https://www.prothomalony.com/
16505
north-america
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬ ১২:০৪
যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের (অ্যাসাইলাম সিকার) বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। অপরাধের কোনো রেকর্ড না থাকলেও অনেক আশ্রয়প্রার্থীকে দেশজুড়ে আটক করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের আগের নীতির তুলনায় বড় ধরনের পরিবর্তন।
এর আগে সাধারণত আশ্রয়প্রার্থীরা তাদের মামলার শুনানি চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পেতেন। কিন্তু এখন প্রশাসন অভিবাসীদের বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পথ সীমিত করতে নতুনভাবে আটক নীতি প্রয়োগ করছে।
আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে—বছরের পর বছর পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার পর হঠাৎ করেই অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হচ্ছেন আশ্রয়প্রার্থীরা। কেউ কর্মস্থলে যাওয়ার পথে, কেউ কাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় বা দৈনন্দিন কাজের সময় গ্রেপ্তার হচ্ছেন।
দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য—মিনেসোটা, নিউইয়র্ক, ভার্জিনিয়া, ওহাইও, ওকলাহোমা, মেইন, আলাস্কা, উইসকনসিন, ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসে এমন আটক হওয়ার ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে।
মেইনের এক আইনজীবী জানান, তার ছয়জন ক্লায়েন্টকে কোনো অপরাধ না থাকা সত্ত্বেও আটক করা হয়েছে। তাদের কেউ কর্মস্থল থেকে, কেউ কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এবং কেউ পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বের হয়ে আটক হন।
তিনি বলেন, আগে আশ্রয় আবেদন থাকলে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা খুব কম ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৩ লাখের বেশি অভিবাসী আশ্রয় শুনানির অপেক্ষায় ছিলেন। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার আবেদনকারীর মধ্যে প্রায় ২৮ হাজারকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ৫ হাজার অন্য ধরনের অভিবাসন সুবিধা পেয়েছেন।
অধিকারকর্মীরা অভিযোগ করছেন, আটক কেন্দ্রগুলোর পরিবেশ অনেক সময় অমানবিক। সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা, আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ বা খাবারের মান নিয়েও সমস্যা রয়েছে। অনেক আশ্রয়প্রার্থী কঠিন পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দপ্তর (ডিএইচএস) এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আশ্রয়ের আবেদন থাকলেই কেউ যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনি মর্যাদা পায় না। অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করলে তাকে আটক বা বহিষ্কার করা হতে পারে এবং প্রত্যেকের জন্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।
এদিকে প্রশাসন নতুন একটি প্রস্তাবও দিয়েছে, যেখানে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালে কাজ করার অনুমতি না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারের দাবি, অনেকেই ভুয়া আশ্রয় আবেদন করে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ নিচ্ছেন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নতুন নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হাজারো আশ্রয়প্রার্থী ও তাদের পরিবারের জীবনে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন