https://www.prothomalony.com/
17052
north-america
বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং মানবাধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশ্ব প্রেস স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্যারিস সিটি হলে যথাযোগ্য মর্যাদায় আয়োজিত হয় বিশেষ অনুষ্ঠান। মঙ্গলবার (৫ মে) অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে অংশ নেন বাংলাদেশি সাংবাদিক শাহাবুদ্দিন শুভ, যা তার জন্য একটি গর্বের ও গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হয়।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ম্যাজঁ দে জুরনালিস্ত এবং প্যারিস সিটি প্রশাসন। এ দুটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতিত ও ঝুঁকির মুখে থাকা সাংবাদিকদের সহায়তা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে কাজ করে আসছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্যারিস সিটির মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার। তিনি তার বক্তব্যে স্বাধীন সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। তার উপস্থিতি এই আয়োজনে বিশেষ তাৎপর্য যোগ করে এবং শহর প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট আলবেরিক দে গুভিল। তিনি বলেন, “স্বাধীন সাংবাদিকতা ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। যারা সত্য তুলে ধরার জন্য ঝুঁকি নেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারী শাহাবুদ্দিন শুভ দ্বিতীয়বারের মতো এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়াকে “একটি বড় সম্মান” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “বিশ্ব প্রেস স্বাধীনতা দিবসের মতো একটি তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজনে আবারও অংশ নিতে পারা সত্যিই গর্বের। এখানে এসে বিভিন্ন দেশের সাহসী কণ্ঠগুলোর সঙ্গে দাঁড়াতে পারা—যারা সত্য, স্বাধীনতা এবং মানবতার পক্ষে কাজ করছেন—এটি আমার জন্য অনুপ্রেরণার।”
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বক্তারা বর্তমান বিশ্বে সাংবাদিকতার সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ, ভুয়া তথ্যের বিস্তার, মতপ্রকাশের ওপর চাপ এবং নির্যাতিত সাংবাদিকদের সুরক্ষার বিষয়গুলো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। বিশেষ করে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল ও স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থায় কর্মরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছিল না; বরং এক ধরনের আন্তর্জাতিক সংহতির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে, যেখানে বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীরা অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং ভবিষ্যতে একযোগে কাজ করার পথ খুঁজে নেন।
উল্লেখ্য, বিশ্ব প্রেস স্বাধীনতা দিবস প্রতি বছর ৩ মে পালিত হয়, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে এবং বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন