https://www.prothomalony.com/

16100

north-america

উত্তর আমেরিকা

ন্যাশনাল শাটডাউন’: আইস বিরোধিতায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারী ২০২৬ ০১:২২

মিনেসোটায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)–এর কার্যক্রম এবং ফেডারেল কর্মকর্তাদের সহিংসতার বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদের ধারাবাহিকতায় এই আন্দোলনকে এখন জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগঠকেরা জানিয়েছেন, ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার ‘ন্যাশনাল শাটডাউন’ নামে একটি সাধারণ ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের কাজ, স্কুলে যাওয়া এবং কেনাকাটা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

এই ধর্মঘটের মূল উদ্দেশ্য হলো ফেডারেল অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই–এর ভূমিকা, সম্প্রসারিত বাজেট এবং কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলা। সংগঠকদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মিনেসোটায় আইসিই–এর তৎপরতা বেড়েছে এবং ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে দু’জন মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই কাজ, শিক্ষা ও ভোগব্যবস্থা স্থগিত রেখে শক্ত অবস্থান জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আইস বিরোধী এই আন্দোলনের সূচনা হয় গত সপ্তাহে মিনেসোটায় ‘আইসিই আউট অব মিনেসোটা’ কর্মসূচির মাধ্যমে। ওই দিন হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায় এবং শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় কার্যক্রম বন্ধ রাখে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার একই ধরনের প্রতিবাদকে জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এই সপ্তাহের জাতীয় শাটডাউনে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন, নাগরিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন এবং অধিকারকর্মী গোষ্ঠী সমর্থন জানিয়েছে। ‘ন্যাশনাল শাটডাউন’ নামের একটি ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে—কোনো কাজ নয়, কোনো স্কুল নয় এবং কোনো কেনাকাটা নয়।

আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে আইস–এর অভিযান বন্ধ করা, ফেডারেল অভিবাসন নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনা, আইস–এর বাজেট কমানো এবং সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর জন্য স্বাধীন তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তাঁদের আশা, এই ধর্মঘট যত বেশি বিস্তৃত হবে, তত বেশি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে।

এই কর্মসূচিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার পাশাপাশি কয়েকজন পরিচিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সেলিব্রিটিও প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের পোস্ট ও বক্তব্য আন্দোলনকে আরও দৃশ্যমান করে তুলেছে।

তবে এখনো স্পষ্ট নয়, জাতীয় পর্যায়ের এই ধর্মঘটে ঠিক কত মানুষ অংশ নেবেন বা এর ফলে আইস–এর কার্যক্রম কিংবা সরকারি নীতিতে সরাসরি কী ধরনের প্রভাব পড়বে। তবুও সংগঠকদের বিশ্বাস, দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত করে সম্মিলিত প্রতিবাদ জানানো হলে তা একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে।

 ‘ন্যাশনাল শাটডাউন’ এখন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন নীতি ও আইস–এর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একটি সংগঠিত জাতীয় আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বিরল এক কৌশল হিসেবে কাজ, শিক্ষা ও ভোগব্যবস্থা বন্ধ রেখে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছেন।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন