https://www.prothomalony.com/
16465
north-america
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রাম্যাক শহরের কনান্ট অ্যাভিনিউতে বিকেলের সময় গেলে মনে হবে বাংলাদেশের কোন মফস্বল শহরে হাটছেন। রমজান মাসের ব্যস্ততা চোখে পড়বে—কেউ ইফতার কিনছেন, কেউ ফলের দোকান থেকে ফল নিচ্ছেন, কেউ রেষ্টুরেন্টে বসে ইফতার আয়োজন করছেন, আবার কেউ বাচ্চাদের স্কুল থেকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। যারা দিনভর কাজ করেন, তারা বাড়ীতে ফিরে পরিবারের সঙ্গে ইফতার করেন, আর যারা রাতের শিফটে কাজ করেন, তারা কর্মস্থলেই ইফতার উপভোগ করেন।
হ্যামট্রাম্যাক শহরটি প্রবাসী বাঙালিদের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। আশেপাশের শহরগুলো—ডেট্রয়েট, ওয়ারেন, ট্রয়, স্টার্লিং হাইটস, মেডিসন হাইটস—সহ প্রায় ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি বাঙালি এই অঞ্চলে বসবাস করেন। শহরের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং মেয়র ও সিটি কাউন্সিলের সদস্যরাও মুসলিম। ইয়েমেনী ও বাংলাদেশি মুসলমানরা সংখ্যায় বেশি।
মিশিগানে ইফতারির আয়োজন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। বেগুনি, পিয়াজো, জিলাপি, ছোলা, পোলাও, মিষ্টি, নিমকি, চপসহ বিভিন্ন স্বাদের ইফতার প্রস্তুত হয়। স্থানীয় বাজারে আম, কাঠাল, লিচু, পেয়ারা, খেজুর, তরমুজসহ বিভিন্ন ফল পাওয়া যায়।
মিশিগানের মসজিদগুলোতে রাতে তারাবীর নামাজ হয়, যেখানে তিন প্রজন্মের মানুষ অংশগ্রহণ করছেন। যাদের জন্ম এখানেই, তারা আব্বা, চাচা, নানা, দাদার হাত ধরে নামাজ শিখছে। নারীদের জন্যও আলাদা নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে।
শহরের প্রবাসী বাঙালিদের তিন শতাধিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক সংগঠন রয়েছে। প্রতি সপ্তাহান্তে শনি ও রোববার বিভিন্ন সংগঠন ইফতার মাহফিল আয়োজন করছে। এসব মাহফিল ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় ও পেশার মানুষদের একত্রিত করে, যা সম্প্রদায়ের বন্ধনকে দৃঢ় করছে।
প্রবাসীরা দেশে প্রতি বছরই বিপুল পরিমাণ যাকাত পাঠান, এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ঈদকে সামনে রেখে মানুষ ২-৩ দিনের ছুটি রেখেছেন, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ও ঘুরে বেড়ানোর জন্য। গ্রোসারি দোকানগুলো রাত ১২টা ১টা পর্যন্ত খোলা থাকে, আর বাঙালি মালিকানাধীন রেস্টুরেন্টগুলো ইফতারি কেনার জন্য ভিড়ে পরিপূর্ণ থাকে।
মিশিগানের এই রমজান শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রবাসী কমিউনিটির সামাজিক মিলন ও ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন