https://www.prothomalony.com/

16601

north-america

উত্তর আমেরিকা

দশম বারের মতো নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে \'বাংলাদেশ ডে\' — রেজুলেশন পাস হলো সর্বসম্মতিক্রমে

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ ০৩:০৩

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেটের রাজধানী আলবেনিতে সোমবার, ২৩ মার্চ, দশমবারের মতো পালিত হলো 'বাংলাদেশ ডে'। নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবসকে সম্মান জানিয়ে এই দিনটি উদযাপন করা হয়। বিকেল সাড়ে তিনটায় সিনেট অধিবেশনে 'বাংলাদেশ ডে' রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় — গ্যালারিতে বসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলেন শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি। 

দিনটির শুরু হয়েছিল সেই ভোরের ব্যস্ততায়। সকাল সাড়ে আটটায় ব্রঙ্কসের বাংলাবাজার এলাকার ইউনিয়নপোর্ট রোড থেকে একটি বাস ও দুটি প্রাইভেট কার রওনা হয় আলবেনির উদ্দেশে। বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ সেখানে পৌঁছান প্রায় বেলা এগারোটায়। এরপর সিনেটর লুইস সেপুলভেদা ও সিনেটর ন্যাথালিয়া ফার্নান্ডেজকে সঙ্গে নিয়ে অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি 'বাংলাদেশ ডে' ব্যানার হাতে সিনেট ভবন এলাকায় একটি সংক্ষিপ্ত শোভাযাত্রায় অংশ নেন। ভবনের লবির সামনে ফটোসেশনেও যোগ দেন দুই স্টেট সিনেটর এবং ব্রঙ্কস থেকে নির্বাচিত অ্যাসেম্বলিওম্যান ক্যারীনেস রেইস।

মধ্যাহ্নভোজ শেষে সিনেট ভবনের ফ্লোরে বাংলাদেশি কমিউনিটির সম্মানে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন সিনেটর লুইস সেপুলভেদা, সিনেটর ন্যাথালিয়া ফার্নান্ডেজ, সিনেটর জন ল্যু ও অ্যাসেম্বলিওম্যান ক্যারীনেস রেইস। বিভিন্নজনকে সম্মাননা দেওয়া হয়, এরপর মঞ্চে ওঠেন বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস-বাফার শিল্পীরা — জাতীয় সঙ্গীতসহ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অনুষ্ঠানে যোগ হয় ভিন্ন মাত্রা।

সাংস্কৃতিক পর্ব শেষে ইভেন্ট কমিটির আহ্বায়ক মো. শামিম মিয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উদযাপন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা আবদুস শহীদ, চেয়ারম্যান জুনেদ আহমেদ চৌধুরী, কো-চেয়ারম্যান রোকন হাকীম ও সামাদ মিয়া জাকারিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক শামিম আহমেদ, প্রধান সমন্বয়কারী আবদুর রহিম বাদশা, কমিটির মুখপাত্র ইমরান শাহ রন, সদস্য সচিব এ ইসলাম মামুন, যুগ্ম সদস্য সচিব রেজা আব্দুল্লাহ, উপদেষ্টা সাখাওয়াত আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুর আহমেদ, এডভোকেট রেদওয়ানা রাজ্জাক ও সরাফত আলী পাটোয়ারী মাস্টার, সমন্বয়কারী নুরুল ইসলাম মিলন ও মুনতাসিম বিল্লাহ তুষার, সদস্য জামাল আহমদ এবং সাদিকুর রহমান।

বিকেলের অধিবেশনে রেজুলেশনটি উত্থাপন করেন সিনেটর ন্যাথালিয়া ফার্নান্ডেজ। বিলে তিনি ১৯৭১ সালের মার্চে 'অপারেশন সার্চলাইট'-এর নামে চালানো গণহত্যার কথা তুলে ধরেন, মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে বাংলাদেশিদের আত্মত্যাগ এবং পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে মা-বোনদের সম্ভ্রমহানির ইতিহাস সবিস্তারে উপস্থাপন করেন। আলোচনায় অংশ নেন সিনেটর লুইস সেপুলভেদা, সিনেটর জন ল্যু, সিনেটর জেসিকা রামোস, সিনেটর রবার্ট জ্যাকসনসহ আরও কয়েকজন। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়াকে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। আলোচনা শেষে রেজুলেশনটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

এই উদযাপনের শিকড় চৌদ্দ বছর আগে। ২০১২ সালের ২৪ মার্চ নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে প্রথমবার 'বাংলাদেশ ডে' বিলটি পাস হয়। ব্রঙ্কস থেকে নির্বাচিত তৎকালীন সিনেটর রুবিন ডিয়াজ বিলটি উত্থাপন করেন এবং মাত্র বিশ মিনিটের মধ্যে তা সর্বসম্মতভাবে পাস হয়ে যায়। সেই রেজুলেশন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন অ্যাটর্নি লুইস সেপুলভেদা — যিনি এখন নিজেই সিনেটর এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে 'লুইস ভাই' নামে পরিচিত।

গল্পটা শুরু হয়েছিল ব্রঙ্কসের একটি রেস্তোরাঁয়। বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস ও বাংলাদেশি কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগে ২০১২ সালে বাংলাদেশের ৪১তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সেই অনুষ্ঠানে প্রয়াত কমিউনিটি সংগঠক জাকির খানের আমন্ত্রণে এসেছিলেন রুবিন ডিয়াজ ও লুইস সেপুলভেদা। বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের তৎকালীন সভাপতি মোহাম্মদ এন মজুমদারের সভাপতিত্বে সেই সভায় বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কসের তখনকার সভাপতি মাহবুব আলমের প্রস্তাবনায় 'বাংলাদেশ ডে' পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই ছোট সিদ্ধান্তটি আজ দশ বছরের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে — প্রতি বছর আলবেনির সিনেট ভবনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা একটু হলেও উড়ে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন