https://www.prothomalony.com/
17322
north-america
প্রকৃতির স্নিগ্ধ সবুজে ঘেরা পরিবেশে ‘বনছায়ায় একদিন’ শীর্ষক বনভোজনের আয়োজন করে আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব। গত ২৪ মে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের হেকশার স্টেট পার্কে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে প্রেসক্লাবের সদস্যরা পরিবার-পরিজন নিয়ে অংশ নেন। পাশাপাশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বনভোজনটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।
পরিবার-পরিজন ও অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনটি হয়ে ওঠে আনন্দ, আড্ডা ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য আয়োজন। দিনভর প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে অনুষ্ঠান ঘিরে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিকূল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে উপস্থিত সাংবাদিক ও তাঁদের পরিবারগুলো বৃষ্টিভেজা দিনটিকেই উৎসবের রঙে রাঙিয়ে তোলেন।

বনভোজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। বক্তব্যে তিনি বলেন, নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণেই প্রবাসে বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে বনভোজনের আয়োজন করে থাকে।
তিনি বলেন, প্রবাসী সমাজে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলা জরুরি। একে অপরের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়েই একটি শক্তিশালী ও ইতিবাচক কমিউনিটি গড়ে ওঠে। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আতাউর রহমান সেলিম আরও বলেন, চলার পথে ভুল-ত্রুটি হতে পারে। ভুল হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমরা ভবিষ্যতে সেসব ভুল সংশোধন করে সমাজকল্যাণমূলক কাজে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা সোসাইটির সভাপতি ও সমাজকর্মী দুলাল বেহেদু বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজই আমাদের কাছে এক টুকরো বাংলাদেশ। আমরা এখানে একে অপরের নিকটজন। তাই যেকোনো বিপদে-আপদে পরস্পরের পাশে দাঁড়ানোই হোক আমাদের অঙ্গীকার। তিনি সমাজ গঠনে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকারও প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জন্মভূমি পত্রিকার সম্পাদক রতন তালুকদার। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি দর্পণ কবীর ও মোহাম্মদ সাঈদ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মজুমদার এবং বনভোজন উপ-কমিটির আহ্বায়ক আবু কবর সিদ্দিক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত ওসমান রচি বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, যারা প্রতিকূল পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করে এই আয়োজনে এসে ভালোবাসা ও সমর্থন জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তিনি ক্লাবের সদস্য ও তাঁদের পরিবারের প্রতিও ধন্যবাদ জানান।
বনভোজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল খাবারের আয়োজন। সকালের নাশতায় স্পটেই লুচি ভাজার ব্যবস্থা অংশগ্রহণকারীদের বাড়তি আনন্দ দেয়। এ ছাড়া গরম চা, বিকেলের পিঁয়াজু এবং মধ্যাহ্নভোজে পরিবেশিত কাচ্চি বিরিয়ানি ভোজনরসিকদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ সৃষ্টি করে।
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র। র্যাফেল ড্রয়ের প্রথম পুরস্কার সোনার চেইন জেতেন রোকেয়া দীপা। দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ল্যাপটপ পান মিসেস পাহলভী এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে অ্যাপল ওয়াচ জেতেন মিসেস মঞ্জুরুল। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়। লুডু প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে কানের দুল পুরস্কার পান হাসিনা আক্তার।
দিনের শেষভাগে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন আফজাল হোসেন ও শেখ নীলিমা শশী। তাঁদের পরিবেশনায় মুগ্ধ হন উপস্থিত অতিথিরা।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন