https://www.prothomalony.com/

16291

north-america

উত্তর আমেরিকা

জাতিসংঘের সামনে ৩৫ বছর ধরে একুশ উদযাপন

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ০৫:৪২

বাংলাদেশ সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। টানা ৩৫ বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও সর্বকনিষ্ঠ শিশুর পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। প্রচণ্ড বৃষ্টি ও বিরূপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে উপস্থিত প্রবাসীরা সম্মিলিত কণ্ঠে ভাষা দিবসের গান পরিবেশন, কবিতা আবৃত্তি ও আলোচনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটি পালন করেন।

মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বিশ্বজিৎ সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ও নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬-এর আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলাম। তিনি ১৯৯২ সাল থেকে জাতিসংঘের সামনে একুশ উদযাপনের সূচনা এবং প্রবাসে বাংলা বইমেলা আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াসের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন বাঙালির চেতনা মঞ্চের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাদশা, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজউদ্দীন আহমেদ, ব্রঙ্কস সোসাইটির জহির উদ্দিন ও বিজয় সাহা।

জাতিসংঘের সামনে ৩৫ বছর ধরে একুশ উদযাপন উপলক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নবনির্বাচিত সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ভিডিও বার্তা পাঠান। তাঁর শুভেচ্ছা বার্তায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বার্তাটি পাঠ করেন আয়োজকদের পক্ষে কমিউনিটি কর্মী ছাখাওয়াত আলী।

মোহাম্মদ শাহীন হোসেনের পরিচালনায় বিশেষ সাংস্কৃতিক পর্বে পরিবেশিত হয় একুশের তিনটি গান—‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’, ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনও করিলিরে বাঙালি’ এবং ‘দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা, কারো দানে পাওয়া নয়’। তবলায় সঙ্গত করেন হারাধন কর্মকার। ‘ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা’ গানটি গিটার সহযোগে পরিবেশন করেন কাব্য। ‘একুশ আগুনরাঙা পাখি’ কবিতা আবৃত্তি করেন ভাষা সাহা।

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও নতুন প্রজন্মের ধীরাজ, কৃতি ও শ্যামার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা বার্তার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয় এবং আশা প্রকাশ করা হয়, বাঙালি সংস্কৃতি সংরক্ষণে নবনির্বাচিত সরকার অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

টাইমস স্কয়ার দুর্গা উৎসব অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নিরুপমা সাহা, ব্রঙ্কস সোসাইটি, জন জে কলেজ বাংলাদেশি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাঙালির চেতনা মঞ্চ, মুক্তধারা ফাউন্ডেশন, আবাহনী ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এছাড়া সিটি মেয়র অফিসের সারা রওশন ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট শক্তি দাস গুপ্তসহ অনেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন