https://www.prothomalony.com/
16966
north-america
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্কে যেন নতুন মাত্রা যোগ করে দিল এক ঐতিহাসিক বংশগত গবেষণা। এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ব্রিটিশ রাজা চার্লস তৃতীয় দূরসম্পর্কের আত্মীয়।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রামাণ্য জীবনীকার রবার্ট হার্ডম্যানের সূত্রে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি মেইল। গবেষণা অনুযায়ী, ট্রাম্প ও রাজা চার্লস উভয়েই ১৬শ শতাব্দীর এক স্কটিশ সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বংশধর। তাঁরা লেনক্সের তৃতীয় আর্ল নামে ওই ব্যারনের মাধ্যমে পরস্পর সম্পর্কিত, যিনি স্কটল্যান্ডের দ্বিতীয় রাজা জেমসের প্রপৌত্র।
বংশতালিকা বিশ্লেষণ করে গবেষকরা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাজা চার্লস পরস্পরের ১৫ তম কাজিন।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন সাবেক ডেইলি মেল গবেষণা সম্পাদক ও বংশাণুবিদ রবার্ট ব্যারেট। তিনি জমির দলিল, গির্জার নথি এবং স্কটিশ অভিজাত আর্কাইভের ভিত্তিতে এই সংযোগ আবিষ্কার করেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, স্কটিশ সম্ভ্রান্ত ওই আর্লের বংশধারা দু'দিকে বিভক্ত হয়। একদিকে ম্যারি, কুইন অব স্কটস-এর স্বামী লর্ড ডার্নলির মাধ্যমে যা পরবর্তীতে ব্রিটিশ রাজপরিবার তথা হাউস অব উইন্ডসরে গিয়ে পৌঁছায়।
অপর দিকে লেনক্স লাইনের লেডি হেলেনের মাধ্যমে বংশ বিস্তার ঘটে। তিনি সাদারল্যান্ড পরিবারে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরবর্তীতে তাদের উত্তরসূরি ডোনাল্ড ম্যাককে অবশেষে আমেরিকায় পাড়ি জমান মেরি অ্যান ম্যাকলিওড নামে এক নারীর মাধ্যমে। এই মেরি অ্যান ম্যাকলিওড আর কেউ নন, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মা। তিনি ১৯৩০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসিত হন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পিতা ফ্রেড ট্রাম্পকে বিবাহ করেন।
মজার ব্যাপার হলো, এই একই বংশসূত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ রাজা জর্জ তৃতীয়রও আত্মীয় হন। যে রাজার আমলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্ম (১৭৭৬ সালে স্বাধীনতা লাভ) হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দেরিতে আবিষ্কৃত এই আত্মীয়তার সম্পর্কের আগেই স্বর্গীয় রানি এলিজাবেথ ও বর্তমান রাজা চার্লসের প্রতি ট্রাম্পের বাড়তি আগ্রহ ও শ্রদ্ধা ছিল। ২০১৮ সালে রানির সাথে তার সাক্ষাৎ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় স্থায়ী হয়েছিল। ট্রাম্প রাজা চার্লসের প্রশংসা করে বলেছেন, 'তিনি চমৎকার, তিনি খুব কঠোর লড়াই করেছেন। তিনি লড়াকু মানুষ। আমাদের মধ্যে সম্পর্ক খুবই ভালো।'
ঐতিহাসিক কাকতালীয়ভাবে, যুক্তরাষ্ট্র এই বছর তাদের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করছে। আর এই আবিষ্কার হলো ঠিক সেই সময়েই, যখন ইংল্যান্ড ও আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্ককে আর 'বিশেষ সম্পর্ক' না বলে 'অনন্য জোট' বলে অভিহিত করতে শুরু করেছেন ব্রিটিশ কর্মকর্তারা।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন