https://www.prothomalony.com/
16368
north-america
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ ২৩:২৬
প্রবাসের মাটিতে আরেকটি সংসার ভেঙে গেল নিঃশব্দে। যুক্তরাষ্ট্রের ওহায়ো অঙ্গরাজ্যের একরন শহরে দাম্পত্য কলহের জেরে আত্মহননের পথ বেছে নিলেন মুন্সিগঞ্জের তরুণী মিতু, বয়স মাত্র সাতাশ। গত চব্বিশ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার, নিজ বাসার বেসমেন্টে গলায় ফাঁস দিয়ে জীবন শেষ করেন তিনি। রেখে গেলেন ছয় বছরের একমাত্র কন্যা সন্তানকে—যে তখন স্কুলে, মায়ের অজান্তেই জীবনের সবচেয়ে বড় শূন্যতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।
পরিবার-ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ব্যবসায়ী স্বামী মাহবুবের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে মিতুর দাম্পত্য জীবনে গভীর অস্থিরতা তৈরি হয়। সন্দেহ, অবিশ্বাস এবং দাম্পত্যবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ ঘিরে তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। মিতুর দাবি ছিল, তাঁর স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। ওই নারীও বিবাহিত বলে জানা গেছে। বিষয়টি স্থানীয় পরিচিত মহলে আলোচনার জন্ম দেয়; এমনকি সালিশ-বিচারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার দিন দুপুরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর মিতু একাধিক স্বজনকে ফোন করে জানান, স্বামী তাঁকে ডিভোর্সের কাগজে স্বাক্ষর করতে বলেছেন। বিচ্ছেদের পর বাড়ির মালিকানা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কথোপকথনের পর ভেঙে পড়েন তিনি। কিছুক্ষণ পর নেমে যান ঘরের বেসমেন্টে—সেখানেই ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত সেই মর্মান্তিক ঘটনা। স্কুল থেকে ফিরে ছোট্ট মেয়েটি আর মায়ের সাড়া পায়নি।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে এই দম্পতির ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন তেমন কেউ নেই। মিতুর এক ভাই সপরিবারে অস্ট্রেলিয়ায় এবং দুই বোন ঢাকায় বসবাস করেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মরদেহ স্বামীর কাছেই হস্তান্তর করেছে। একরনে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে এবং মরদেহ ঢাকায় পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
প্রবাস জীবনে দাম্পত্যবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ, অবিশ্বাস ও মানসিক দূরত্ব অনেক সময় এমন চরম পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়—বলছেন কমিউনিটির অনেকে। একটি ভুল সিদ্ধান্ত, একটি ভাঙা বিশ্বাস, একটি অনিরাপদ সম্পর্ক—শেষ পর্যন্ত ভেঙে দেয় পুরো একটি পরিবারকে। মিতুর চলে যাওয়া শুধু একটি জীবনের অকালে ঝরে যাওয়া, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ, একটি পরিবারের স্বপ্ন আর প্রবাসী সমাজের বিবেককে নাড়া দেওয়া এক বেদনাময় স্মৃতি হয়ে রইল।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন