https://www.prothomalony.com/
16078
north-america
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ ০২:০৮
মিনেসোটায় ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা ও ক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ঐক্য ও শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। আইসিইউ নার্স অ্যালেক্স প্রেটি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনার পর শহরজুড়ে প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে।
মার্কিন রাজনীতিতে ফার্স্ট লেডিদের সাধারণত এমন ভূমিকায় দেখা যায় না। মেলানিয়া ট্রাম্পও দীর্ঘদিন রাজনীতির কোলাহল ও বিতর্কের বাইরে অবস্থান করছিলেন। বিভক্তির বদলে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তপ্ত রাজনৈতিক বাস্তবতায় শান্তি আনার চেষ্টা করছেন—যা অনেক মহলে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২৭ জানুয়ারি, মঙ্গলবার ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, তিনি বিভক্তির পরিবর্তে ঐক্য দেখতে চান। তাঁর ভাষায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও মিনিয়াপোলিসের মেয়রের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সবাই মিলে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিবাদ একটি অধিকার হলেও তা যেন কোনোভাবেই সহিংসতায় রূপ না নেয়।
ফার্স্ট লেডি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, তিনি দাঙ্গা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে তা শান্তিপূর্ণভাবে করার আহ্বান জানান তিনি। অভিবাসন প্রয়োগকারী বাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রতিবাদে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, সেটি সংযত ও সহনশীলভাবে প্রকাশ করার ওপর গুরুত্ব দেন মেলানিয়া ট্রাম্প।
অ্যালেক্স প্রেটির মৃত্যুর পর মিনেসোটায় বর্ডার প্যাট্রোল ও ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)–এর সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশাসনের বক্তব্যেও এক ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্য যে, এই ঘটনা ঘটে মিনিয়াপোলিসে আরেকটি গুলিবিদ্ধ মৃত্যুর মাত্র দুই সপ্তাহ পর, যেখানে এক আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে রেনি গুড নিহত হন।
প্রেটির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার একাধিক ভিডিও সামনে আসার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, এক পর্যায়ে বর্ডার প্যাট্রোলের এক এজেন্ট পেছন থেকে গুলি চালান। এর আগে প্রেটি একজন নারীকে সাহায্য করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন, যাঁর ওপর পিপার স্প্রে ব্যবহার করা হচ্ছিল। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, গুলির আগে প্রেটির কাছ থেকে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্য—যা ঘটনাটিকে ঘিরে প্রশ্ন ও বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে।
তবে ঘটনার পর প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের বক্তব্য ছিল কঠোর। স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের সচিব ক্রিস্টি নোম দাবি করেন, প্রেটি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ফেডারেল বাহিনীর ওপর আক্রমণ করেছিলেন এবং ঘটনাটিকে ‘ঘরোয়া সন্ত্রাসবাদ’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। হোয়াইট হাউসের উপপ্রধান স্টিফেন মিলারও প্রেটিকে সম্ভাব্য হামলাকারী হিসেবে বর্ণনা করেন।
এর বিপরীতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ ধরনের ভাষায় প্রেটিকে বর্ণনা করেছেন—এমন কোনো মন্তব্য তিনি শোনেননি। বরং ট্রাম্প নিজেই গভর্নর টিম ওয়াল্জ এবং মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রের সঙ্গে ‘খুব ভালো’ ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
এই উত্তেজনার মধ্যেই প্রশাসন জানিয়েছে, মঙ্গলবার মিনিয়াপোলিস থেকে কিছু ফেডারেল এজেন্ট এবং বর্ডার প্যাট্রোলের কমান্ডার গ্রেগ বোভিনো প্রত্যাহার করা হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি পরিস্থিতি শান্ত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তবে ফেডারেল বাহিনীর ভূমিকা ও জবাবদিহি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের বিতর্ক আপাতত থামছে না।
মিনেসোটার এই ঘটনা আবারও যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রয়োগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্তি প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক ভাষার তীব্রতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ঐক্যের আহ্বান কতটা বাস্তব রূপ পায়, তা নির্ভর করবে আগামী দিনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও চলমান তদন্তের গতিপথের ওপর।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন