https://www.prothomalony.com/

15864

north-america

উত্তর আমেরিকা

টিকাদান কর্মসূচিতে পরিবর্তন: ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নির্দেশিকা

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারী ২০২৬ ১২:০৭

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে এক আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে গৃহীত এই নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিশুদের জন্য সার্বজনীন বা সবার জন্য বাধ্যতামূলক টিকার তালিকা ১৭টি থেকে কমিয়ে মাত্র ১১টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। ডেনমার্কের টিকাদান মডেলের আদলে তৈরি এই নতুন তালিকায় হাম, পোলিও, ধনুষ্টঙ্কার এবং জলবসন্তসহ ১১টি রোগের টিকা বহাল রাখা হলেও বাদ দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভ্যাকসিন। এ নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে শঙ্কা ও মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকার অধীনে সুপারিশকৃত টিকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, অ্যাসেলুলার পার্টুসিস (হুপিং কাশি), হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি (এইচআইবি), নিউমোকোকাল কনজুগেট, পোলিও, হাম, গালগন্ড (মাম্পস), রুবেলা, হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) এবং ভ্যারিসেলা (জলবসন্ত)। কিছু টিকা যেমন: হাম, মাম্পস ও রুবেলার জন্য ব্যবহৃত এমএমআর ইনজেকশন একসঙ্গে একাধিক রোগ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

নতুন নির্দেশিকার দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে বলা হয়েছে, আরএসভি, হেপাটাইটিস এ, হেপাটাইটিস বি, ডেঙ্গু, মেনিনজোকোকাল এসিডব্লিউওয়াই এবং মেনিনজোকোকাল বি-এর টিকাগুলো কেবল উচ্চঝুঁকিপূর্ণ তালিকাভুক্ত শিশুদের দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হচ্ছে।

তৃতীয় ক্যাটাগরিতে সিডিসি জানিয়েছে, এখন থেকে ইনফ্লুয়েঞ্জা, কভিড-১৯, হেপাটাইটিস এ, হেপাটাইটিস বি, আরএসভি এবং মেনিনজোকোকাল ভ্যাকসিন আর সব শিশুর জন্য নিয়মিত সুপারিশ করা হবে না। পরিবর্তে, এসব টিকা কেবল উচ্চঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে অথবা চিকিৎসক ও অভিভাবকদের পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নতুন এই নির্দেশিকার সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হলো হেপাটাইটিস বি টিকার সময়সূচিতে পরিবর্তন। গত ৩০ বছর ধরে জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই টিকা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের নেতৃত্বাধীন প্যানেল এটি শিশুর বয়স দুই মাস না হওয়া পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া কভিড-১৯, ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু), হেপাটাইটিস এ এবং মেনিনজোকোকাল ভ্যাকসিনগুলোকে আর নিয়মিত টিকাদান তালিকার অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়নি।

রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র এই পদক্ষেপকে ‘অভিভাবকদের অধিকার রক্ষা’ এবং ‘জনস্বাস্থ্যের ওপর আস্থা ফেরানোর উপায়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই পরিবর্তনকে একটি ‘যুক্তিযুক্ত সময়সূচি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, অভিভাবকরা চাইলে এখনো সব টিকা নিতে পারবেন এবং সেগুলো বীমার আওতাভুক্ত থাকবে।

তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে মার্কিন চিকিৎসা সমাজ। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স নতুন এই নির্দেশিকাকে ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং তারা তাদের পূর্ববর্তী সুপারিশ অনুযায়ী চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় হামের প্রাদুর্ভাব চলাকালে এমন সিদ্ধান্ত হিতে বিপরীত হতে পারে।

ডা. মাইকেল ওস্টারহোম ও ডা. রোনাল্ড নাহাসের মতো প্রখ্যাত চিকিৎসকদের মতে, বৈজ্ঞানিক স্বচ্ছতা ছাড়াই ফ্লু ও হেপাটাইটিসের মতো টিকার সুপারিশ বাতিল করা এক ‘বেপরোয়া পদক্ষেপ’, যা শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি এবং প্রতিরোধযোগ্য অকাল মৃত্যুর সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।

সিবিএস নিউজের প্রধান চিকিৎসা সংবাদদাতা ডা. জন লাপুক বলেছেন, এই নতুন ও জটিল পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে অভিভাবকদের দক্ষ চিকিৎসকের সঙ্গে নিবিড় আলোচনার কোনো বিকল্প নেই।

সব মিলিয়ে, সিডিসির এই পদক্ষেপ মার্কিন জনস্বাস্থ্য নীতিতে এক নজিরবিহীন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন