https://www.prothomalony.com/
15935
north-america
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ০৮:১৫
চলতি বছরের প্রথম ১০ দিনে যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) হেফাজতে চারজন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ নিহত ব্যক্তি হলেন হন্ডুরাসের ৬৮ বছর বয়সী অনথিভুক্ত অভিবাসী লুইস বেলত্রান ইয়ানেজ-ক্রুজ। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোর স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আইস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ৪ জানুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালেক্সিকোতে অবস্থিত ইম্পেরিয়াল রিজিওনাল ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে আটক থাকা ইয়ানেজ-ক্রুজ বুকে ব্যথার কথা জানান। এরপর তাকে আটককেন্দ্রের মেডিকেল ইউনিটে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে এল সেন্ট্রো রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ইন্ডিও শহরের জন এফ. কেনেডি মেমোরিয়াল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই হৃদ্রোগজনিত জটিলতায় তার মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে আরও তিনজন অভিবাসীর মৃত্যু হয় আইস হেফাজতে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে কিউবা ও কম্বোডিয়ার নাগরিকও রয়েছেন। মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদ্রোগ, মাদকাসক্তিজনিত জটিলতা ও শারীরিক অসুস্থতার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আইসের অভিযানে আটক ব্যক্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি হিসাবে, জানুয়ারির শুরুতে আইসিই হেফাজতে থাকা অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৬৯ হাজারে পৌঁছেছে।
মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসী অধিকারকর্মীরা এসব মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, আটককেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নেই এবং গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হচ্ছে। যা প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অনেক সংগঠন আইসের আটককেন্দ্র বন্ধেরও দাবি জানিয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও আইস কর্তৃপক্ষের দাবি, আটক অভিবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয় এবং প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে, মিনেসোটায় অভিবাসন অভিযানের সময় এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কড়াকড়ি, আটককেন্দ্রের পরিস্থিতি এবং মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন