https://www.prothomalony.com/
16069
north-america
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী পরিবারগুলোর ওপর নতুন নিয়ম আরোপের পরিকল্পনা করছে। এতে ভবিষ্যতের অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। = নতুন প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী অবস্থানের জন্য আবেদনকারীরা যদি ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচিত হন তবে তারা আবেদন করতে পারবেন না। পাবলিক চার্জ শব্দটি মার্কিন অভিবাসন আইনে শতাধিক বছর ধরে ব্যবহৃত হলেও মূলত বোঝায় এমন ব্যক্তিকে ‘যে সরকারের উপর নির্ভরশীল’।
নতুন নিয়মের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা সরিয়ে দেওয়া। এর ফলে অভিবাসী কর্মকর্তাদের হাতে ব্যাপক ক্ষমতা থাকবে। তে করে কোন সরকারি সেবা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে ক্ষতি হতে পারে তা পরিবারগুলোকে জানা সম্ভব হবে না। এই পরিস্থিতিতে, হেড স্টার্ট প্রোগ্রাম, বিনামূল্যে স্কুল লাঞ্চ, কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের সেবা বা অন্যান্য সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলেও গ্রিন কার্ড প্রার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই নিয়মের ফলে অভিবাসী পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য সামাজিক সহায়তা থেকে দূরে থাকবেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক শিশুদের সুবিধা গ্রহণও প্রভাবিত হতে পারে। ফলে, অভিবাসী পরিবারের সদস্যরা প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে অভাব ও অসুবিধার মুখোমুখি হতে পারেন।
জানা গেছে, ১৮৮২ সাল থেকে মার্কিন আইন সরকারের ওপর নির্ভরশীল এমন ব্যক্তিদের অভিবাসন সীমিত করে আসছে। ১৯৯৯ সালে ক্লিনটন প্রশাসন পাবলিক চার্জের সংজ্ঞা নির্দিষ্ট করে। যা মূলত সরকারের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে এই সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়। যাতে অধিক সরকারি সুবিধা গ্রহণও গণ্য হয়। ২০২১ সালে বাইডেন প্রশাসন এই সংজ্ঞা পুনঃপ্রবর্তন করলেও, ট্রাম্প প্রশাসন তা বাতিলের চেষ্টা করছে।
নতুন নিয়মের ফলে অভিবাসী পরিবারগুলো যে কোনো সরকারি সুবিধা গ্রহণে দ্বিধা অনুভব করতে পারে। এটি তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং স্থায়ী বাসস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কর্মকর্তাদের ক্ষমতা অনুযায়ী অভিবাসন সিদ্ধান্তের বৈষম্য ও অনিশ্চয়তাও বৃদ্ধি পাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ভবিষ্যতের সুযোগ-সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত হলে অভিবাসী পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ব্যাহত হবে। অনেকে মনে করছেন, প্রশাসন হয়তো সচেতনভাবেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে, যাতে পরিবারগুলো সরকারি সুবিধা গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত থাকে।
এই প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে অভিবাসী পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা সব দিকেই প্রভাব পড়বে এবং তাদের ভবিষ্যতের অভিবাসন পরিকল্পনাকে আরও জটিল করে তুলবে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন