https://www.prothomalony.com/

15863

north-america

উত্তর আমেরিকা

মার্কিন ভিসা বন্ডের তালিকায় বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারী ২০২৬ ১২:০৫

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন তালিকাভুক্ত দেশগুলোর (কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া) জন্য এই বন্ডের শর্ত ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে গত বছরের আগস্টে প্রথমে ছয়টি এবং পরে আরও সাতটি দেশকে ভিসা বন্ডের আওতায় আনা হয়। সর্বশেষ ধাপে বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশ যুক্ত হওয়ায় তালিকাভুক্ত দেশের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৮টিতে। তালিকার বেশিরভাগ দেশ আফ্রিকার হলেও এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশও রয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশের নাগরিকরা যদি বি-১/বি-২ (ভ্রমণ ও ব্যবসা) ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হন, তবে তাঁদের ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হবে। বন্ডের নির্দিষ্ট অঙ্ক ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করা হবে।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বন্ড জমা দিলেই যে ভিসা পাওয়া নিশ্চিত হবে—এমন নয়। তবে যদি আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয় বা ভিসা পাওয়া ব্যক্তি ভিসার সব শর্ত যথাযথভাবে মেনে চলেন, তাহলে বন্ডের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।

এ ছাড়া নতুন নিয়মে সব আবেদনকারীকে সশরীর সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হবে। পাশাপাশি গত কয়েক বছরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিহাস, নিজের ও পরিবারের সদস্যদের পূর্ববর্তী ভ্রমণ এবং বসবাসসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে।

বন্ড জমার ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের আই-৩৫২ ফরম পূরণ করতে হবে এবং মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Pay.gov–এর মাধ্যমে বন্ডের শর্তে সম্মতি জানাতে হবে।

পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও বহির্গমনের জন্য নির্ধারিত কিছু বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (জেএফকে), বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (বিওএস) এবং ওয়াশিংটন ডুলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (আইএডি)।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে অবস্থান রোধ করতেই এই বন্ড ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। তবে নতুন এই নিয়মে অনেক দেশের নাগরিকের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন