https://www.prothomalony.com/
16877
north-america
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৪:১৪
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি খ্রিষ্টানদের অন্যতম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশন ইনক (বিসিএ)-এর উদ্যোগে গত ১২ এপ্রিল সিলভার স্প্রিং-এ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক ‘ইস্টার পুনর্মিলনী ও বৈশাখী উৎসব ২০২৬’। রসকো নিক্স এলিমেন্টারি স্কুল প্রাঙ্গণে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় চার শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশির মিলনমেলায় যেন এক টুকরো বাংলাদেশ ফুটে ওঠে।
বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রেগ উইম্স এবং মন্টগোমারি কাউন্টির কর্মকর্তা আনিস আহমেদ। শোভাযাত্রা শেষে সাংগঠনিক পর্ব সঞ্চালনা করেন বিসিএ’র সেক্রেটারি বিভাস রোজারিও। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও প্রার্থনার মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়।

বিসিএ’র সভাপতি বিপুল এলিট গনছালভেস ইস্টার ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে যিশু খ্রিষ্টের শিক্ষা অনুসরণের আহ্বান জানান। ডেলিগেট গ্রেগ উইম্স তাঁর বক্তব্যে মেরিল্যান্ডের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী খাবার। অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ ঘর থেকে নানা ধরনের খাবার নিয়ে এসে আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন। পাশাপাশি ছিল ঝালমুড়ি ও চানাচুরের আয়োজন। শিশুদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘ইস্টার বানি’, যা তাদের মাঝে বাড়তি আনন্দ যোগ করে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিল অ্যাট-লার্জ পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রেদোয়ান চৌধুরী এবং জেরেমিয়া পোপ। বিসিএ রেদোয়ান চৌধুরীর প্রার্থিতাকে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক সম্পাদক জীবন পেরার তত্ত্বাবধানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। লিমা কোড়াইয়া, কাজুরি রোজারিও ও কেনি পিউরিফিকেশনের সঞ্চালনায় শুরু হওয়া এ আয়োজনে দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন বিসিএ শিল্পীবৃন্দ। তবলায় ছিলেন ড. পল ফেবিয়ান গমেজ।
অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের পরিবেশনায় গান, নৃত্য ও কৌতুক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। নৃত্যশিল্পী গ্লোরিয়া রোজারিওর পরিচালনায় মঞ্জুরি নৃত্যালয় এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী রোজমেরি মিতু রিবেরোর পরিচালনায় সৃষ্টি নৃত্যাঙ্গনের পরিবেশনা ছিল বিশেষ আকর্ষণ। পাশাপাশি পংকজ ও দীপিকার দ্বৈত কৌতুক, শীতল পেরেরার একক কৌতুক এবং রুমা গমেজের রম্য সংবাদ পাঠ দর্শকদের আনন্দ দেয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পূজা পালমার কোরিওগ্রাফিতে এবং জিনিয়া গনছালভেসের পরিকল্পনায় বয়োজ্যেষ্ঠদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ।
র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠানে ১৫টিরও বেশি আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়। গ্র্যান্ড পুরস্কার হিসেবে ঢাকা-বাংলাদেশ বিমান টিকিট প্রদান করা হয়, যা স্পনসর করেন এলবার্ট গমেজ, এথান গমেজ এবং তৌফিক মতিন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফাদার সুবাস কস্তা, বিসিএ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জুড ভি. গমেজসহ সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ।
শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি আনন্দমুখর হয়ে ওঠে। রাতের আহারে ছিল ইলিশ মাছসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি ইস্টার ও বৈশাখ একসঙ্গে উদযাপনের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে বিসিএ’র ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডেনিস ডমিনিক রোজারিও সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। শেষে ফাদার সুবাস কস্তার সমাপনী আশীর্বাদের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন