https://www.prothomalony.com/

16583

north-america

উত্তর আমেরিকা

ট্রাম্পের দাবি আলোচনা চলছে, ইরান বলছে কোনো কথাই হয়নি 

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬ ০৩:৪৭

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখন এক অদ্ভুত মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। একদিকে ট্রাম্প বলছেন দুই দেশের মধ্যে "অত্যন্ত ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা" হয়েছে, অন্যদিকে ইরান সরাসরি বলছে — যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনাই হয়নি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কিছুই নয়। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যেই সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা দিলেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হচ্ছে।

২৩ মার্চ সোমবার সকালে নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বড় হাতের অক্ষরে ট্রাম্প লেখেন, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের "সম্পূর্ণ ও পরিপূর্ণ সমাধান" নিয়ে "অত্যন্ত ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা" হয়েছে এবং এই আলোচনার ধারা ও স্বর বিবেচনা করে তিনি সামরিক বিভাগকে পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে সব ধরনের হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প আরও জানান, ইরান "চুক্তি করতে চায়" এবং মার্কিন দূতরা তেহরানের একজন "সম্মানিত" নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন — যদিও তিনি স্পষ্ট করেন এটি সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনির সঙ্গে নয়।

কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি সোমবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করার পর থেকে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তেহরানের কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি। তিনি অবশ্য স্বীকার করেন যে কিছু বন্ধুপ্রতিম দেশ সম্প্রতি ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আলোচনার আগ্রহ জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছে এবং সেগুলোর জবাব দেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালি এবং যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে ইরানের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে মিশর, পাকিস্তান, তুরস্ক ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন। মধ্যস্থতার সঙ্গে পরিচিত এক সূত্র জানিয়েছেন, "মধ্যস্থতা চলছে এবং এগিয়ে যাচ্ছে — যুদ্ধ বন্ধ ও সব অমীমাংসিত বিষয় সমাধানের আলোচনা চলছে।"

লেবাননের পরিস্থিতিও সোমবার আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলি বাহিনী লিতানি নদীর উপর কাসিমিয়া সেতু উড়িয়ে দিয়েছে, যা দক্ষিণ লেবানন থেকে বের হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন, যিনি নিজে একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা, এই ঘটনাকে "স্থল অভিযানের পূর্বপ্রস্তুতি" বলে আখ্যায়িত করেছেন।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল সোমবার সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি "অত্যন্ত গুরুতর" এবং এটি ১৯৭০-এর দশকের দুটি জ্বালানি সংকট ও ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কার চেয়েও খারাপ। হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম চড়া রয়েছে এবং এশিয়ার অনেক দেশে রান্নার গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে।

ট্রাম্পের ঘোষণায় অবশ্য আর্থিক বাজার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম একলাফে ৬ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

চীনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, "যে গিঁট বেঁধেছে, তাকেই সেটা খুলতে হবে।" তিনি বলেন আলোচনা যখন চলছিল তখন হঠাৎ করে হামলা শুরু করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেস্তে দেওয়া হয়েছে — যা শান্তি চাওয়া সবাইকে গভীরভাবে হতাশ করেছে।

এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরানে নিহত হয়েছেন এক হাজার দুইশোর বেশি, লেবাননে এক হাজারের বেশি এবং ইসরায়েলে পনেরোজন। মার্কিন তেরোজন সেনা এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন।

পাঁচ দিনের এই কূটনৈতিক জানালা এখন খোলা। কিন্তু ট্রাম্পের দাবি আর তেহরানের অস্বীকৃতির মাঝখানে সত্যিটা কোথায় — সেটা স্পষ্ট হবে আগামী কয়েক দিনেই।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন