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু অন্তত দুইবার কথা বলেছেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, দুই নেতা নিকট ভবিষ্যতে সরাসরি সাক্ষাৎ করতেও সম্মত হয়েছেন।
এদিকে তেহরানে সদ্য প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন অনুষ্ঠান ঘিরে এ সপ্তাহে ট্রাম্পবিরোধী নানা ব্যানার ও প্রতিশোধমূলক স্লোগান দেখা গেছে। যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত হওয়া খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে শত শত সমর্থকের হাতে ট্রাম্পবিরোধী ব্যানার দেখা যায়। একই সঙ্গে উপস্থিত জনতাকে সর্বোচ্চ নেতার রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতেও শোনা যায়।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন