https://www.prothomalony.com/
16800
north-america
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:৪১
ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হওয়ার পরও ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক উত্তেজনা থামছে না — বরং নতুন রূপ নিচ্ছে। ৭০ জনেরও বেশি ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য এখন সরাসরি দাবি তুলছেন ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার — কেউ ইমপিচমেন্টের কথা বলছেন, কেউ বলছেন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর কথা। কারণ একটাই — ইরানের "পুরো সভ্যতা ধ্বংস" করার হুমকি, যা অনেকের কাছে গণহত্যার হুমকির সামিল।
ডেলাওয়্যারের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সারা ম্যাকব্রাইড সরাসরি বললেন, "একজন প্রেসিডেন্ট মার্কিন সামরিক বাহিনী দিয়ে গণহত্যার হুমকি দিতে পারেন না। যুদ্ধাপরাধের হুমকি ও মানবজীবনের প্রতি এই অবহেলার আইনি জবাব দিতে হবে। ট্রাম্পকে যেতে হবে।" নিউজার্সির সিনেটর অ্যান্ডি কিম একটি ভিডিও ক্লিপে বললেন, ট্রাম্প "কমান্ডার ইন চিফ হওয়ার যোগ্য নন।" তিনি রিপাবলিকান সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে বললেন, "ইমপিচমেন্ট শুরু হয় হাউসে, আর মাইক জনসনের রাতারাতি মেরুদণ্ড গজাবে বলে আমি আশা করি না। ট্রাম্পের অনুগতরা দেশের আইন বা সংবিধানের চেয়ে নিজেদের আসন রক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেন।"
মিশিগানের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি থানেদার আরও একধাপ এগিয়ে সরাসরি ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ও ক্যাবিনেট সদস্যদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন — ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে ট্রাম্পকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে। কানেক্টিকাটের প্রতিনিধি জন লার্সন মঙ্গলবারই ইরান সংঘাতকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব দাখিল করেছেন। সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ক্যাবিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য যদি প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব পালনে "অক্ষম" ঘোষণা করেন, তাহলে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। এবং ইমপিচমেন্টের জন্য হাউসে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ও সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট দরকার।
কিন্তু এই সব দাবির পেছনে একটি কঠিন বাস্তবতা আছে — ভোট নেই। হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিস বৃহস্পতিবার "মর্নিং জো"-তে বললেন, ইমপিচমেন্ট বা ২৫তম সংশোধনীর বিষয়ে "কিছু বাদ দিইনি, কিছু নিশ্চিতও করিনি।" সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক শুমারও সরাসরি ট্রাম্পকে সরানোর দাবিতে সায় দেননি। নিউইয়র্কের প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস একদম পরিষ্কার করে বললেন, "এই ব্যবসায় ভোট গণনা করতে হয়। রিপাবলিকানরা হাউস, সিনেট ও প্রেসিডেন্সি সব নিয়ন্ত্রণ করছে — তারা যখন ওভারসাইট হিয়ারিংও করবে না, তখন ইমপিচমেন্ট কোথা থেকে হবে?"
ডেমোক্র্যাটিক নেতারা তাই আপাতত অন্য পথে হাঁটছেন। যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাব — ওয়ার পাওয়ার রেজোলিউশন — পাস করিয়ে ইরানে ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করছেন। বৃহস্পতিবার হাউসে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, তবে জেফ্রিস বলেছেন শিগগিরই আবার ভোট হবে। শুমার জানিয়েছেন, সিনেটে আগামী সপ্তাহে এই প্রস্তাবে ভোট হবে। হাউস নেতৃত্ব আশাবাদী যে গত দুই সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ কিছু রিপাবলিকানকেও এই প্রস্তাবের পক্ষে আনতে পারবে।
তবে অনেক ডেমোক্র্যাট স্পষ্টভাবে মেনে নিচ্ছেন যে এই মুহূর্তে ট্রাম্পকে সরানো সম্ভব নয়। পেনসিলভানিয়ার প্রতিনিধি ম্যাডেলিন ডিন বললেন, "আমি জানি সে অসংখ্য গুরুতর অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার যোগ্য। কিন্তু এখন ইমপিচমেন্ট আমাদের সময়ের সেরা ব্যবহার নয়। আগে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আনতে হবে — তারপর এই প্রেসিডেন্টকে জবাবদিহি করানো যাবে।" মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাউস ও সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেবেন বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মাঝেই ট্রাম্প নিজেও বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ইরান হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধবিরতির শর্ত পুরোপুরি মানছে না। পাকিস্তানে ইসলামাবাদ আলোচনায় ভ্যান্সের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। অর্থাৎ একদিকে দেশের ভেতরে ইমপিচমেন্টের দাবি, অন্যদিকে বাইরে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির টানাপোড়েন — ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ এই মুহূর্তে তার সবচেয়ে জটিল অধ্যায়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন