https://www.prothomalony.com/

16994

north-america

উত্তর আমেরিকা

জামিল লিমনের প্রথম জানাজা সম্পন্ন, লাশ ৪ মে ঢাকায় পৌঁছাবে

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ ০৫:১৬

আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ট্যাম্পা শহরে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ)-এর দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নৃশংস হত্যাকাণ্ড গোটা বিশ্বের বাংলাদেশি কমিউনিটিকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে। ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা ২টায় ট্যাম্পার ইস্ট স্লাই অ্যাভিনিউয়ের একটি মসজিদে জামিল লিমনের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। লিমনের মরদেহ আগামী ৪ মে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী, নিহত জামিলের খালা, মায়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল, গণমাধ্যমকর্মীসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।

জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি—দুজনেরই বয়স ছিল ২৭ এবং দুজনেই বাংলাদেশ থেকে আসা মেধাবী পিএইচডি গবেষক। লিমন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন এবং বৃষ্টি রসায়ন প্রকৌশলে পিএইচডি গবেষক ছিলেন। পিএইচডি শেষ করে লিমন বাংলাদেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।

গত ১৬ এপ্রিল সকাল থেকে দুজনকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। লিমনকে সকাল ৯টায় ট্যাম্পার অ্যাভেলন হাইটস বুলেভার্ডের বাসায় সর্বশেষ দেখা যায় এবং বৃষ্টিকে সকাল ১০টায় ইউএসএফ ক্যাম্পাসের এনইএস ভবনে। পরের দিন ১৭ এপ্রিল বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে একজন পারিবারিক বন্ধু কাউকে না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশকে জানান এবং মিসিং পারসন রিপোর্ট দায়ের করা হয়।

২৪ এপ্রিল ট্যাম্পা বে-র ওপর হাওয়ার্ড ফ্রাংকল্যান্ড সেতুতে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মরদেহ ভারী ডিউটি ট্র্যাশ ব্যাগে ভরে সেতুর ওপর ফেলে রাখা হয়েছিল। ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, লিমনকে একাধিক ধারালো আঘাতে হত্যা করা হয়, যার মধ্যে পিঠের নিচে একটি গভীর ছুরিকাঘাত তার লিভার ভেদ করে যায়। ২৬ এপ্রিল সেতুর দক্ষিণে আরেকটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা একটি কালো ট্র্যাশ ব্যাগে পাওয়া যায়। ওই ব্যক্তিকে সর্বশেষ সিসিটিভিতে বৃষ্টির পরনের পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়, যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সেটি বৃষ্টির বলে নিশ্চিত করা হয়নি।

একই দিন লিমনের রুমমেট, ২৬ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়াহকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুটি প্রথম ডিগ্রি হত্যার অভিযোগসহ মরদেহ সরানো, মৃত্যু গোপন করা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা, জোরপূর্বক আটকে রাখা এবং মারধরের মোট সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত হত্যাকাণ্ডের আগে অ্যামাজন থেকে ডাক্ট টেপ, ট্র্যাশ ব্যাগ, লাইটার ফুয়েল ও ফায়ার স্টার্টার কিনেছিল এবং চ্যাটজিপিটিতে মরদেহ সরানোর পদ্ধতি খুঁজেছিল। একজন বিচারক তাকে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত জামিনবিহীন আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মোহাম্মদ আরিয়ান উল্লাহ বলেন, পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী ইসলামিক রীতিতে তাদের সম্মান জানানো হচ্ছে। বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত হলে তার জন্যও একই ধরনের জানাজার আয়োজন করা হবে। ১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্মরণসভাও আয়োজন করা হয়েছে।

লিমন ও বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজন ছিলেন। তাদের মৃত্যুতে প্রবাসী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দুটি তরুণ প্রাণের এই অকাল প্রয়াণ পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

বৃষ্টির মরদেহ এখনো উদ্ধার হয়নি। শরীরের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার হওয়ার পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হলেও, এর কোনো রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের কোনো মোটিভ এখনো নিশ্চিত নয়। অভিযুক্তের মানসিক অস্থিরতার বিষয়টি তদন্তসংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি জনমনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। সংশ্লিষ্ট মহল থেকে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া এ ধরনের প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জামিন ছাড়া আটক হিশাম আবুগারবিয়াহ তদন্তে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তকারীরা ঘটনাক্রম ও ফরেনসিক তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযোগ প্রমাণের পর্যায়ে রয়েছেন। তার পক্ষে একজন সরকারি আইনজীবী আদালতে কাজ করছেন। দ্রুতই মামলাটি গ্র্যান্ড জুরির কাছে উপস্থাপন করা হতে পারে। পুরো বিচারপ্রক্রিয়ায় কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফ্লোরিডার আদালতের সাধারণ নিয়মে হিসামকে হাজির না করেই এসব প্রক্রিয়া সম্ভব বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বৃষ্টির মরদেহ শনাক্তের রিপোর্ট এবং হত্যাকাণ্ডের মোটিভ নির্ধারণ। এ বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন