https://www.prothomalony.com/
17244
north-america
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ ০২:১৫
মধ্যপ্রাচ্যের জটিল কূটনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন পরমাণু চুক্তিকে ঘিরে তিনি এবার এক কঠোর শর্ত সামনে এনেছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ইরান যদি নতুন পরমাণু চুক্তির অংশ হতে চায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশকে অবশ্যই আব্রাহাম অ্যাকর্ডে সই করতে হবে।
সোমবার দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, সৌদি আরব, কাতার, মিশর, পাকিস্তান, তুরস্ক ও জর্ডান—এই ছয়টি মুসলিম দেশের নেতাদের সঙ্গে সম্প্রতি এক টেলিফোন বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “ইরান চুক্তিতে থাকতে চাইলে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।”
ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের নেতারাও। এই দুই দেশ ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম অ্যাকর্ডে স্বাক্ষর করে আরব-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে প্রথম বড় পদক্ষেপ নেয়।
মেমোরিয়াল ডে উপলক্ষে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “এই জটিল কূটনৈতিক সমীকরণকে একসঙ্গে সমাধান করতে যুক্তরাষ্ট্র যে প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে সব দেশকে একই সময়ে আব্রাহাম অ্যাকর্ডে যোগ দেওয়া উচিত।” তবে তিনি এটাও বলেছেন, “এক-দুটি দেশের ক্ষেত্রে হয়তো ব্যতিক্রম হতে পারে, কিন্তু বাকিদের প্রস্তুত থাকতে হবে।”
সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রস্তাব আসে যখন ট্রাম্প বলেন—ইরান নিজেও চাইলে আব্রাহাম অ্যাকর্ডে যোগ দিতে পারে। প্রায় পাঁচ দশক ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান বৈরিতার প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
ট্রাম্প লিখেছেন, “যদি ইরান আমার সঙ্গে এই চুক্তিতে সই করে, তাহলে তাদের এই বৈশ্বিক জোটের অংশ হিসেবে স্বাগত জানানো হবে।” তবে ইসরায়েল এমন কোনো প্রস্তাবে কতটা ইতিবাচক হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন প্রথম আব্রাহাম অ্যাকর্ডে সই করে। পরে মরক্কো এবং সুদানও এই জোটে যোগ দেয়। সেই সময় থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবকে এই চুক্তিতে আনার চেষ্টা করে আসছে।
তবে সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশ বরাবরই বলে আসছে—ফিলিস্তিন প্রশ্নের গ্রহণযোগ্য সমাধান ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব নয়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে সৌদি নেতৃত্ব এ বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও, গাজায় যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই অগ্রগতিকে কার্যত থামিয়ে দেয়।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন পরমাণু চুক্তির প্রায় ৯৫ শতাংশ বিষয়ে দুই পক্ষ ইতোমধ্যে একমত হয়েছে। একটি বিস্তৃত শান্তি কাঠামো তৈরির কাজ চলছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন, তিনি তাঁর আলোচক দলকে তাড়াহুড়া না করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, “হয় সবার জন্য একটি মহান চুক্তি হবে, নয়তো কোনো চুক্তিই হবে না। আর ব্যর্থ হলে আমরা আবার আরও কঠিন সংঘাতের মুখোমুখি হব—যা কেউই চায় না।”
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ট্রাম্পের এই নতুন অবস্থান যে শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নয়, বরং পুরো অঞ্চলের কূটনৈতিক ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে—এ নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন