https://www.prothomalony.com/
16029
north-america
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারী ২০২৬ ০৭:৩৭
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করা অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে উৎসাহিত করতে বড় ধরনের আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। সংস্থাটি জানিয়েছে, যারা স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন তাদের দেওয়া ‘এক্সিট বোনাস’ বা স্টাইপেন্ডের পরিমাণ এক হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০০ ডলার করা হয়েছে।
ডিএইচএসের মতে, যারা কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) হোম অ্যাপ ব্যবহার করে স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়বেন, তারা এই সুবিধা পাবেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করলে শুধু অর্থ সহায়তাই নয়, বরং নিজ দেশে বা আইনগতভাবে থাকার সুযোগ আছে এমন অন্য দেশে ফিরতে বিনামূল্যে ভ্রমণ সুবিধাও দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র না ছাড়ার কারণে যেসব ক্ষেত্রে জরিমানা বা শাস্তির বিষয় থাকে, সেসব ক্ষেত্রেও জরিমানা মওকুফ সুবিধা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ডিএইচএসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই অর্থ সহায়তার উদ্দেশ্য হলো স্বেচ্ছায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া অভিবাসীদের জন্য যাতায়াত ও প্রাথমিক পুনর্বাসনের খরচ সহজ করা। সংস্থাটি দাবি করেছে, এতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আর্থিক ব্যয় কমবে এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াও দ্রুততর হবে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ২২ লাখ মানুষ স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গেছেন, এবং গত এক বছরে প্রায় এক লাখ ব্যক্তি সিবিপি হোম অ্যাপ ব্যবহার করে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিদের এই সুযোগ কাজে লাগানো উচিত, কারণ তারা স্বেচ্ছায় না গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করবে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সুযোগ হারাতে পারে।
ডিএইচএস জানিয়েছে, এই প্রণোদনা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বর্তমান প্রশাসনের এক বছর পূর্তির অংশ হিসেবে। তবে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই অফার দীর্ঘমেয়াদি নাও হতে পারে, অর্থাৎ যেকোনো সময় এটি বাতিল বা পরিবর্তন করা হতে পারে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, একজন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার, আটক (ডিটেইন) এবং দেশে ফেরত পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ডিএইচএসের হিসাব অনুযায়ী আগে এই ব্যয় ছিল ১৭ হাজার ১২১ ডলার, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ২৪৫ ডলার। ফলে স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন কর্মসূচিকে তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল ও কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বেচ্ছায় ফেরত যাওয়ার কর্মসূচিতে সরকারের সঙ্গে সরকারিভাবে দীর্ঘ আলোচনা বা জটিল কূটনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজন পড়ে না। অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে দেরি করে বা নানা কারণে তা কঠিন হয়ে ওঠে। স্বেচ্ছায় ফেরত গেলে এসব জটিলতা অনেকটাই কমে যায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে সাম্প্রতিক সময়ে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের তৎপরতা বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো, মিনিয়াপোলিসসহ কয়েকটি শহরে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর অভিযান ও ধরপাকড়ের দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে। ফলে অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন