https://www.prothomalony.com/
16469
north-america
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিলে কর্মরত সাংবাদিক এস্তেফানি রদ্রিগেজকে আটক করেছে মার্কিন আইস কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (৪ মার্চ) সকালে তাকে আটক করা হয়। রদ্রিগেজ ন্যাশভিলভিত্তিক স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যম ‘ন্যাশভিল নোটিসিয়াস’ এর প্রতিবেদক এবং স্থানীয় ইউনিভিশন ৪২ ন্যাশভিল চ্যানেলে কাজ করতেন। তার রিপোর্টিংয়ের মূল ক্ষেত্র ছিল স্থানীয় লাতিনো সম্প্রদায়, পুলিশি অভিযান, অভিবাসন-সংক্রান্ত গ্রেপ্তার এবং আইসের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনামূলক প্রতিবেদন। এই ঘটনাকে অনেক অধিকারকর্মী ও গণমাধ্যম সংগঠন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হামলা হিসেবে দেখছেন।
তার স্বামী আলেজান্দ্রো মেদিনা জানান, বুধবার সকালে তারা যখন একটি জিমের বাইরে গাড়িতে বসে ছিলেন (যেটিতে তাদের সংবাদমাধ্যমের লোগো ছিল), তখন হঠাৎ করে আটজন সশস্ত্র আইস এজেন্ট তাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে এবং এস্তেফানিকে আটক করে। মেদিনা একজন মার্কিন নাগরিক। আইনজীবীদের অভিযোগ, এজেন্টরা কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রদর্শন না করেই এস্তেফানিকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হেফাজতে নেয়।
এস্তেফানি রদ্রিগেজ মূলত কলম্বিয়ার নাগরিক। নিজ দেশে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার পর তিনি ২০২১ সালে টুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন।
তার আইনজীবীদের মতে, এস্তেফানির কাছে বৈধ ‘ওয়ার্ক পারমিট’ (কাজের অনুমতি) ছিল এবং তিনি গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন।
তবে আইসের একজন মুখপাত্র সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, রদ্রিগেজের ‘বর্তমানে কোনো বৈধ অভিবাসন মর্যাদা নেই’। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন মুখপাত্র সিএনএনকে আরও বলেন, ‘গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা বা কাজের অনুমতি থাকা মানেই এই নয় যে কারও এই দেশে থাকার বৈধ আইনি মর্যাদা আছে।’
আইস দাবি করেছে যে এস্তেফানি নির্ধারিত দুটি অভিবাসন সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হননি। তাই তাকে ‘ফ্লাইট রিস্ক’ বা পলায়নপর ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করে আটক করা হয়েছে।
আদালতের নথিতে দেখা যায়, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাকে ন্যাশভিল ফিল্ড অফিসে হাজির হওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ওই সময় এলাকাজুড়ে মারাত্মক বরফঝড়ের কারণে অফিস বন্ধ ছিল। পরবর্তী সময়ে ২৫ ফেব্রুয়ারির নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এই সূচি ও যোগাযোগ নিয়ে বর্তমানে আদালতে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে।
তবে তার আইনজীবীরা বলছেন, একটি সাক্ষাৎকার তুষারঝড়ের কারণে অফিস বন্ধ থাকায় বাতিল হয়েছিল এবং অন্যটির জন্য তাকে ১৭ মার্চ নতুন তারিখ দেওয়া হয়েছিল।
এস্তেফানির আইনজীবীরা ফেডারেল আদালতে জরুরি পিটিশন দায়ের করে দাবি করেছেন, এই আটক প্রক্রিয়াটি একটি প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে প্রদত্ত মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করেছে। তাদের মতে, আইসের গ্রেপ্তার ও ডিটেনশন সরাসরি তার সমালোচনামূলক সাংবাদিকতার কারণে, বিশেষ করে আইসের গ্রেপ্তার অভিযান নিয়ে ধারাবাহিক রিপোর্টিংয়ের প্রতিফল হিসেবে ঘটেছে।
আইনজীবী ও পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর প্রথমে এস্তেফানিকে আলাবামার একটি ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে তাকে লুইজিয়ানায় স্থানান্তর করা হতে পারে বলে তথ্য পাওয়া যায়, যা তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিয়ে পরিবারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখেছে।
একজন ফেডারেল বিচারক আইসকে এস্তেফানির গ্রেপ্তার ও ডিটেনশনের আইনি ভিত্তি নিয়ে জরুরি জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে তিনি জামিনে মুক্তি, ডিটেনশন অব্যাহত থাকা বা দ্রুত বহিষ্কারের (ডিপোর্টেশন) যে কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা কমিটি এবং ন্যাশভিলের স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন