https://www.prothomalony.com/
16903
north-america
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ০২:১৭
স্বপ্ন নিয়ে আমেরিকায় এসেছিলেন, ফিনান্স পড়বেন, ক্যারিয়ার গড়বেন, আমেরিকান স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল আইস'এর আটক কেন্দ্রের ঠান্ডা দেওয়ালের মধ্যে। ইলিনয়ের ২৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি ছাত্র জয়তু চৌধুরী গত ২৬ ফেব্রুয়ারি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে গেছেন — মাসের পর মাস আইস ডিটেনশন কেন্দ্রে আটকে থেকে যা বললেন তা হলো, "আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম।"
জয়তু চৌধুরীর আমেরিকার পথ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বরে। এফ-ওয়ান ভিসায় ইলিনয় ওয়েসলেয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিনান্সে মেজর এবং কম্পিউটার সায়েন্সে মাইনর নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু ২০২৫ সালের আগস্টে তার ভিসার মর্যাদা বাতিল হয়ে যায়। কারণ হিসেবে দেখানো হয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন এবং পূর্বে একটি ডিইউআই অর্থাৎ মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো ও রিটেইল চুরির মামলা। এরপর ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর আইস তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর জয়তুকে একাধিক আইস আটক কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি ছিল "অত্যন্ত কঠিন ও অমানবিক।" স্বাস্থ্যসেবা ছিল অপ্রতুল এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। প্রথম দিকে তিনি সংকল্পবদ্ধ ছিলেন — মামলা লড়বেন, আমেরিকান নাগরিক স্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন। কিন্তু মাসের পর মাস আটকে থেকে মানসিক ও আবেগিক চাপে তিনি ধীরে ধীরে ভেঙে পড়েন। শেষ পর্যন্ত মনে হলো আর কোনো পথ নেই। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যান।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জয়তুর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ডিএইচএস দাবি করেছে, আইস আটক কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে এবং মৌলিক মান বজায় রাখা হয়। যে বিষয়ে জয়তু দাবি করেছিলেন নিজের টাকায় ফিরেছেন, সেটাও সরকার অস্বীকার করেছে। ডিএইচএস বলেছে, আইস তার জন্য একটি টিকিট কিনেছিল যাতে পাসপোর্টের প্রয়োজন হয়নি এবং তার কোনো খরচ হয়নি। এই সরকারি বক্তব্য ও জয়তুর বিবরণের মধ্যে মৌলিক বিরোধ থেকেই যাচ্ছে।
এখন বাংলাদেশে ফিরে জয়তু চৌধুরীর জীবন মোটেও সহজ নয়। আমেরিকান স্ত্রী রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সংসার আলাদা হয়ে গেছে সীমানার কাঁটাতারে। যে স্বপ্ন নিয়ে ২০২১ সালে আটলান্টিক পাড়ি দিয়েছিলেন, সেই স্বপ্ন এখন শুধু স্মৃতি।
জয়তুর ঘটনা একটি বৃহত্তর বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রয়োগে ব্যাপক কড়াকড়ি চলছে এবং একের পর এক বিতর্কিত গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে। টেক্সাসের দীর্ঘদিনের আদালত দোভাষী মিনু বাত্রার আটকসহ অনেক ঘটনা রাজনৈতিক নিন্দার ঝড় তুলেছে। অধিকার কর্মীরা বলছেন, জয়তুর মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে আটক কেন্দ্রের পরিবেশ মানুষকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে বাধ্য করার একটি কার্যকর কৌশল হয়ে উঠছে — যা মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক।
আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে এই সংবাদ ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা বা কাজ করছেন। ভিসা জটিলতা, পুরোনো মামলা বা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তনের মতো সাধারণ কারণেও এখন গ্রেপ্তারের মুখে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। জয়তুর গল্প তাদের জন্য একটি সতর্কসংকেত বলে অনেকেই মনে করছেন।
#
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন