https://www.prothomalony.com/
16091
north-america
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারী ২০২৬ ০১:৩৯
হিমাংকের নীচে থাকা তীব্র শীত, জমে থাকা বরফের স্তূপ এবং বিপর্যস্ত জনজীবন। এরমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে আসন্ন সপ্তাহান্তে একটি শক্তিশালী শীতকালীন ঝড় আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। এই ঝড়টি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে ‘বম্ব সাইক্লোন’-এ রূপ নিতে পারে—যা শীতকালের এক ধরনের অত্যন্ত শক্তিশালী ঝড়, যার বৈশিষ্ট্য হারিকেনের মতো হলেও এটি ঠান্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে যুক্ত।
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার ভোরে ক্যারোলাইনা উপকূলের কাছে ঝড়টির সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর এটি খুব দ্রুত শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। তবে ঝড়টির সুনির্দিষ্ট গতিপথ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। আর এই গতিপথই ঠিক করে দেবে কোথায় ভারী তুষারপাত হবে, কোথায় ঝোড়ো হাওয়া বইবে, আর কোথায় প্রভাব তুলনামূলক কম থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝড়ের কেন্দ্র যদি মাত্র ১০০ থেকে ২০০ মাইল পূর্ব বা পশ্চিমে সরে যায়, তাহলে নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি বা বোস্টনের মতো বড় শহরগুলোতে ব্যাপক তুষারঝড় দেখা দিতে পারে, অথবা পুরোপুরি তুষারপাত এড়িয়ে শুধু ঠান্ডা ও বাতাসেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে পরিস্থিতি।
বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা এবং দক্ষিণ ভার্জিনিয়ায় ভারী তুষারপাত ও শক্তিশালী বাতাসের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এসব এলাকায় শনিবার থেকেই তুষারঝড় শুরু হতে পারে। আবহাওয়াবিদদের ভাষায়, এই অঞ্চলগুলোতে উল্লেখযোগ্য তুষারপাত প্রায় নিশ্চিত, ঝড় যেদিকেই যাক না কেন। নিউ ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্ব অংশেও বাতাসে উড়ে আসা তুষারের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। তবে মধ্য ও উত্তর-পূর্ব উপকূলের অন্যান্য অংশে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
আবহাওয়া মডেলগুলো মূলত তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা বলছে—
প্রথম দৃশ্যপট (সবচেয়ে সম্ভাব্য): ঝড়টি উপকূল বরাবর চলবে, তবে অনেকটাই সমুদ্রের দিকে থাকবে। এতে ক্যারোলাইনা ও দক্ষিণ ভার্জিনিয়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মধ্য আটলান্টিক ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বড় শহরগুলো বড় ধরনের তুষারপাত থেকে রক্ষা পেতে পারে। তবে উপকূলীয় এলাকায় প্রবল বাতাস, উপকূল ক্ষয় ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা থাকবে।
দ্বিতীয় দৃশ্যপট (কম সম্ভাব্য কিন্তু গুরুতর): ঝড়টি উপকূলের খুব কাছ দিয়ে অগ্রসর হলে ক্যারোলাইনা থেকে শুরু করে ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক ও বোস্টন পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ব্যাপক তুষারপাত ও ঝড়ো হাওয়া দেখা দিতে পারে। এতে ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।
তৃতীয় দৃশ্যপট (সবচেয়ে কম সম্ভাব্য): ঝড়টি সমুদ্রের দিকে সরে গিয়ে মূল ভূখণ্ডকে প্রায় অক্ষত রেখে চলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বড় কোনো তুষারঝড় হবে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঝড়টি আগের শীতকালীন ঝড়গুলোর চেয়ে ভিন্ন হবে। আগের ঝড়ে বরফ ও বৃষ্টি বেশি ছিল, বাতাস তুলনামূলক কম। কিন্তু এবার বাতাস হবে অনেক বেশি শক্তিশালী। এমনকি যেখানে তুষারপাত নাও হতে পারে, সেখানেও ঘণ্টায় ৪০ মাইল পর্যন্ত দমকা হাওয়া বইতে পারে, যা তীব্র শীত অনুভূতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে। এটি হবে একটি “ক্লাসিক নরইস্টার”—যে ধরনের ঝড় মেক্সিকো উপসাগর বা দক্ষিণাঞ্চল থেকে শক্তি নিয়ে আটলান্টিক উপকূল বরাবর উত্তর দিকে এগোয়।
আবহাওয়াবিদদের মতে, মেক্সিকো উপসাগর ও আটলান্টিক গালফ স্ট্রিমের উষ্ণ পানি এবং উত্তর দিক থেকে নেমে আসা তীব্র আর্কটিক ঠান্ডা বাতাস একসঙ্গে মিশে এই ঝড়কে দ্রুত শক্তিশালী করছে। এর ফলে ঝড়ের কেন্দ্রীয় বায়ুচাপ দ্রুত কমে গিয়ে এটি ‘বম্বোজেনেসিস’-এ রূপ নিতে পারে—যা বম্ব সাইক্লোনের মূল বৈশিষ্ট্য।
এই অবস্থায় ঝড়টি মাঝারি শক্তির হারিকেনের মতো বাতাস সৃষ্টি করতে পারে, সঙ্গে ভারী তুষারপাত ও ভয়াবহ তুষারস্তূপ তৈরি হতে পারে।
এই ঝড়ের প্রভাব শুধু উত্তর-পূর্বাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শীতল আর্কটিক বাতাস ফ্লোরিডার গভীর দক্ষিণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অরল্যান্ডোতে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নামার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি মায়ামি ও কি ওয়েস্টেও রেকর্ড-নিকটবর্তী শীত অনুভূত হতে পারে। এই তীব্র ঠান্ডায় ফ্লোরিডার সাইট্রাস ফল ও স্ট্রবেরি চাষে ক্ষতির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ব উপকূল এখন এক ধরনের আবহাওয়াগত ধাঁচে আটকে গেছে—যেখানে একের পর এক শীতল ঝড়, তুষারপাত ও তীব্র ঠান্ডা ফিরে ফিরে আসছে। তাই ক্যারোলাইনা থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রতি পরামর্শ, নিয়মিত সর্বশেষ আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুসরণ করা এবং সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন