https://www.prothomalony.com/

16791

north-america

উত্তর আমেরিকা

ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের কিক-অফ

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:০৪

উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের বৃহৎ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা)-এর ৪০তম কনভেনশন ২০২৬ উপলক্ষে কিক-অফ অনুষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডোতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩ এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় কিসিমির ‘হলিডে ইন রিসোর্ট, বাই দ্যা পার্ক’-এ এ কিক-অফ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মুরাদ হোসেন। এরপর এ কে এম হোসাইন হিটুর পরিচালনায় সমবেত কণ্ঠে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। শুরুতেই ফোবানার জন্মলগ্ন থেকে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী সদস্যদের স্মরণে এবং ফোর্ট মায়ার্সে দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত নিলুফার ইয়াসমিনের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি নিহাল রহিম ৪০তম কনভেনশনের হোস্ট কমিটি ঘোষণা করেন। এতে আনোয়ার হোসেন সেন্টুকে কনভেনর, রাসেল মিয়াকে মেম্বার সেক্রেটারি এবং মো. নাজিম উল্লাহ লিটনকে চিফ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিক-অফ সভায় সভাপতিত্ব করেন আনোয়ার হোসেন সেন্টু এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রাসেল মিয়া।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফোবানার এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন, বোর্ড অব ডিরেক্টর আতিকুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান জিয়াউল হক জিয়া এবং এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য সাহেদুল ইসলাম অঞ্জন। গেস্ট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তারিন জাহান।

সভাপতির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন সেন্টু উপস্থিত সবাইকে কিক-অফ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, লেবার ডে উইকএন্ডে আয়োজিত ফোবানা কনভেনশনে সবাই স্বপরিবারে অংশ নিয়ে অনুষ্ঠানকে সফল করবেন এবং কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সবাইকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

গেস্ট স্পিকার তারিন জাহান বলেন, বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও কৃষ্টি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ফোবানা শুরু থেকেই প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করে আসছে এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম।

ফোবানার এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন বলেন, ফোবানা শুধু উৎসব আয়োজনই করে না, বরং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রাখে। উত্তর আমেরিকার যেখানেই বাংলাদেশিরা সমস্যার সম্মুখীন হন, ফোবানা তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে।

বোর্ড অব ডিরেক্টর আতিকুর রহমান বলেন, ফোবানা মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসহায়তা প্রদান করে থাকে। তিনি জানান, ফোর্ট মায়ার্সে নিহত নিলুফার ইয়াসমিনের পরিবারকেও সংগঠনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এবারের কনভেনশনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে ফোবানার চার দশকের গৌরবময় যাত্রা উদযাপন করা হবে।

এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি নিহাল রহিম বলেন, ফোবানা প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিচয়, ঐক্য ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। এই কনভেনশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ভাইস চেয়ারম্যান জিয়াউল হক জিয়া বলেন, ফোবানা যেহেতু উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বড় বাংলাদেশি সংগঠন, তাই তাদের দায়িত্বও বেশি। এজন্য যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করেন, সেসব অঞ্চল থেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার নীতি নেওয়া হয়েছে।

এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য সাহেদুল ইসলাম অঞ্জন বলেন, নিউইয়র্কের পর ফ্লোরিডায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশির বসবাস রয়েছে। তাই এখানে নিয়মিতভাবে ফোবানা কনভেনশন আয়োজন করা প্রয়োজন।

ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কনভেনর এ কে এম হোসাইন হিটু বলেন, তারা চান ফ্লোরিডায় এবারের ফোবানা কনভেনশন এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় আয়োজন হোক এবং সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

চিফ কো-অর্ডিনেটর মো. নাজিম উল্লাহ লিটন বলেন, শুরু থেকেই তারা ফ্লোরিডার সব সংগঠনকে একত্র করে একটি সফল সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছেন এবং ইতোমধ্যে অনেক সংগঠনকে একত্র করতে পেরেছেন, যা তাদের জন্য একটি বড় অর্জন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার সভাপতি এ কে এম হোসাইন রোমেল, অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়ার্ল্ড ফেয়ার অ্যান্ড ফেস্টের সভাপতি তারেক মাহমুদ, সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা স্পোর্টস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাহার হোসেন এবং কনভেনশন কমিটির নির্বাহী সদস্য মুরাদ হোসেন।

এ বছর ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের আয়োজক বাংলাদেশ সমিতি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা। সহকারী আয়োজক হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা, অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়ার্ল্ড ফেয়ার অ্যান্ড ফেস্ট ইউএসএ ইনক এবং সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা স্পোর্টস ক্লাব ইনক।

আয়োজকরা জানান, এবারের কনভেনশনে ফোবানার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সাহিত্য ও কবিতা আসর, ইয়ুথ ফোরাম, ট্যালেন্ট শো, ফোবানা স্কলারশিপ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, সেমিনার, কমিউনিটি নেতৃত্ব বিষয়ক মতবিনিময়, ব্যবসা ও বিনিয়োগ বিষয়ক নেটওয়ার্কিং সেশনসহ নানা আয়োজন থাকবে। এছাড়া “নজরুল: সাহস, স্বপ্ন ও মুক্তির আলোক” শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হবে।

কনভেনশনে আমন্ত্রিত তারকা শিল্পীদের মধ্যে থাকছেন অভিনেত্রী তারিন জাহান, সাজু খাদেম, পরীমনি, মাহিয়া মাহি, নুসরাত ফারিয়া ও শ্রাবন্তী দত্ত তিন্নি। সংগীত পরিবেশন করবেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ইমরান, কনা, লিজা, প্রতিক হাসান ও আরজিন কামালসহ আরও অনেকে।

কিক-অফ অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করেন মিজানুর রহমান বাচ্চু (ইউএস বাচ্চু), নাজনিন আক্তার, সামির মাহমুদ, জারার মাহমুদ, সৈয়দ মিলু ও নাজিম উদ্দিন।

কিক-অফ মিটিংয়ের পরদিন ফোবানার এক্সিকিউটিভ কমিটি ও হোস্ট কমিটির নেতৃবৃন্দ কনভেনশনের ভেন্যু পরিদর্শন করেন এবং হোটেলের সুবিধা সম্পর্কে অবগত হন। আয়োজকরা জানান, ভেন্যুর পাশে পর্যাপ্ত পার্কিং, মূল হলের পাশে তিনটি সেমিনার রুম, রেজিস্ট্রেশন রুম এবং ভেন্ডরদের জন্য প্রদর্শনী স্থানের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া ভেন্যুটি ডিজনি ওয়ার্ল্ডের নিকটবর্তী হওয়ায় অংশগ্রহণকারীরা কনভেনশনের পাশাপাশি পর্যটনের সুযোগও পাবেন।

এদিকে কনভেনশন উপলক্ষে বিভিন্ন স্পনসরশিপ প্যাকেজও ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টাইটেল স্পনসরশিপ ২৫ হাজার ডলার, গ্র্যান্ড স্পনসরশিপ ২০ হাজার ডলার, ডায়মন্ড স্পনসরশিপ ১৫ হাজার ডলার, প্লাটিনাম স্পনসরশিপ ১০ হাজার ডলার, গোল্ড স্পনসরশিপ ৮ হাজার ডলার, সিলভার স্পনসরশিপ ৫ হাজার ডলার, ব্রোঞ্জ স্পনসরশিপ ৩ হাজার ডলার, অ্যাম্বাসেডর প্যাকেজ ১০ হাজার ডলার, ফোবানা আইকন প্যাকেজ ৫ হাজার ডলার এবং ভিআইপি স্পনসরশিপ প্যাকেজ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ ডলার।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, উত্তর আমেরিকার পাশাপাশি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কমিউনিটি লিডার, পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, সাংস্কৃতিক কর্মী ও তরুণ নেতৃত্বের অংশগ্রহণে এবারের ফোবানা কনভেনশন একটি স্মরণীয় আন্তর্জাতিক মিলনমেলায় পরিণত হবে।
 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন