https://www.prothomalony.com/
16782
north-america
যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। সময়সীমার ঠিক আগে রিটার্ন পাঠালে পোস্টমার্ক দেরিতে পড়ার কারণে অনেক করদাতার রিটার্ন সময়মতো জমা না হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল ট্যাক্স জমার শেষ দিন হিসেবে ধরা হয়। তবে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা-আইআরএস পোস্টমার্কের তারিখকে ভিত্তি হিসেবে গণ্য করে। অর্থাৎ ওই তারিখের মধ্যে পোস্টমার্ক থাকলে রিটার্ন সময়মতো জমা হয়েছে বলে বিবেচিত হয়। যদিও তা কয়েকদিন পর আইআরএসের হাতে পৌঁছায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ডাক বিভাগে চলমান অপারেশনাল পরিবর্তনের কারণে পোস্টমার্ক দেওয়ার সময় ও ডাক গ্রহণের সময়ের মধ্যে ব্যবধান বেড়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে যেখানে চিঠি জমা দেওয়ার দিনেই পোস্টমার্ক পড়ে যেত, এখন অনেক ক্ষেত্রে চিঠি ডাকঘরে জমা দেওয়ার পর সেটি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর পোস্টমার্ক দেওয়া হচ্ছে। ফলে করদাতারা যে দিন চিঠি জমা দিচ্ছেন, সেটি পোস্টমার্কে প্রতিফলিত না-ও হতে পারে।
ডাক ব্যবস্থায় এই পরিবর্তনের ফলে বিশেষ করে যারা সময়সীমার শেষ মুহূর্তে রিটার্ন পাঠান, তাদের জন্য ঝুঁকি আরও বেড়েছে। পোস্টমার্কে একদিন দেরি হলেই সেটি আইআরএসের কাছে বিলম্বিত ফাইলিং হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং এর ফলে জরিমানা ও সুদ আরোপ হতে পারে।
আইআরএসের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ট্যাক্স রিটার্নে দেরি হলে প্রতি মাসে বা আংশিক মাসে ৫ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। যা সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি বকেয়া করের ওপর প্রতি মাসে ০.৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত জরিমানা এবং দৈনিক ভিত্তিতে সুদ আরোপ করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে ডাকযোগে ট্যাক্স রিটার্ন পাঠানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া জরুরি। ডালাসভিত্তিক কর বিশেষজ্ঞ জোশুয়া ইয়াংব্লাড জানান, করদাতারা প্রায়ই ধরে নেন যে তারা যেদিন চিঠি ডাকঘরে ফেলেন, সেটিই পোস্টমার্কের তারিখ। কিন্তু বাস্তবে তা নিশ্চিত নয়।
ঝুঁকি কমাতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি বিকল্প পদ্ধতির পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো ডাকঘরের কাউন্টারে গিয়ে হাতে পোস্টমার্ক করানো, যা বিনামূল্যে করা যায়। এতে চিঠি জমা দেওয়ার সঠিক তারিখ নিশ্চিতভাবে নথিভুক্ত হয়।
এছাড়া সার্টিফায়েড মেইল ব্যবহার করাও একটি নিরাপদ উপায়। যেখানে প্রেরণের প্রমাণ ও ট্র্যাকিং সুবিধা পাওয়া যায়। এটি তুলনামূলকভাবে নির্ভরযোগ্য এবং সময়সীমা মেনে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে অনেক করদাতা ইলেকট্রনিক ফাইলিং বা অনলাইন মাধ্যমে ট্যাক্স জমা দিচ্ছেন। তবুও এখনও কয়েক মিলিয়ন মানুষ ডাকযোগে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেন। বিশেষ করে যারা প্রযুক্তিগত সুবিধার বাইরে বা কাগজভিত্তিক প্রক্রিয়া পছন্দ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাক ব্যবস্থার এই পরিবর্তন করদাতাদের আচরণেও প্রভাব ফেলছে। সময়মতো ফাইলিং নিশ্চিত করতে এখন আগে থেকেই পরিকল্পনা করা, বিকল্প ফাইলিং পদ্ধতি ব্যবহার করা এবং শেষ মুহূর্তে ডাকের ওপর নির্ভর না করাই সবচেয়ে নিরাপদ কৌশল।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন