https://www.prothomalony.com/

17181

north-america

উত্তর আমেরিকা

ট্রাম্পের গণ-ডিপোর্টেশন: ১ লাখ ৪৫ হাজারেরও বেশি মার্কিন শিশু মা-বাবাকে হারিয়েছে

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ ০৮:৩৮

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে গণ-ডিপোর্টেশন অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটির প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার শিশু তাদের মা-বাবাকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হতে দেখেছে। সোমবার ওয়াশিংটনভিত্তিক খ্যাতিমান থিঙ্কট্যাঙ্ক 'ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন' প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

 প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনুমানিক ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৩৫ জন শিশু যারা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক, তাদের অন্তত একজন অভিভাবককে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২ হাজারেরও বেশি শিশু এমন ট্র্যাজেডির শিকার হয়েছে যেখানে তাদের পরিবারের সকল অভিভাবককেই আটক করা হয়েছে।

আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশের বয়স ৬ বছরের নিচে। প্রশাসনের এই কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে শিশুরা চরম মানসিক ও পারিবারিক সংকটে পড়ছে বলে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আটক হওয়া অভিভাবকদের সন্তানদের মধ্যে ৫৪ শতাংশই মেক্সিকান বংশোদ্ভূত। 

এছাড়া গুয়াতেমালা ও হন্ডুরাসের নাগরিকদের সন্তানদের হার প্রায় ২৫ শতাংশ।ওয়াশিংটন ডিসি এবং টেক্সাসে এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। প্রতি এক হাজার মার্কিন শিশুর মধ্যে ৫ জন শিশুর কোনো না কোনো অভিভাবক অভিবাসন হেফাজতে রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ২০২৫ অর্থবছরে ১৮ হাজার ২৭৭ জন অভিভাবককে আটকের কথা বললেও গবেষকদের মতে এই সংখ্যাটি প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে অনেক কম। অনেক অভিবাসী ভয়ে তাদের সন্তানের কথা গোপন রাখেন অথবা তাদের জিজ্ঞাসা করা হয় না। ব্রুকিংস গবেষকরা ডেমোগ্রাফিক ডেটা এবং আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রাক্কলন করেছেন।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'গার্ডিয়ান' এক অনুসন্ধানে জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসেই ১৮ হাজার ৪০০ অভিভাবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার ফলে ৩২,০০০ শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ছিল মার্কিন নাগরিক।

অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালে প্রতি মাসে প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন অভিভাবককে গ্রেপ্তার করেছে এবং প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন অভিভাবককে ডিপোর্ট করেছে। যা জো বাইডেনের প্রেসিডেন্সির শেষ সময়ে, অর্থাৎ ২০২৪ সালে রেকর্ডকৃত মাসিক ডিপোর্টেশনের হারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

এ বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন মুখপাত্র গার্ডিয়ানকে বলেন, আটক থাকাটা একটি পছন্দ। আইস পরিবারকে আলাদা করে না। অভিভাবকদের জিজ্ঞেস করা হয় তারা কি তাদের সন্তানদের সাথে নিয়ে চলে যেতে চান কি না, অথবা তারা চাইলে অন্য কোনো নিরাপদ ব্যক্তির কাছে সন্তানকে রেখে যেতে পারেন। এছাড়া অভিভাবকদের আইনি পথে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার জন্য 'সিবিপি হোম' অ্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

তবে গত মার্চ মাসে, ওমেন্স রিফিউজি কমিশন এবং ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস-এর একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে —ট্রাম্প প্রশাসন অনেক অভিবাসী অভিভাবককে তাদের সন্তান আছে কি না তা জিজ্ঞাসা না করেই অথবা সন্তানরা তাদের সাথে যাবে কি না সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ না দিয়েই দেশ থেকে বের করে দিয়েছে।

 যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ অননুমোদিতভাবে অথবা অত্যন্ত সীমিত আইনি সুরক্ষায় বসবাস করছেন। ফলস্বরূপ, ৪৬ লাখেরও বেশি মার্কিন নাগরিক শিশু এমন অন্তত একজন অভিভাবকের সাথে বসবাস করছে যারা যেকোনো সময় ডিপোর্টেশনের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রায় ২৫ লাখ শিশু তাদের পরিবারের সকল অভিভাবককেই আটক করার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।

ব্রুকিংস’র গবেষকরা বলেছেন, লজিস্টিক এবং রাজনৈতিক উভয় কারণেই, প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিটি অননুমোদিত অভিবাসীকে সরিয়ে দেওয়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তা অর্জন করতে পারবে না। অন্ততপক্ষে, ডিএইচএসের উচিত আটক বা ডিপোর্টেশনের মুখোমুখি হওয়া অভিভাবকদের সংখ্যার পাশাপাশি অভিভাবক চলে যাওয়ার পর কতজন মার্কিন নাগরিক শিশু দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে, সেই সম্পর্কিত সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা।
 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন