https://www.prothomalony.com/

16076

north-america

উত্তর আমেরিকা

প্রচণ্ড শীতঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র: তুষার ও বরফে স্থবির জনজীবন, প্রাণহানি অন্তত ৩০

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ ০১:৫৪

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ের তাণ্ডবে উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে দক্ষিণের বিস্তীর্ণ এলাকায় জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সোমবার রাত পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে তীব্র শীত, ভারী তুষারপাত ও বরফে ঢাকা রাস্তায় অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মানুষকে আরেকটি হিমশীতল রাত কাটাতে হয়েছে।

আর্কানসাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০ মাইল দীর্ঘ এলাকায় এক ফুটের বেশি তুষার জমে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয় এবং অসংখ্য স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, পিটসবার্গের উত্তরের এলাকায় কোথাও কোথাও ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষার পড়েছে এবং সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে মাইনাস ২৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে।

দেশের দুই-তৃতীয়াংশ অঞ্চলে জেঁকে বসা এই শীত দ্রুত কাটছে না। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, নতুন করে আর্কটিক বাতাস ঢোকার ফলে বরফে ঢাকা এলাকাগুলোতে হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা বজায় থাকবে। এমনকি চলতি সপ্তাহান্তে পূর্ব উপকূলে আরেক দফা শীতঝড় আঘাত হানার আশঙ্কাও রয়েছে।

প্রাণহানির তালিকায় রয়েছে নানা মর্মান্তিক ঘটনা। ম্যাসাচুসেটস ও ওহাইওতে তুষার পরিষ্কারের গাড়ির ধাক্কায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আর্কানসাস ও টেক্সাসে স্লেজিং দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে কিশোরদের। কানসাসে একটি বারের সামনে শেষবার দেখা যাওয়ার পর এক নারীর মরদেহ তুষারের নিচে উদ্ধার করা হয়। নিউইয়র্ক সিটিতে প্রবল শীতের মধ্যে বাইরে আটজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সিটি কর্তৃপক্ষ।

ঝড়ের প্রভাবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সারা দেশে ৫ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিলেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণাঞ্চল, যেখানে জমাট বরফে গাছের ডাল ও বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়ে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। মিসিসিপিতে ১৯৯৪ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ বরফঝড়ের পর জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে কম্বল, পানি ও জেনারেটর পাঠাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। গভর্নর টেট রিভস জানিয়েছেন, অন্তত ১৪টি বাড়ি, একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ২০টি সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অক্সফোর্ড শহরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় শিক্ষার্থীরা ঘরে আটকে থাকায় পুরো সপ্তাহের জন্য ক্লাস বাতিল করেছে ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপি। শহরের মেয়র জানান, এত গাছ ও বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়েছে যে মনে হচ্ছে প্রতিটি রাস্তায় যেন টর্নেডো বয়ে গেছে।

বিমান চলাচলেও বড় ধাক্কা লেগেছে। সোমবার সারা দেশে ১২ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে। আগের দিন রোববার প্রায় ৪৫ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়, যা মহামারির পর সর্বোচ্চ। ডালাস–ফোর্ট ওর্থসহ বড় বিমানবন্দরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশের বাইরেও এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে।

নিউইয়র্ক সিটিতে বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভারী তুষারপাত দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় ৮ থেকে ১৫ ইঞ্চি তুষার জমেছে। স্কুল বন্ধ থাকলেও প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষার্থীকে অনলাইনে ক্লাসে যুক্ত হতে বলা হয়।

ঝড়ের পরবর্তী ধাপে তীব্র শীত আরও বাড়ছে। মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বহু এলাকায় সোমবার ভোরে তাপমাত্রা নেমে যায় শূন্যের নিচে। আবহাওয়া দপ্তর বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে মাইনাস ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি ফারেনহাইটে, যা ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন।

এদিকে টেনেসির ন্যাশভিলে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরলেও সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার গ্রাহক অন্ধকারে ছিলেন। বিদ্যুৎহীন ঠান্ডা ঘর ছেড়ে অনেকে হোটেলে আশ্রয় নিয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুর কারণ এখনো তদন্তাধীন। তবে এই শীতঝড় ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে মানবিক সংকট তৈরি করেছে, যার প্রভাব আরও কিছুদিন অনুভূত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন