https://www.prothomalony.com/

17255

north-america

উত্তর আমেরিকা

সিআইএর সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার বাড়িতে মিলল ৪০ মিলিয়ন ডলারের সোনার বার, গ্রেফতার

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬ ০২:৩১

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র এক সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার ভার্জিনিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে হতবাক হয়ে গেছে এফবিআই। সেখানে পাওয়া গেছে ৩০৩টি সোনার বার — যার বাজারমূল্য প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা। সেই সঙ্গে উদ্ধার হয়েছে নগদ ২ মিলিয়ন ডলার এবং প্রায় তিন ডজন বিলাসবহুল রোলেক্স ঘড়ি।

গ্রেফতার হওয়া ওই কর্মকর্তার নাম ডেভিড রাশ। যিনি সম্প্রতি পর্যন্ত সিআইএ-তে "সিনিয়র এগজিকিউটিভ সার্ভিস" পর্যায়ের দায়িত্বে ছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে তিনি এই বিপুল পরিমাণ সোনা ও বিদেশি মুদ্রা "কাজের খরচ" হিসেবে দাবি করে সংস্থার কাছ থেকে নিয়েছিলেন। পরে যখন সিআইএ রুটিন অডিট করতে গিয়ে দেখে সম্পদগুলো সরকারি হেফাজত থেকে উধাও হয়ে গেছে, তখনই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ বিষয়টি এফবিআইকে জানান।

শুধু সম্পদ আত্মসাৎ নয়, রাশের বিরুদ্ধে সিভি জাল করার গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। তিনি দাবি করেছিলেন যে ক্লেমসন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক ও রেনসেলার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন। কিন্তু তদন্তে ওই দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস জানায়, তার নামে কোনো রেকর্ডই নেই। এমনকি তিনি ইউএস এয়ার ফোর্স ও নেভাল টেস্ট পাইলট স্কুলের সার্টিফিকেটও নকল করেছিলেন। বাস্তবে তার পাইলট লাইসেন্স ছিল না — তিনি মূলত একজন আইটি টেকনিশিয়ান ছিলেন।

সামরিক ক্ষেত্রেও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে রাশের বিরুদ্ধে। তিনি ১৯৯৭ সালে নৌবাহিনীতে যোগ দিয়ে ২০১৫ সালে সম্মানজনকভাবে অব্যাহতি পান। কিন্তু এরপর তিনি নিজেকে নেভি রিজার্ভের সক্রিয় ক্যাপ্টেন হিসেবে পরিচয় দিয়ে ৭৭,০০০ ডলার সামরিক ছুটির ভাতা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ।

এই মুহূর্তে রাশকে কেবল সিভি জালিয়াতি ও সামরিক ছুটির ভাতা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার রাখা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে ফেডারেল হেফাজতে আছেন। তবে বাড়িতে পাওয়া বিপুল সম্পদের বিষয়ে তদন্ত এখনও চলছে — সিআইএ ও বিচার বিভাগের সঙ্গে মিলে এফবিআই পুরো ঘটনার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থার মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে এতদিন ধরে এমন একজন ব্যক্তি কীভাবে শীর্ষ পদে টিকে রইলেন — এই প্রশ্নটি এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।
 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন