https://www.prothomalony.com/

16243

north-america

উত্তর আমেরিকা

অপরাধ জগতে ক্রিপ্টো: এক বছরে মানব পাচারে লেনদেন বেড়েছে ৮৫%

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২২:৫৪

বিশ্বজুড়ে মানব পাচার ও অবৈধ অনলাইন ব্যবসায় ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালে সন্দেহভাজন মানব পাচারকারী গোষ্ঠীগুলোর ক্রিপ্টো লেনদেন পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় অভাবনীয়ভাবে ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেইনঅ্যানালাইসিস নামক ব্লকচেইন বিশ্লেষক সংস্থার তথ্যমতে, পাবলিক ব্লকচেইনে কোটি কোটি লেনদেন পর্যালোচনার মাধ্যমে মানব পাচার নেটওয়ার্ক, শিশু যৌন নির্যাতন চক্র এবং অনলাইন স্ক্যাম অপারেশনগুলোর সাথে ক্রিপ্টো পেমেন্টের সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অপরাধীরা এখন আর শুধু ইন্টারনেটের গোপন জগত বা 'ডার্ক ওয়েব'-এ সীমাবদ্ধ নেই, বরং টেলিগ্রামের মতো জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রকাশ্যে ভিকটিম নিয়োগ এবং কোটি কোটি ডলারের লেনদেন সম্পন্ন করছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সির এই ক্রমবর্ধমান ব্যবহার মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অপরাধী চক্রগুলোর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। তবে এই অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত, যেমন—উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে লেনদেন করা হচ্ছে। পাচারকারী চক্রগুলো মূলত ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন স্ক্যাম সেন্টারে পাচার করছে। 

ব্লুমবার্গের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, লাখ লাখ মানুষকে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে হোটেল এবং ক্যাসিনোভিত্তিক এই স্ক্যাম সেন্টারগুলোতে আটকে রাখা হয়। পাচার হওয়া ভিকটিমদের দিয়ে জোরপূর্বক রোমান্স স্ক্যাম এবং ভুয়া ক্রিপ্টো ইনভেস্টমেন্ট স্কিম চালানো হয়। ২০২৩ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই সাইবার অপরাধী চক্রগুলো প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে।

আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে বিশাল অংকের কারচুপি। শুধু চীনা ভাষার টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোর মাধ্যমেই গত বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলারের অবৈধ তহবিল লেনদেন হয়েছে। আন্তর্জাতিক এসকর্ট সার্ভিসে ১০,০০০ ডলারের বেশি অংকের প্রচুর ক্রিপ্টো লেনদেন দেখা গেছে, যেখানে কিছু ভিআইপি প্যাকেজের মূল্য ৩০,০০০ ডলার পর্যন্ত ছিল। ১,০০০ থেকে ১০,০০০ ডলারের মধ্যে 'রিক্রুটমেন্ট ফি' নিয়ে অনেককে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্ক্যাম সেন্টারগুলোতে পাচার করা হচ্ছে। 

এছাড়া শিশু যৌন নির্যাতনমূলক উপকরণের ব্যবসায় ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার অত্যন্ত উদ্বেগের পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে অপরাধীরা অপ্রাপ্তবয়স্কদের 'সেক্সটর্শন' বা ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন আপত্তিকর কন্টেন্ট তৈরি করে এবং পরবর্তীতে সেগুলো ক্রিপ্টোকারেন্সির বিনিময়ে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করছে। প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, আন্তর্জাতিক এসকর্ট ও যৌন পরিষেবার ক্ষেত্রে ১০,০০০ থেকে ৩০,০০০ ডলার পর্যন্ত বড় অংকের ক্রিপ্টো লেনদেন হচ্ছে। 

ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অপরাধ বাড়ছে ঠিকই, তবে পাবলিক ব্লকচেইনের স্বচ্ছতা তদন্ত কর্মকর্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। চেইনঅ্যানালাইসিসের বিশ্লেষক টম ম্যাকলাউথ জানিয়েছেন, স্টেবলকয়েন ব্যবহারের প্রবণতা এবং নির্দিষ্ট কিছু মানি লন্ডারিং গ্রুপের কার্যক্রম অনুসরণ করে কর্তৃপক্ষ এখন অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোকে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্টভাবে শনাক্ত করতে পারছে। 'ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট' অনুসরণ করে ইতিমধ্যেই মার্কিন বিচার বিভাগ কম্বোডিয়ার একটি স্ক্যাম সেন্টার থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বিটকয়েন জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। এই 'ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট' ব্যবহার করেই ভবিষ্যতে বড় ধরনের অপরাধী চক্র নির্মূল করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

টম ম্যাকলাউথ সিএনবিসি-কে বলেন, "আর্থিক স্কেলটি বিশাল, অন্তত কোটি কোটি ডলারের ক্রিপ্টো লেনদেন হচ্ছে। তবে এর ফলে সৃষ্ট শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির পরিমাণ যেকোনো ডলারের অংকের চেয়ে বহুগুণ বেশি।"

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন