https://www.prothomalony.com/

16134

north-america

উত্তর আমেরিকা

শীতের থাবায় বাফেলোর ওয়াটার পাইপ ধ্বংস: জলমগ্ন বেসমেন্ট, বরফে বন্দী গাড়ি

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ০৩:৩০

২০২৬ সালের শুরু থেকে বাফেলো ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় তীব্র শীত ও তুষারপাতের কারণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওয়াটার মেইন ব্রেক বা পানির পাইপ ফেটে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) তীব্র শীতের প্রভাবে নর্থ বাফেলোর হার্টওয়েল রোড ও ডেলাওয়্যার অ্যাভিনিউ এলাকায় একটি বড় ওয়াটার মেইন ব্রেক ঘটে। ফলে বহু বাড়ির বেসমেন্টে পানি ঢুকে পড়ে এবং কয়েকজন বাসিন্দাকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। রোববার রাতে এসব তথ্য জানান বাফেলোর ডেপুটি মেয়র বেনজামিন সোয়ানেক্যাম্প।

তিনি জানান, রোববার ভোরে হার্টওয়েল স্ট্রিটের সিসিল থেকে ডেড-এন্ড পর্যন্ত এলাকায় একটি আট ইঞ্চি ওয়াটার মেইন বিকল হয়ে যায়। এতে একই সঙ্গে কমেট স্ট্রিট ও ডেলাওয়্যার লুপ এলাকার পানির লাইনে প্রভাব পড়ে। এই ব্রেকের ফলে আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ক্যাটালিস্ট ফিটনেস, রিগাল সিনেমাস (এলমউড) ও ভেন্টিল প্লাজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ডেপুটি মেয়র জানান, একটি ভালভের যন্ত্রাংশ খুলে যাওয়াই মূল ভাঙনের কারণ। যদিও প্রাথমিকভাবে পাইপ মেরামত করা হয়, তবে বরফ ও তুষার জমে থাকা রাস্তাঘাট এবং নিকাশি গ্রেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। নিকাশি পথ বন্ধ থাকায় পানি নামতে পারেনি এবং এর ফলে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়ে অনেক বাড়ির বেসমেন্টে পানি ঢুকে পড়ে। কোথাও কোথাও রাস্তায় বরফ জমে বড় আকারের পানির স্তর তৈরি হয়।

ঘটনার পরপরই বাফেলোর ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ও ওয়াটার অথরিটি যৌথভাবে উদ্ধার ও মেরামতের কাজ শুরু করে। বিদ্যুৎজনিত ঝুঁকি ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিস কাজ করে এবং ভ্যাকুয়াম ট্রাক ও অতিরিক্ত পাম্প ব্যবহার করে পানি অপসারণ করা হয়।

এ ছাড়া ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক ওয়ার্কস রাস্তায় লবণ ছিটানো, তুষার সরানো ও ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা পরিষ্কারের কাজ করে। সোমবার থেকে মেয়রের ইমপ্যাক্ট টিম ফুটপাত পরিষ্কার ও সল্টিংয়ের দায়িত্ব নেয়।

সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে ২ ফেব্রুয়ারি নর্থ বাফেলোতে, যেখানে একটি ওয়াটার মেইন ভেঙে প্রায় এক ডজন বাড়ির বাসিন্দাকে ঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা নিক ফারিনার বেসমেন্টে পানি ঢুকে পড়লে তিনি ট্রাকচালিত পাম্প দিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা করেন। পরে বিদ্যুৎ ও ইউটিলিটি বন্ধ করে দিলে তাঁকে এবং প্রতিবেশীদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

ফারিনা জানান, এখনো তিনি সিটি বিল্ডিং ইনস্পেক্টরদের অনুমতির অপেক্ষায় আছেন, যাতে বিদ্যুৎ সংযোগ ফেরত পান। তিনি ইতোমধ্যে ক্ষতিপূরণ দাবিতে শহরের কাছে ক্লেইম প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

পানির পাইপ ভেঙে পড়ায় কয়েকটি বাড়ির বেসমেন্টে এক ফুটের বেশি পানি জমতে দেখা যায়। দুটি বাড়িতে প্রায় চার ফুট পর্যন্ত পানি উঠে যাওয়ায় সেগুলো খালি করে দেওয়া হয়। কিছু বাসিন্দাকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যরা কেউ নিজ বাড়িতে থেকেছেন, কেউ স্বজনদের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন। অন্যদিকে, ভাঙা পাইপের পানিতে রাস্তায় জমে থাকা বরফ সরিয়ে রাস্তা খুলে দিলেও কিছু গাড়ি এখনো বরফে আটকে আছে। মালিকদের অনেককে বরফ কেটে গাড়ি বের করতে হচ্ছে, কেউ কেউ টো ট্রাক ডাকছেন। এর আগে ২৬ জানুয়ারি ক্যামডেন অ্যাভিনিউ এলাকাতেও একটি ওয়াটার মেইন ব্রেকের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছিল। পুরো ইরি কাউন্টি জুড়েই ছোট-বড় অনেক পাইপ ফেটে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে, যার ফলে মেরামতকর্মীদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

শীতকালে জমি বারবার জমে ও গলে যাওয়ার ফলে মাটির নিচে থাকা পানির পাইপে চাপ পড়ে এবং সেগুলো ভেঙে যায়। বিশেষ করে বাফেলো শহরে, যেখানে অনেক পানির লাইন একশ বছরেরও বেশি পুরোনো, ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

শহর কর্তৃপক্ষ বলছে, আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী দিনগুলোতেও ওয়াটার মেইন ব্রেকের ঘটনা ঘটতে পারে, এটাই এখন প্রায় নিশ্চিত।

ডেপুটি মেয়র বেনজামিন সোয়ানেক্যাম্প জানান, ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষতির ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দাবি করতে হবে এবং শহর কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সঙ্গে সেগুলো নিষ্পত্তির চেষ্টা করবে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের হোমওনার্স বা অটো ইনস্যুরেন্সের মাধ্যমে ক্লেইম করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কোথাও ছোট লিক বা পানির সমস্যা দেখা দিলে ৩১১ নম্বরে দ্রুত রিপোর্ট করার আহ্বান জানিয়েছে সিটি কর্তৃপক্ষ।
 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন