https://www.prothomalony.com/
16248
north-america
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ০০:৪৬
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের এক ‘ড্যান্স মম’, যিনি লাস ভেগাসের একটি হোটেল রুমে নিজের ১১ বছর বয়সী মেয়েকে হত্যা করার পর আত্মহত্যা করেছেন, তিনি ২০১৫ সাল থেকে তার প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে এক তিক্ত কাস্টডি লড়াইয়ে লিপ্ত ছিলেন বলে ‘নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ডেইলি মেইলের দেখা আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ডিভোর্সের পর গত নয় বছর ধরে ম্যাকগিহান এবং তার প্রাক্তন স্বামী ব্র্যাড স্মিথ অ্যাডির কাস্টডি নিয়ে চরম তিক্ত বিবাদে জড়িয়ে ছিলেন। তাদের এই বিচ্ছেদ মোটেও শান্তিপূর্ণ ছিল না।
রোরবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রিও হোটেল অ্যান্ড ক্যাসিনোতে ১১ বছর বয়সী অ্যাডি স্মিথ এবং তার মা, ৩৮ বছর বয়সী টাউনিয়া ম্যাকগিহানের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লাস ভেগাস মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল পৌনে ১১টা নাগাদ কর্মকর্তাদের কাছে তাদের খোঁজ নেওয়ার জন্য একটি অনুরোধ আসে, যার প্রেক্ষিতে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাদের মরদেহ খুঁজে পায়।

মূলত, টাউনিয়া ম্যাকগিহান তার মেয়েকে নিয়ে একটি চিয়ার প্রতিযোগিতার জন্য লাস ভেগাসে গিয়েছিলেন। কিন্তু রবিবার তাঁদের নির্ধারিত চিয়ার প্রতিযোগিতায় উপস্থিত না হওয়ায় পরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিভোর্সের পর ম্যাকগিহান এবং তার প্রাক্তন স্বামী ব্র্যাড স্মিথের মধ্যে অ্যাডিকে ঘিরে সম্পর্কের পরিবেশ এতটাই বিষাক্ত ছিল যে আদালত তাদের একে অপরের থেকে দূরে রাখার জন্য কঠোর নিয়ম জারি করেছিলেন। এমনকি স্কুলের গেটে যখন শিশুটিকে একজনের কাছ থেকে অন্যজনের কাছে হস্তান্তর করা হতো, তখন তাদের গাড়ি একে অপরের থেকে অন্তত পাঁচটি পার্কিং স্পেস দূরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শিশুটিকে একা হেঁটে এক গাড়ি থেকে অন্য গাড়িতে যেতে হতো।
স্কুল বন্ধ থাকলে প্রতি সোমবার সকাল ৯টায় ইউটাহর হেরিম্যান পুলিশ স্টেশনের সামনে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া আদালত তাদের একে অপরকে ভিডিও করতে নিষেধ করেছিলেন এবং স্কুলের অনুষ্ঠানেও একে অপরের থেকে দূরে থাকার কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।
পুলিশের ধারণা, শনিবার গভীর রাতে এই মৃত্যুগুলো ঘটেছে। রুমের ভেতর থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে, তবে কর্মকর্তারা এতে কী লেখা ছিল তা প্রকাশ করেননি। এই ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি দীর্ঘস্থায়ী পারিবারিক বিবাদ ও মানসিক চাপের এক ভয়াবহ পরিণতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন