https://www.prothomalony.com/
17563
north-america
হয়ে গেল ২৭ জুন শনিবার নিউজার্সিতে অভিজিৎ নিয়োগীর বাড়িতে পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র পরিচালক ও নাট্যনির্দেশক সুমন মুখোপাধ্যায়- এর পরিচালনায় “ডিরেক্টরস ওয়ার্কশপ”।
স্বনামধন্য নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক ও অভিনেতা সুদীপ্ত ভৌমিকের উদ্যোগে এবং অভিনব পরিকল্পনায় ছিল এই আয়োজন। ‘স্ক্রিপ্ট টু স্টেজ’ (পাণ্ডুলিপি থেকে মঞ্চায়ন)।
সুমন মুখোপাধ্যায় বলেন, “নাটকের শুরুটা হয় একটি লিখিত পাঠ বা পাণ্ডুলিপি দিয়ে, কিন্তু মঞ্চ-পরিবেশনা গড়ে ওঠে ধারাবাহিক কিছু সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে। এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন পরিচালক—যিনি শব্দকে দৃশ্যে, ধারণাকে কাজে এবং প্রত্যেকের স্বতন্ত্র অবদানকে একটি সুসংহত নাট্য-অভিজ্ঞতায় রূপান্তর করেন। একজন পরিচালক একই সঙ্গে অভিনেতা, মঞ্চসজ্জা, আলো, পোশাক, শব্দ, ছন্দ এবং স্থানের সঙ্গে কাজ করেন এবং পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দর্শকদের যাত্রাপথ বা অভিজ্ঞতার রূপরেখা তৈরি করেন।”

সুমন মুখার্জি প্রখ্যাত নাট্যজন অরুণ মুখোপাধ্যায়ের সুযোগ্য পুত্র। এখানে বলা বাহুল্য হবে না যে, অরুণ মুখোপাধ্যায় অভিনীত লু শুনের গল্প অবলম্বনে নাটক ‘জগন্নাথ’ দেখে আমি অভিভূত হয়েছিলাম এবং তিন বছর আগে কলকাতায় গিয়ে এই প্রণম্য কিংবদন্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ধন্য হয়েছি।
সুমন মুখোপাধ্যায় নিজের সম্পর্কে বলেন, “গত পঁয়ত্রিশ বছরে নাট্য-পরিচালক হিসেবে আমার নিজের যাত্রার কথাও আমি তুলে ধরব। বাংলা নাটকের জগতে আমার শুরুর দিনগুলো থেকে শুরু করে শেক্সপিয়র, ব্রেখট, চেখভ ও ঠাকুরের রচনার ওপর ভিত্তি করে নাটক পরিচালনা; বিশাল কুশীলব-সম্বলিত প্রযোজনা থেকে একক অভিনয়; কিংবা মঞ্চ থেকে চলচ্চিত্রে পদার্পণ ও পুনরায় মঞ্চে ফিরে আসা—আমার কাজের ধারাকে যেসব শৈল্পিক প্রশ্ন, আবিষ্কার, ব্যর্থতা ও যৌথ প্রচেষ্টা গড়ে তুলেছে, সেগুলোর ওপর আমি আলোকপাত করব।”

কর্মশালায় তিনি ভিডিও ক্লিপে দেখিয়েছেন তাঁর কাজের কিছু নমুনা। তার মধ্যে ছিল ‘মেফিস্টো’, ‘তিস্তা পারের বৃত্তান্ত’, ‘রাজা লিয়ার’ (যেখানে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় রাজা লিয়ারের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন), ‘আগুনমুখো’, আন্তন চেখভের ‘চেরি অর্চার্ড’, ‘আঙ্কেল ভানিয়া’ অবলম্বনে ‘ভানু’ এবং ‘বেচারা বিবি’।
নাটকের উপস্থাপনা মুগ্ধ করে। নাট্যপরিচালক যেন বিরাট ক্যানভাসের সামনে বসে রঙতুলি দিয়ে নির্মাণ করছেন এক অনবদ্য শিল্পকর্ম। সেই সব ক্লিপে দেখা গেল একজন পরিচালক কী অসাধারণ দক্ষতা, ভাবনা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে পাণ্ডুলিপিকে রূপ দিয়েছেন। মঞ্চসজ্জার প্রতিটি খুঁটিনাটির পেছনে রয়েছে একটি ইঙ্গিত, এক ভাষা। সত্যজিৎ রায় বলেছেন, প্রপসে যা প্রকাশ পায় না, ডায়লগে তারই প্রকাশ করা।
নাট্যকার সুদীপ্ত ভৌমিকের মনস্তাত্ত্বিক চমৎকার নাটক ‘নিউড ইন মেজেন্টা’-র স্ক্রিপ্ট নিয়ে ছিল বিশ্লেষণমূলক কার্যক্রম। দেখা এবং দেখানো, কী দেখাতে চাইছি এবং দর্শক কীভাবে দেখছে। দর্শক তা গ্রহণ করবে, নয়তো বাতিল।
একজন পরিচালক হলেন স্বপ্নদ্রষ্টা, সমন্বয়ক এবং কারিগর। অভিজ্ঞতা, জ্ঞানের পরিধি এবং সৃজনশীল দক্ষতাই একজন পরিচালকের স্বাক্ষর।
এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন নিউজার্সির সক্রিয় এবং নিবেদিত নাট্যশিল্পীরা। শুভাশীষ, ইন্দ্রনীল, সৌমেন্দু, দেবজানি, তুফানী, পূজা, সীমা সাহনি, টবি বোস, বিদুলা, শ্রীজিতা প্রমুখ। সুমন মুখার্জির এই কর্মশালার আয়োজক ছিলেন কলকাতা এবং উত্তর আমেরিকার সফল নাট্যকার সুদীপ্ত ভৌমিক। সীমাবদ্ধতার পর্দা সরিয়ে নতুন দিগন্তের হাতছানি ছিল এই কর্মশালায়।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন