https://www.prothomalony.com/
16551
north-america
ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ন্যাটো জোটের দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মিত্র দেশের সহায়তা প্রয়োজন নেই।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, “আমাদের খুব বেশি সাহায্যের প্রয়োজন নেই, আসলে কোনো সাহায্যই দরকার নেই।” ন্যাটো দেশগুলো সামরিকভাবে পাশে না দাঁড়ানোয় তিনি বিস্মিত নন বলেও জানান। ট্রাম্প বলেন, তিনি চাইলে জোটভুক্ত দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারতেন, তবে তা করেননি। “আমি যদি জোর দিতাম, হয়তো তারা সাহায্য করত। কিন্তু আমাদের সাহায্য দরকার নেই,” বলেন তিনি।
ন্যাটো নেতাদের উদ্দেশে সতর্ক বার্তাও দেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, “ন্যাটো একটি বড় ভুল করছে। অনেক দিন ধরেই আমি ভাবছি, কোনো সংকটে ন্যাটো আদৌ আমাদের পাশে থাকবে কি না।”
মিডিয়া ব্রিফিংয়ের কিছুক্ষণ আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর শত শত বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কিন্তু প্রয়োজনের সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করে না। তাঁর ভাষায়, “ন্যাটো অনেকটা একমুখী সড়কের মতো—আমরা তাদের রক্ষা করি, কিন্তু তারা আমাদের জন্য কিছুই করে না।”
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর ন্যাটো দেশগুলোর সহায়তা চায় না। একই সঙ্গে জাপান, অস্ট্রেলিয়া কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তার প্রয়োজনও নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, “বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কারও সাহায্যের প্রয়োজন নেই।”
তবে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে ইসরায়েলকে প্রধান সামরিক অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। তাঁর ভাষায়, “ইরানের নৌবাহিনী নেই, বিমান বাহিনী নেই, আকাশ প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাদের অনেক শীর্ষ নেতা আর নেই।”
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি আরও বলেন, ইরানের সামরিক কাঠামো প্রায় পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। “সবকিছু শেষ হয়ে গেছে,” মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, বিশেষ করে যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং মিত্র দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন