https://www.prothomalony.com/

16542

entertainment

বিনোদন

নির্মাতা রাজীদ সিজনের ‘কাদিশ’ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সম্প্রচার করবে জ্যুইশ লাইফ টেলিভিশন

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ ০৪:২৬

নিউইয়র্ক ভিত্তিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজীদ সিজন-এর প্রশংসিত চলচ্চিত্র কাদিশ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সম্প্রচার করবে জ্যুইশ লাইফ টেলিভিশন। প্রথম সম্প্রচার হবে আগামী ১৭ এপ্রিল, শুক্রবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে (ইটি/পিটি)। এরপর চলচ্চিত্রটি পুনঃপ্রচার হবে ৯ জুন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে এবং ১৫ জুন ভোর ৩টা ৩০ মিনিটে (ইটি)। জ্যুইশ লাইফ টেলিভিশন জানিয়েছে, ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে চলচ্চিত্রটি তাদের চ্যানেলে প্রচার করা হবে।

চলচ্চিত্রটি উপস্থাপন করেছে কুইন্স ভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইমেজ মেকার ফিল্মস। প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক বিষয়, সাংস্কৃতিক গল্প এবং অভিবাসী সম্প্রদায়সহ অবহেলিত কণ্ঠকে সামনে আনার লক্ষ্যে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে।

জ্যুইশ লাইফ টেলিভিশন যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় কেবল ও স্যাটেলাইট সেবা প্রদানকারী টিভি যা ডিরেকটিভি, কমকাস্ট ও স্পেকট্রামের মাধ্যমে ৭ কোটির বেশি পরিবারের কাছে পৌঁছে যায়।

কাদিশ চলচ্চিত্রটি হলোকাস্টের সময়কার এক তরুণ আশকেনাজি ইহুদি যুবকের গল্প নিয়ে নির্মিত। মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে তিনি তার মায়ের কবর জিয়ারত করতে চান। স্মৃতি, শোক এবং দুর্যোগের মধ্যেও মানুষের দৃঢ়তার গল্প তুলে ধরা হয়েছে চলচ্চিত্রটিতে। চলচ্চিত্রটি ইয়িদ্দিশ ও জার্মান ভাষায় নির্মিত এবং আশকেনাজি ইহুদি ডায়াস্পোরার জীবনযাত্রাকে প্রামাণিকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

চলচ্চিত্রটি নিউইয়র্কের হলোকাস্ট মেমোরিয়াল অ্যান্ড টলারেন্স সেন্টার অব নাসাউ কাউন্টিতে প্রদর্শিত হয়, যেখানে হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চলচ্চিত্রটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উরুগুয়ে জ্যুইশ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-এ ‘বেস্ট অফ ফেস্ট’, কলম্বাস জ্যুইশ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-এ ‘শ্রেষ্ঠ চালচিত্র’, ড্যানিয়েল নাইম্যান ফাউন্ডেশন-এর সম্মাননা এবং সাউদার্ন অ্যারিজোনা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-এ ‘সেরা পরিচালক’ পুরস্কার। এছাড়া এই চলচ্চিত্রটির ওয়েব স্ট্রিমিং আর্কিয়োলজি চ্যানেল এবং ইয়িদ্দিশকায়ট-এ পাওয়া যাচ্ছে।

কাদিশ চলচ্চিত্রটি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের 'শোয়া ফাউন্ডেশন'-এর ভিজ্যুয়াল হিস্ট্রি আর্কাইভ দ্বারা স্বীকৃত হয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, যার লক্ষ্য হলো হলোকাস্ট থেকে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের সাক্ষ্য এবং সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক উপকরণ সংরক্ষণ ও গবেষণা করা। এই ফাউন্ডেশনটি ১৯৯৪ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গ প্রতিষ্ঠা করেন, তাঁর বিখ্যাত চলচ্চিত্র শিন্ডলার'স লিস্ট মুক্তির পর। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা নথিভুক্ত করা এবং বিশ্বব্যাপী হলোকাস্ট শিক্ষা বিস্তৃত করা।

চলচ্চিত্রটি আরও অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল হলোকাস্টের ভিজ্যুয়াল হিস্ট্রি এর কাঠামোর মধ্যে, যা ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত একটি গবেষণা উদ্যোগ। এই প্রকল্পটি সমন্বয় করেছিল লুডভিগ বোল্টসমান ইনস্টিটিউট ফর ডিজিটাল হিস্ট্রি এবং অস্ট্রিয়ান ফিল্ম মিউজিয়াম। প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল হলোকাস্ট সম্পর্কিত ঐতিহাসিক ও সমকালীন অডিওভিজ্যুয়াল উপকরণসমূহকে পুনর্মূল্যায়ন, বিশ্লেষণ এবং প্রাসঙ্গিকভাবে ব্যাখ্যা করা।

জ্যুইশ লাইফ টেলিভিশনের নির্বাহী সহ-সভাপতি ব্র্যাড পোমেরান্স বলেন, “চলচ্চিত্রটি অত্যন্ত আবেগঘন। এটি দেখার সময় আমার চোখে পানি এসে গিয়েছিল। একজন মুসলিম নির্মাতা হয়েও রাজীদ যেভাবে ইহুদি ইতিহাসের গল্প তুলে ধরেছেন, তা আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।”

চলচ্চিত্রটির লেখক ও পরিচালক রাজীদ সিজন বলেন, তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এই গল্প নির্মাণে প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, “আমি একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে যুদ্ধ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করি। আমার জন্মভূমি বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের গণহত্যায় প্রায় ত্রিশ লক্ষ মানুষ হারিয়েছিল, এবং আমি বড় হয়েছি সেই মর্মান্তিক ইতিহাস সম্পর্কে জেনে। এই অভিজ্ঞতা আমাকে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে ঘটে যাওয়া নির্যাতন ও গণহত্যার শিকার মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত করে। আজও বিশ্বজুড়ে তিক্ত যুদ্ধ ও সংঘাত চলছেই, আর ‘কাদিশ’ আমাদের মনে করিয়ে দেয় সহিংসতা ও গণহত্যার মানবিক মূল্য কত ভয়াবহ এবং ইতিহাসকে স্মরণে রাখা কতটা জরুরি।”

বিনোদন থেকে আরো পড়ুন