https://www.prothomalony.com/

16747

north-america

উত্তর আমেরিকা

সংঘাতের নতুন মোড়: পাইলট উদ্ধার ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:০৭

ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভূপাতিত একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের পাইলটকে রুদ্ধশ্বাস অভিযানে জীবিত উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে চলমান সংঘাতে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসিক উদ্ধার মিশন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গত শুক্রবার ইরানের আকাশে উড্ডয়নের সময় মার্কিন এফ-১৫ই জেট বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন ওই পাইলট। প্রাথমিকভাবে একজন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা গেলেও দ্বিতীয় পাইলটকে খুঁজে পেতে শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি। দুই দিন ধরে চলা এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই মরিয়া হয়ে ওঠে। ইরান সরকার সাধারণ জনগণের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে পাইলটকে ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

অবশেষে রোববার এক ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযানে ইরানের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই পাইলটকে উদ্ধার করা হয়। মার্কিন বাহিনীর এই অভিযান চলাকালে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাও ঘটে, যেখানে উভয় পক্ষের ক্ষয়ক্ষতির দাবি উঠেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা মার্কিন বাহিনীর একাধিক বিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে, যদিও এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্ধার অভিযান কেবল একটি সামরিক সাফল্যই নয়, বরং কৌশলগত দিক থেকেও তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন মার্কিন পাইলট যুদ্ধবন্দী হিসেবে আটক হলে তা ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত। সেই ঝুঁকি এড়ানোয় ট্রাম্প প্রশাসন এখন আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনার ফলে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে। ইতোমধ্যে ট্রাম্প ইরানকে চুক্তিতে আসার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ব্যর্থ হলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিশেষ করে ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

এই সংঘাত ইতোমধ্যে ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে হাজারো মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এটি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

সব মিলিয়ে, পাইলট উদ্ধারের এই দুঃসাহসিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও, একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন নজর রাখছে—এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুলে দেয়, নাকি আরও বড় সংঘর্ষের সূচনা করে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন